আজকাল গাঁট বাত বা বাত রোগ অল্প বয়সেই মানুষকে কাবু করে ফেলছে। শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তারপর গাঁটে গাঁটে ব্যথা শুরু হয়, যাকে গাঁট বাত বলা হয়। এই রোগে গাঁটে ব্যথা, ফোলা, শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটাচলা, ওঠা-বসা করতে অসুবিধা হয়। এই গাঁটগুলির ভেতরের আস্তরণ বা কার্টিলেজ ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে, আর এভাবেই গাঁট বাত শরীরে বাসা বাঁধে। এইমসের (AIIMS) নতুন দিল্লির অর্থোপেডিক বিভাগের অধ্যাপক ডঃ ভাবুক গর্গ গাঁট বাত বাড়ার কারণ এবং এটি থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি ঘরোয়া টোটকা জানিয়েছেন, যদিও এটি পালন করা কিছুটা কঠিন।

কেন হয়?
ডাক্তারের মতে, আজকের পরিবর্তিত জীবনযাত্রাই গাঁট বাতের প্রধান কারণ। সুষম খাবার এবং প্রতিদিনের শারীরিক কার্যকলাপ আপনার পেশীগুলির শক্তির উপর নির্ভর করে। এখন খাবারও খাঁটি নয় এবং মানুষ ব্যায়ামও করে না। বরং দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করার ফলে শরীরের অঙ্গবিন্যাস (posture) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোদে না যাওয়ার কারণে ভিটামিন ডি-এর অভাব হচ্ছে এবং এই কারণেই আজকাল ২৫-৩০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরাও আর্থ্রাইটিসের শিকার হচ্ছেন।
কী সেই ঘরোয়া ফর্মুলা? ডঃ ভাবুকের মতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেয়ারে বসে থাকা ভুল। বরং সকলেরই একটু হাঁটাচলা করা বা মাঝে মাঝে উঠে বসা উচিত। এতে শরীর এবং পেশীগুলি সক্রিয় থাকে। যদি আপনার গাঁট বাতের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে হাঁটা শুরু করুন। জাপানি ওয়াকিং অ্যাপের মাধ্যমে ১০ হাজার স্টেপস হাঁটার ট্রেন্ড শুরু হয়েছিল, কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন ৭০০০ স্টেপসও হেঁটে নেন, তবে গাঁটের ব্যথা বা গাঁট বাত থেকে বাঁচতে পারেন। হাঁটার ফলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং গাঁটে ব্যথা হয় না। যদি আপনার সমস্যা বেশি বেড়ে যায়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।