...
...
Next Story

আরশোলা থেকে পাকাপাকি মুক্তি, তাও আবার কোনও রাসায়নিক ছাড়াই! জেনে নিন কীভাবে

বাজারচলতি আরশোলা মারার স্প্রে বা রাসায়নিক অনেক সময় শিশু বা পোষ্যদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে জানলে অবাক হবেন, আপনার রান্নাঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপাদানের মাধ্যমেই ঘরকে চিরতরে আরশোলা মুক্ত করা সম্ভব।

Published on: Jan 16, 2026, 13:53:53 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আরশোলা কেবল অস্বস্তিকর নয়, এটি টাইফয়েড, কলেরার মতো মারাত্মক রোগের জীবাণুও বহন করে। বাজারচলতি আরশোলা মারার স্প্রে বা রাসায়নিক অনেক সময় শিশু বা পোষ্যদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে জানলে অবাক হবেন, আপনার রান্নাঘরে থাকা কিছু সাধারণ উপাদানের মাধ্যমেই ঘরকে চিরতরে আরশোলা মুক্ত করা সম্ভব।

আরশোলা থেকে পাকাপাকি মুক্তি, তাও আবার কোনও রাসায়নিক ছাড়াই! জেনে নিন কীভাবে
আরশোলা থেকে পাকাপাকি মুক্তি, তাও আবার কোনও রাসায়নিক ছাড়াই! জেনে নিন কীভাবে

পরিবেশবান্ধব এবং প্রাকৃতিক উপায়ে আরশোলা তাড়ানোর ৫টি অব্যর্থ পদ্ধতি জেনে নিন।

রাসায়নিক ছাড়াই আরশোলা তাড়ান: ৫টি ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক টোটকা

নিচে দেওয়া ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো প্রয়োগ করলে আরশোলা আপনার বাড়ির ত্রিসীমানায় আসবে না:

১. বেকিং সোডা ও চিনির মিশ্রণ

এটি আরশোলা তাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। সমপরিমাণ বেকিং সোডা এবং চিনি মিশিয়ে ঘরের কোণায়, আলমারির নিচে বা যেখানে আরশোলার উপদ্রব বেশি সেখানে ছিটিয়ে দিন। চিনির গন্ধে আরশোলা আকৃষ্ট হবে এবং বেকিং সোডা তাদের শরীরের ভেতরে গিয়ে তাদের ধ্বংস করবে।

২. বোরিক অ্যাসিড ও আটার মন্ড

বোরিক অ্যাসিড প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে পরিচিত। সামান্য আটা বা ময়দা, চিনি এবং বোরিক অ্যাসিড গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে ছোট ছোট গোল্লা তৈরি করুন। এই গোল্লাগুলো রান্নাঘরের ড্রেন বা অন্ধকার কোণে রেখে দিন। মনে রাখবেন, এটি যেন শিশু বা পোষ্যদের হাতের নাগালে না থাকে।

আরশোলা তীব্র গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তেজপাতা গুঁড়ো করে ঘরের কোণে ছড়িয়ে দিলে এর গন্ধে আরশোলা ঘর ছাড়ে। এছাড়া যেখানে আরশোলার আনাগোনা বেশি, সেখানে লবঙ্গ রেখে দিতে পারেন। লবঙ্গের কড়া গন্ধ আরশোলা তাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

৪. গোলমরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনের স্প্রে

এক লিটার জলে একটি পেঁয়াজ বাটা, একটি রসুন বাটা এবং এক চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুক্ষণ রেখে ছেঁকে নিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরুন। এই জল ঘরের কোণে বা আরশোলার বাসায় স্প্রে করলে তারা দ্রুত পালানোর পথ খুঁজবে।

৫. এসেনশিয়াল অয়েল (পিপারমিন্ট)

পিপারমিন্ট অয়েল বা পুদিনা তেলের গন্ধ আরশোলার জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত। এক কাপ জলে কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট অয়েল মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করুন। এটি কেবল আরশোলা তাড়াবে না, আপনার ঘরকে সুগন্ধে ভরিয়ে তুলবে।

আরশোলা রুখতে আরও কিছু জরুরি টিপস:

  • জমে থাকা জল দূর করুন: আরশোলা জলের খোঁজে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় আসে। তাই রাতে শোওয়ার আগে বেসিন বা রান্নাঘরের স্ল্যাব শুকনো রাখুন।
  • খাবার ঢেকে রাখুন: খোলা খাবার বা আধখাওয়া ফল আরশোলাকে আমন্ত্রণ জানায়।
  • ফাটল বন্ধ করুন: দেওয়ালের ফাটল বা ড্রেনের পাইপের মুখ সবসময় বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আরশোলা তাড়ানো কেবল স্বাস্থ্যকর নয়, সাশ্রয়ীও বটে। ওপরের পদ্ধতিগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার বাড়ি থাকবে বিষমুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON