...
...
Next Story

শীতকালে কেন ঠোঁট ফাটে? শুষ্ক ঠোঁট থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া প্রতিকার কী

শীতকালে একটি অতি পরিচিত সমস্যা। ঠোঁট ফেটে যাওয়া কেবল অস্বস্তিকর নয়, অনেক সময় এটি রক্তপাত এবং ব্যথার কারণও হতে পারে।

Published on: Dec 16, 2025, 09:07:35 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

শীতকাল মানেই শুষ্কতা। আর এই শুষ্ক আবহাওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে, বিশেষ করে ঠোঁটে। ঠোঁট ফাটা (Chapped Lips), যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় কাইলাইটিস (Cheilitis) বলা হয়, শীতকালে একটি অতি পরিচিত সমস্যা। ঠোঁট ফেটে যাওয়া কেবল অস্বস্তিকর নয়, অনেক সময় এটি রক্তপাত এবং ব্যথার কারণও হতে পারে।

শীতকালে কেন ঠোঁট ফাটে? শুষ্ক ঠোঁট থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া প্রতিকার কী
শীতকালে কেন ঠোঁট ফাটে? শুষ্ক ঠোঁট থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ঘরোয়া প্রতিকার কী

শীতকালে ঠোঁট ফাটার বৈজ্ঞানিক কারণ এবং এর থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার জেনে নিন।

১. শীতকালে ঠোঁট ফাটার মূল কারণ কী?

ঠোঁটের ত্বক শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং পাতলা। এর প্রধান কারণগুলি হলো:

ক. লালা গ্রন্থির অভাব (Lack of Oil Glands)

  • শরীরের অন্যান্য ত্বকের মতো ঠোঁটে কোনো তেল বা সিবাসিয়াস গ্রন্থি (Sebaceous Glands) নেই। এই গ্রন্থিগুলি প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম (Sebum) উৎপাদন করে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখে।
  • যেহেতু ঠোঁটে এই তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থি অনুপস্থিত, তাই এটি বাইরের শুষ্কতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না এবং দ্রুত আর্দ্রতা হারায়।

খ. কম আর্দ্রতা এবং ঠান্ডা বাতাস

  • শীতকালে বাতাস সাধারণত শুষ্ক থাকে এবং আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যায়। এই শুষ্ক বাতাস ঠোঁটের ত্বক থেকে দ্রুত আর্দ্রতা শুষে নেয়।
  • এছাড়াও, ঠান্ডা বাতাস রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে দেয়, যা ঠোঁটে রক্ত ​​প্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং ঠোঁটকে আরও শুষ্ক করে তোলে।

ঠোঁট ফাটা দূর করতে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিম্নলিখিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলি অত্যন্ত কার্যকর:

ক. চিনি দিয়ে এক্সফোলিয়েশন (Sugar Exfoliation)

  • পদ্ধতি: ১ চা চামচ চিনি, ১/২ চা চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল (Olive Oil) মিশিয়ে একটি মৃদু স্ক্রাব তৈরি করুন।
  • ব্যবহার: এই মিশ্রণটি আলতো করে ঠোঁটে ঘষুন। এতে মৃত কোষগুলি উঠে যাবে। ৫ মিনিট পর হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • উপকারিতা: নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন নতুন কোষ তৈরি হতে সাহায্য করে এবং ঠোঁটের শুষ্ক আস্তরণ দূর করে।

খ. প্রাকৃতিক আর্দ্রতা সরবরাহ (Natural Moisturizers)

  • নারকেল তেল: নারকেল তেল হলো একটি চমৎকার ময়েশ্চারাইজার এবং এতে প্রদাহ-বিরোধী গুণাবলী রয়েছে। দিনে কয়েকবার এবং বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে ঠোঁটে নারকেল তেল লাগান।
  • ঘি বা মাখন: দেশি ঘি বা মাখন ঠোঁটের গভীরতম স্তরে আর্দ্রতা সরবরাহ করে।

গ. মধুর ব্যবহার

  • মধু একটি প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট (Humectant), যা বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নেয় এবং ঠোঁটে ধরে রাখে। এছাড়াও মধুর অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
  • ব্যবহার: রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য মধু ঠোঁটে লাগান।

ঘ. জল পান এবং সুরক্ষা

  • জল: ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।
  • সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা: ঠোঁট ইউভি (UV) রশ্মির কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাইরে বেরোনোর ​​সময় এসপিএফ (SPF) যুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করুন।

৩. কী করবেন

ঠোঁট ফাটা একটি সাময়িক সমস্যা, যা নিয়মিত যত্ন এবং সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধ করা যায়। ঠোঁট চাটার অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং ঠোঁটকে সব সময় আর্দ্র রাখুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON