বাংলার ঘরে ঘরে মাছ-ভাত খাওয়ার চল বহু যুগ ধরে। বেশির ভাগ বাঙালি বাড়িতেই মাছ খাওয়া হয়। তবে সব মাছের জনপ্রিয়তা সমান নয়। অনেকেই কোনও কোনও মাছ খেতে চান না। মনে করেন, সেই সব মাছ শরীরের জন্য ভালো নয়। এই তালিকায় একেবারে প্রথমেই থাকে বোয়াল মাছ।

অনেকেই বোয়ালকে রাক্ষুসে মাছ বলে ডাকেন। বলেন, এই মাছ মৃত প্রাণী খায়। ফলে এটি নাকি শরীরের জন্য ভালো নয়। কিন্তু সত্যিই কি তাই? জেনে নেওয়া যাক, এই মাছের সম্পর্কে। এই মাছ শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটিও জেনে নেওয়া যাক।
বোয়াল হল ক্যাটফিশ গোত্রের মাছ। এর ইংরেজি নাম হেলিকপ্টার ক্যাটফিশ (Helicopter Catfish)। এই জাতীয় ক্যাটফিশের বৈশিষ্ট্যই হল, তারা জলের তলদেশের খাবার খায়। এবং এরা মাংসাশী প্রাণী। বোয়ালও এর ব্যাতিক্রম নয়। এরাও ছোট মাছ ধরে খায়। সে কথাটি ঠিকই। পাশাপাশি অন্য প্রাণী বা মৃত প্রাণীর দেহাবশেষও খায় এরা। এদের মিষ্টি জলের হাঙরও বলেন অনেকে।
কিন্তু বোয়াল মাছ কি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক? বিশেষজ্ঞ বলেন, অতিরিক্ত বোয়াল মাছ খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। অম্বল হতে পারে। গ্যাস্ট্রিক জাতীয় সমস্যা থাকলে, সেটিও বাড়তে পারে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, সেটি বিপুল পরিমাণে খেলে। মাঝে মধ্যে এই মাছ খেলে কী হয়? শরীরে কেমন প্রভাব পড়ে?
বিজ্ঞান বলছে, এই মাছ বি১২ ভিটামিনে ঠাসা। তাই এই জাতীয় মাছ খেলে শরীরের উপকারই হয়। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো হয়। রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা কমে। এটি এই মাছ খাওয়ার একটি ভালো দিক।
{{/usCountry}}বিজ্ঞান বলছে, এই মাছ বি১২ ভিটামিনে ঠাসা। তাই এই জাতীয় মাছ খেলে শরীরের উপকারই হয়। এতে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো হয়। রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যা কমে। এটি এই মাছ খাওয়ার একটি ভালো দিক।
{{/usCountry}}এছাড়াও এই মাছে ভালো মাত্রায় ওমেগা-৩ আছে। এটি চোখের জন্য উপকারী। এছাড়া পেশির গঠনের জন্য কাজে লাগে এই উপাদান। দেখা গিয়েছে, নিয়মিত এই উপাদানটি শরীরে গেলে বড় রোগের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা হল, এই মাছে থাকা প্রোটিন। এটি শরীরে প্রোটিনের চাহিদার অনেকটাই পূরণ করতে পারে। এই মাছ থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায়, তা শরীরের জন্য বেশ ভালো। তাই কোনও ভাবেই এই মাছ শরীরের ক্ষতি তো করেই না, বরং লাভই করে।
তবে চিকিৎসকরা বলেন, মাছটি কীভাবে রান্না হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে এটি শরীরে কেমন প্রভাব ফেলবে— সেই বিষয়টি। যদি বেশি পরিমাণ তেল-মশলা দিয়ে রান্না করা হয়, তাহলে তা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাছাড়া পেটের সমস্যায় ভোগা মানুষের উচিত সাবধানে এই মাছ খাওয়া।
শেষে বলে রাখা দরকার, সব খাবার সকলের শরীরে সামন প্রভাব ফেলে না। একজেনর ক্ষেত্রে যা ভালো, অন্য জনের ক্ষেত্রে তা সমস্যা সৃষ্টি করতেই পারে। তাই যে কোনও খাবার খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।