...
...
Next Story

আক্কেল দাঁতের অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন? জানুন দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার ৫টি জাদুকরী ঘরোয়া উপায়

আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণার প্রধান কারণ হলো মাড়ির প্রদাহ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামন। মাড়ির পেশী ও টিস্যুকে শান্ত করতে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান অসামান্য ভূমিকা পালন করে।

Published on: Aug 5, 2026, 14:41:30 IST
Advertisement

আক্কেল দাঁত (Wisdom Tooth) গজানোর সময় তীব্র মারি ফোঁলা ও যন্ত্রণার মুখে পড়েননি, এমন মানুষের সংখ্যা বেশ কম। সাধারণ ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে মুখের মাড়ির একদম শেষ প্রান্তে এই দাঁতগুলো উঠতে শুরু করে। অনেক সময় চোয়ালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে আক্কেল দাঁত বাঁকা হয়ে গজাতে থাকে বা মাড়ির ভেতরে আটকে গিয়ে (Impacted Tooth) পাশের দাঁত ও স্নায়ুতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা, মাড়ি ফুলে যাওয়া, মুখ খুলতে কষ্ট হওয়া এবং এমনকি মাথাব্যথা বা কান ব্যথাও।

আক্কেল দাঁতের অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন? জানুন দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার ৫ ঘরোয়া পথ
আক্কেল দাঁতের অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন? জানুন দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার ৫ ঘরোয়া পথ

দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে বা তাত্ক্ষণিক উপশমের জন্য আমাদের বাড়িতে থাকা কিছু সাধারণ কিন্তু পরম কার্যকর উপাদানের সাহায্যে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আক্কেল দাঁতের অসহ্য যন্ত্রণা কমানোর জাদুকরী ঘরোয়া উপায় ও প্রতিকার জেনে নিন।

আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণার প্রধান কারণ হলো মাড়ির প্রদাহ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামন। মাড়ির পেশী ও টিস্যুকে শান্ত করতে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান অসামান্য ভূমিকা পালন করে।

১. ঈষদুষ্ণ নুন জলের কুলকুচি (Warm Salt Water Rinse)

আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণা প্রশমনে এবং মাড়ির ফোলা ভাব কমাতে নুন জল হলো সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য টোটকা। নুন জল একটি প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক বা এন্ট্রি-সেপ্টিক হিসেবে কাজ করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: এক গ্লাস ইষদুষ্ণ গরম জলে আধ চামচ সাধারণ নুন মিশিয়ে নিন। এই জল মুখে নিয়ে আক্কেল দাঁতের অংশে ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ড রেখে ভালোভাবে কুলকুচি করে ফেলে দিন। দিনে ৩ থেকে ৪ বার এই নুন জলের কুলি করলে মাড়ির ব্যাকটেরিয়া মরে যায় এবং ফোলা ও যন্ত্রণা দ্রুত কমতে থাকে।

২. কাঁচা লবঙ্গ ও লবঙ্গের তেল (Clove and Clove Oil)

আক্কেল দাঁতের কারণে চোয়াল ফুলে গেলে বা মাথা-কান চেপে ব্যথা এলে বরফের সেঁক চমৎকার কাজ করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: কয়েকটি বরফের টুকরো পরিষ্কার তোয়ালে বা সুতির কাপড়ে মুড়ে চোয়ালের বাইরে যে পাশে ব্যথা হচ্ছে, সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। বরফের শীতলতা রক্তনালীকে সংকুচিত করে মাড়ির ফোলা ভাব ও অসাড়তা এনে যন্ত্রণা কমায়।

৪. তাজা রসুন ও আদার পেস্ট

রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ (Allicin) উপাদান অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাবলীতে ভরপুর, যা দাঁতের ভেতরের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: এক কোয়া রসুন সামান্য নুন দিয়ে ছেঁচে নিয়ে আক্কেল দাঁতের ওপর লাগিয়ে রাখুন। চাইলে রসুনের সাথে এক টুকরো কাঁচা আদা থেঁতো করে মাড়িতে লাগাতে পারেন। প্রথম দিকে সামান্য ঝালাভাব হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যে দাঁতের অস্বস্তি কেটে যাবে।

৫. টি ব্যাগ বা পেপারমিন্ট টি (Peppermint Tea Bag)

পেপারমিন্ট বা পুদিনা পাতায় থাকা মেন্থল দাঁতের মাড়ির স্নায়ুকে শান্ত রাখে। তা ছাড়া চায়ে থাকা 'ট্যানিন' মাড়ির ফোলা কমাতে সাহায্য করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: একটি ব্যবহৃত পেপারমিন্ট বা গ্রীন টি ব্যাগ কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর সেই ঠাণ্ডা টি ব্যাগটি আক্কেল দাঁতের ফোলা অংশের ওপর কিছুক্ষণ চেপে রাখুন। এটি মুহূর্তে মাড়ির সুথিং অনুভূতি এনে দেয়।

কখন অনতিবিলম্বে ডেন্টিস্ট বা দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাবেন?

ঘরোয়া টোটকাগুলো সাময়িক স্বস্তি বা ব্যথা উপশমে সহায়তা করে। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে ফেলে না রেখে অভিজ্ঞ ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া আবশ্যক:

  • মুখ খুলতে বা খাবার গিলতে অতিরিক্ত কষ্ট হলে।
  • দাঁতের যন্ত্রণা থেকে প্রচণ্ড জ্বর বা গলা ফুলে উঠলে।
  • মাড়ি থেকে অনবরত পুঁজ বা রক্ত বের হলে।
  • ব্যথা ৩-৪ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং মুখের ভেতরে দুর্গন্ধে ভরে উঠলে।

আক্কেল দাঁতের যন্ত্রণায় আতঙ্কিত না হয়ে এই ঘরোয়া প্রাথমিক চিকিৎসাগুলো গ্রহণ করলে খুব দ্রুত স্বস্তি মেলে। তবে বাঁকা বা জটিল আক্কেল দাঁতের ক্ষেত্রে এক্স-রে (X-Ray) করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনে দাঁতটি তুলে ফেলাই দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON