...
...
Next Story

রাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে কোন অঙ্গের উপর? কীসের ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি

রাগ কেবল মানসিক শান্তিই নষ্ট করে না, বরং শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে।

Published on: Nov 27, 2025 10:29 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

রাগ মানব মনের একটি স্বাভাবিক আবেগ হলেও, অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী রাগ (Chronic Anger) শরীরের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। রাগ কেবল মানসিক শান্তিই নষ্ট করে না, বরং শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, রাগের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় আমাদের হৃদযন্ত্র বা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম (Cardiovascular System)।

১. সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ: হৃদযন্ত্র

রাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে কোন অঙ্গের উপর? কীসের ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি
রাগ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে কোন অঙ্গের উপর? কীসের ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি

রাগ সরাসরি হার্ট এবং রক্তনালীর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াটি "ফাইট অর ফ্লাইট" (Fight or Flight) প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হয়।

  • স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ: রাগ হলেই শরীর থেকে দ্রুত অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) এবং কর্টিসল (Cortisol)-এর মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে।
  • হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি: এই হরমোনগুলো হার্ট রেট বা হৃদস্পন্দন দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
  • রক্তচাপ বৃদ্ধি: রক্তনালীগুলি সংকুচিত হয়, যার ফলে রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যায়।
  • রক্ত জমাট বাঁধা: অতিরিক্ত রাগের ফলে রক্তে প্লাটিলেটগুলি দ্রুত জমাট বাঁধতে শুরু করে। এটি হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি: যারা প্রায়শই রাগান্বিত হন, তাদের হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), করোনারি আর্টারি ডিজিজ এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন (হার্ট অ্যাটাক) হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
  • গবেষণায় দেখা গেছে: তীব্র রাগের পর দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে যায়।

২. মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব

রাগ হজম প্রক্রিয়াকেও ব্যাহত করে।

  • হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত: রাগের সময় রক্ত হার্ট ও পেশীর দিকে প্রবাহিত হয় বলে হজমতন্ত্রে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। এটি পেপটিক আলসার, অ্যাসিডিটি বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)-এর মতো হজমের সমস্যা বাড়ায়।
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বলতা: কর্টিসলের উচ্চ মাত্রা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (Immune System) দুর্বল করে দেয়। এর ফলে ব্যক্তি সহজেই সর্দি, ফ্লু বা অন্যান্য সংক্রমণের শিকার হতে পারেন।

৪. প্রচলিত বিশ্বাস: লিভার

প্রাচীন আয়ুর্বেদ এবং চাইনিজ মেডিসিনের মতে, রাগ বা ক্রোধের সঙ্গে লিভারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এই বিশ্বাস অনুসারে, অতিরিক্ত রাগ লিভারের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটায় এবং পিত্ত (Bile) সঞ্চালনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান হৃদযন্ত্রের ওপরই বেশি জোর দেয়, তবে সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে লিভারের ওপর চাপ কমানো জরুরি।

সংক্ষেপে, রাগ শরীরের প্রায় সব অঙ্গকেই প্রভাবিত করে, কিন্তু জীবন-হুমকির ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র হলো সবচেয়ে দুর্বল শিকার। রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা বা স্বাস্থ্যকর উপায়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো তাই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য অপরিহার্য।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON