...
...
Next Story

শীতকালে সারা দিনে কতটা জল খেতেই হবে? এর চেয়ে কম খেলেই বিপদ

শীতকালেও শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখা ততটাই জরুরি, যতটা গ্রীষ্মকালে। শীতকালে সারা দিনে ঠিক কতটা জল পান করা উচিত, কোন পরিমাণের চেয়ে কম জল পান করলেই বিপদ ঘটতে পারে এবং ডিহাইড্রেশন এড়াতে করণীয় কী, জেনে নিন।

Published on: Dec 16, 2025 09:19 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

অনেকেরই ধারণা, শীতকালে ঘাম কম হয় বলে জল বা পানীয়ের চাহিদা কমে যায়। এটি একটি ভুল ধারণা, যা ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। শীতকালেও শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় রাখা (Hydration) ততটাই জরুরি, যতটা গ্রীষ্মকালে।

শীতকালে সারা দিনে কতটা জল খেতেই হবে? এর চেয়ে কম খেলেই বিপদ
শীতকালে সারা দিনে কতটা জল খেতেই হবে? এর চেয়ে কম খেলেই বিপদ

শীতকালে সারা দিনে ঠিক কতটা জল পান করা উচিত, কোন পরিমাণের চেয়ে কম জল পান করলেই বিপদ ঘটতে পারে এবং ডিহাইড্রেশন এড়াতে করণীয় কী, জেনে নিন।

১. শীতকালে জল পানের চাহিদা কেন কমে না?

শীতকালে শরীরে জল পানের অনুভূতি বা তৃষ্ণা (Thirst Sensation) কমে যায়। এর পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • কম ঘাম: যেহেতু ঘাম কম হয়, তাই অনেকে মনে করেন যে জল খাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু জল বাষ্পীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বকের মাধ্যমে শীতকালেও চলতে থাকে, যাকে 'ইনসেন্সিবল ওয়াটার লস' (Insensible Water Loss) বলা হয়।
  • ভাসোকনস্ট্রিকশন: ঠাণ্ডার কারণে শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত (Vasoconstriction) হয়ে যায়। এর ফলে শরীর প্রথমে ভুল সংকেত দেয় যে, শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল রয়েছে।

এই কারণে, শীতকালে তৃষ্ণা না পেলেও সচেতনভাবে জল পান করা জরুরি।

২. শীতকালে কতটা জল পান করা আবশ্যক?

ক. স্ট্যান্ডার্ড সুপারিশ (৮x৮ নিয়ম)

  • যদিও এটি একটি সাধারণ নির্দেশিকা, তবুও এটি একটি ভালো শুরু হতে পারে। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস (প্রায় ২ লিটার) জল পান করা প্রয়োজন।

খ. বিজ্ঞানসম্মত সুপারিশ (প্রতিদিনের প্রয়োজন)

  • পুরুষ: প্রায় ৩.৭ লিটার (বা প্রায় ১৫.৫ কাপ) তরল জাতীয় খাবার (জল, স্যুপ, ফল ইত্যাদি) প্রয়োজন।
  • নারী: প্রায় ২.৭ লিটার (বা প্রায় ১১.৫ কাপ) তরল জাতীয় খাবার প্রয়োজন।

শীতকালে শুধুমাত্র জল পান করার লক্ষ্য হওয়া উচিত একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য ২.৫ থেকে ৩ লিটার (প্রায় ১০ থেকে ১২ গ্লাস) জল বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর পানীয়।

৩. কোন পরিমাণের চেয়ে কম জল খেলেই বিপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি যদি নিয়মিতভাবে ১.৫ লিটারের (৬ গ্লাসের) কম জল পান করেন, তবে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা শুরু হতে পারে। শীতকালে এই পরিমাণটি কম মনে হলেও, ঠান্ডা আবহাওয়া এবং কম তৃষ্ণার কারণে অনেকেই এই পরিমাণের চেয়ে কম জল পান করেন।

বিপদগুলি কী কী?

ক. কোষ্ঠকাঠিন্য: জল হলো হজম প্রক্রিয়ার প্রধান উপাদান। কম জল পান করলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) তীব্র হয়।

খ. দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা: ডিহাইড্রেশন শরীরে টক্সিন (Toxins) জমাতে সাহায্য করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) দুর্বল করে দেয়।

গ. কিডনি স্টোন: শরীরে জলের অভাব হলে খনিজ পদার্থ জমে কিডনি স্টোন (Kidney Stone) হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

ঘ. শুষ্ক ত্বক ও ঠোঁট: ডিহাইড্রেশন ত্বককে আরও শুষ্ক করে তোলে, যা ঠোঁট ফাটা এবং ত্বকে চুলকানির মতো সমস্যার সৃষ্টি করে।

ঙ. মাথাব্যথা ও ক্লান্তি: মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% অংশ জল। ডিহাইড্রেশন মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে মাথাব্যথা (Headache) এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির (Fatigue) কারণ হতে পারে।

৪. শীতকালে জল পানের সহজ কৌশল

  • উষ্ণ জল পান: ঠান্ডা জলের পরিবর্তে হালকা উষ্ণ বা ফোটানো জল পান করুন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং গলাকে আরাম দেয়।
  • জল খাওয়ার রুটিন: ফোনে বা ঘড়িতে অ্যালার্ম সেট করুন। প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর এক গ্লাস জল পান করার অভ্যাস করুন।
  • জলযুক্ত খাবার: সুপ, ব্রথ, ফল (কমলা, আঙুর) এবং সবজি (শসা, টমেটো) খাদ্যতালিকায় রাখুন, যা জলীয় অংশের ঘাটতি পূরণ করবে।
  • ভেষজ চা: চিনি ছাড়া গ্রিন টি বা আদা চা পান করুন।

শীতকালে তৃষ্ণা কমে গেলেও শরীরে জলের চাহিদা একই থাকে। পর্যাপ্ত জল পান কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকের শুষ্কতা এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করার লক্ষ্য রাখুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON