...
...
Next Story

রান্নায় বেশি হলুদ পড়ে ঝোল তেঁতো হয়ে গিয়েছে? জানুন স্বাদ ফেরানোর ৭ জাদুকরী উপায়

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেকেই হতাশ হয়ে ভাবেন পুরো রান্নাটাই নষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু চিন্তা বা মন খারাপের কিছু নেই!

Published on: Aug 11, 2026, 12:19:36 IST
Advertisement

বাঙালি রান্নায় হলুদ কেবল একটি সাধারণ মসলা নয়, এটি প্রতিটি তরকারির রঙ, রূপ ও সুগন্ধের প্রধান কান্ডারি। মাছের ঝোল হোক বা মাংসের কষা—পরিমিত হলুদ না হলে যেন রান্নার পূর্ণতাই আসে না। তবে অনেক সময় ভুলবশত, অসাবধানতায় কিংবা কৌটো থেকে হঠাৎ অনেকটাই হলুদ কড়াইতে পড়ে যায়। আর রান্নায় হলুদের পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে তরকারির রঙ যেমন অতিরিক্ত গাঢ় হয়ে যায়, তেমনই হলুদের একধরণের কড়া কাঁচা গন্ধ ও তেঁতো স্বাদে পুরো রান্নাটাই খাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

Uরান্নায় বেশি হলুদ পড়ে ঝোল তেঁতো হয়ে গিয়েছে? জানুন স্বাদ ফেরানোর ৭ জাদুকরী উপায়
Uরান্নায় বেশি হলুদ পড়ে ঝোল তেঁতো হয়ে গিয়েছে? জানুন স্বাদ ফেরানোর ৭ জাদুকরী উপায়

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেকেই হতাশ হয়ে ভাবেন পুরো রান্নাটাই নষ্ট হয়ে গেল। কিন্তু চিন্তা বা মন খারাপের কিছু নেই! রান্নাঘরে থাকা কিছু সাধারণ অথচ অত্যন্ত কার্যকর উপাদানের সঠিক ব্যবহারে তরকারির কাঁচা হলুদের তীব্র গন্ধ ও তিতকুটে ভাব নিমেষে দূর করা সম্ভব। রান্নায় অতিরিক্ত হলুদ পড়ে গেলে তা সামাল দেওয়ার ৭টি জাদুকরী ঘরোয়া উপায় নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।

১. রান্নায় অতিরিক্ত হলুদ কমানোর ৭টি সহজ ও অলৌকিক টোটকা

ক) তাজা টক দইয়ের ব্যবহার (Curd or Yogurt):

অতিরিক্ত হলুদের তেঁতো ভাব ও কাঁচা গন্ধ দূর করতে টক দই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী সমাধান। তরকারির ঝোল বা গ্রেভিতে ২-৩ চামচ তাজা টক দই ভালো করে ফেটিয়ে মিশিয়ে দিন। টক দইয়ের মধ্যে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড হলুদের তীব্র কড়া ভাবকে দ্রুত প্রশমিত করে এবং গ্রেভিকে আরও সুস্বাদু ও ঘন করে তোলে।

যদি নিরামিষ তরকারি, পনির বা মলাইকারির মতো পদে বেশি হলুদ পড়ে যায়, তবে সেখানে নারকেলের দুধ বা সামান্য সাধারণ লিকুইড দুধ মিশিয়ে দিতে পারেন। দুধের ক্রিমি টেক্সচার এবং হালকা মিষ্টি ভাব অতিরিক্ত হলুদের কড়া স্বাদ ও তীব্র গন্ধকে নিমিষে শুষে নেয়।

গ) ঝোলের পরিমাণ বা অন্যান্য উপাদান বাড়ানো (Increase Quantity):

রান্নায় হলুদের অনুপাত সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাকি উপাদানের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া। ঝোল জাতীয় রান্না হলে সামান্য গরম জল মিশিয়ে দিন। আর যদি কষা বা শুকনো তরকারি হয়, তবে তাতে কিছুটা সেদ্ধ আলু, বাড়তি টমেটো কুচি বা পেঁয়াজ ভাজা মিশিয়ে দিলে হলুদের কড়া ভাব কেটে সমান হয়ে যাবে।

ঘ) লেবুর রস বা সামান্য তেঁতুলের পাল্প (Lemon Juice):

হলুদের তিতকুটে ভাব কাটানোর জন্য অম্ল বা সাইট্রিক অ্যাসিড খুব ভালো কাজ করে। রান্না নামানোর ঠিক ২ মিনিট আগে আধখানা পাতিলেবুর রস বা সামান্য তেঁতুলের ক্বাথ মিশিয়ে দিন। লেবুর অম্লতা হলুদের তীব্রতাকে প্রশমিত করে রান্নায় দারুণ রিফ্রেশিং স্বাদ এনে দেয়।

ঙ) কাঁচা সুপুরি বা আটার গোলা (Areca Nut or Dough Balls):

এটি আমাদের ঠাকুমা-দিদিমাদের আমলের এক অতি প্রাচীন ও পরীক্ষিত টোটকা। ঝোলে বেশি হলুদ পড়ে গেলে একটি পরিষ্কার আস্ত কাঁচা সুপুরি অথবা আটা-ময়দা দিয়ে ছোট ছোট ২-৩টি গোল গোল মার্বেলের মতো বল বানিয়ে ফুটন্ত ঝোলে ফেলে দিন। মিনিট পাঁচেক ফোটার পর এই সুপুরি বা আটার গোলাটি ঝোল থেকে তুলে ফেলে দিন। এগুলো ঝোলের অতিরিক্ত হলুদ ও কাঁচা গন্ধ শুষে নেয়।

চ) ভাজা মসলা বা কাসুরি মেথির ছোঁয়া (Garam Masala or Kasuri Methi):

অনেক সময় কাঁচা হলুদের গন্ধে রান্না মুখে দেওয়া যায় না। এই গন্ধ ঢাকতে রান্নার শেষে সামান্য শাহী গরম মসলা গুঁড়ো, সামান্য ঘি অথবা হাতে ডলে কিছুটা কাসুরি মেথি ছড়িয়ে দিন। শক্তিশালী ভাজা মসলার সুবাস হলুদের কড়া গন্ধকে ঢেকে দেয়।

ছ) সামান্য চিনি বা গুড়ের ভারসাম্য (Sugar or Jaggery):

হলুদের কারণে তরকারিতে যে হালকা তিতকুটে ভাব তৈরি হয়, তা দূর করতে এক চিমটে চিনি বা গুড় দারুণ কাজ করে। তবে খেয়াল রাখবেন, চিনি যেন বেশি না হয়; এটি কেবল স্বাদের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

২. ভবিষ্যতে রান্নায় হলুদের সমস্যা এড়াতে কিছু জরুরি টিপস

  • কৌটো থেকে সরাসরি না ঢালা: ফুটন্ত কড়াই বা হাঁড়ির ওপর সরাসরি মসলার কৌটো উপুড় করে হলুদ দেবেন না। বাষ্প লেগে মসলা দলা পাকিয়ে একবারে বেশি পড়ে যেতে পারে।
  • চামচ বা জলের মিশ্রণ ব্যবহার: সর্বদা নির্দিষ্ট পরিমাপের ছোট চামচ ব্যবহার করুন অথবা ছোট বাটিতে সামান্য জলে হলুদ গুলে নিয়ে তবেই কড়াইতে দিন।

রান্না একটি শিল্প, আর সেখানে ভুল হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাই রান্নায় অসাবধানতাবশত বেশি হলুদ পড়ে গেলেও আতঙ্কিত না হয়ে এই সহজ কিচেন হ্যাকসগুলো কাজে লাগান। এতে খাবার ফেলে দেওয়া থেকে বেঁচে যাবেন এবং পরিবারের সবাই তৃপ্তি করে খেতে পারবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON