How to detect pesticides in mangoes: গ্রীষ্মকাল মানেই মধুমাস, আর মধুমাস মানেই ফলের রাজা আমের মরশুম। ল্যাংড়া, হিমসাগর, ফজলি থেকে শুরু করে চৌসা—আমের মিষ্টি স্বাদে মেতে ওঠে আট থেকে আশি। কিন্তু বর্তমান সময়ে আম খাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি মনে দানা বাঁধে এক মস্ত বড় আতঙ্ক। আর তা হলো রাসায়নিক কীটনাশক (Pesticides) এবং কৃত্রিম কার্বাইড। আমকে পোকা-মাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে এবং দ্রুত পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে থাকেন।

এই বিষাক্ত কীটনাশকযুক্ত আম নিয়মিত খেলে পেটের রোগ, লিভারের ক্ষতি, তীব্র মাইগ্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। তাহলে কি ভয়ে আম খাওয়া ছেড়ে দেবেন? একদমই নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য কিছু লক্ষণ দেখেই আপনি ঘরে বসে চিনে নিতে পারেন কোন আমে বিষাক্ত কীটনাশক রয়েছে আর কোনটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমে কীটনাশক আছে কি না তা বোঝার উপায় জেনে নিন।
বাজার থেকে আম কিনে আনার পর তা মুখে দেওয়ার আগে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কিছু বাহ্যিক গঠন, গন্ধ এবং স্বাদ পরীক্ষা করলেই প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম এবং রাসায়নিকযুক্ত আমের তফাত স্পষ্ট হয়ে যায়।
১. আমের গায়ের সাদাটে বা ধূসর আস্তরণ:
আম কেনার সময় তার খোসার দিকে ভালো করে লক্ষ্য করুন। যদি দেখেন আমের খোসার ওপর এক ধরণের সাদাটে, পাউডারের মতো বা ধূসর রঙের ছোপ ছোপ আস্তরণ জমে রয়েছে, তবে বুঝবেন সেটিতে প্রচুর পরিমাণে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের খোসা সাধারণত মসৃণ ও চকচকে হয় এবং তাতে কোনো রাসায়নিক পাউডারের অবশিষ্টাংশ থাকে না।
২. রঙের অস্বাভাবিক সমতা (কৃত্রিমভাবে পাকা আম):
কীটনাশক এবং কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম দেখতে অত্যন্ত লোভনীয় ও নিখুঁত হয়। পুরো আমটিই এক গাঢ় হলুদ রঙে সেজে থাকে, কোথাও কোনো সবুজ ভাব থাকে না। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা আমের রঙে একটা অসমন্বয় থাকে। গাছের আম সম্পূর্ণ এক রঙের হয় না; তার কিছু অংশ হলুদ হলে, কিছু অংশে হালকা সবুজ বা লালচে ভাব বজায় থাকে। অতিরিক্ত নিখুঁত হলুদ আম দেখলেই সাবধান হোন।
৩. আমের বোঁটা এবং সুগন্ধ পরীক্ষা:
{{/usCountry}}কীটনাশক এবং কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম দেখতে অত্যন্ত লোভনীয় ও নিখুঁত হয়। পুরো আমটিই এক গাঢ় হলুদ রঙে সেজে থাকে, কোথাও কোনো সবুজ ভাব থাকে না। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে গাছে পাকা আমের রঙে একটা অসমন্বয় থাকে। গাছের আম সম্পূর্ণ এক রঙের হয় না; তার কিছু অংশ হলুদ হলে, কিছু অংশে হালকা সবুজ বা লালচে ভাব বজায় থাকে। অতিরিক্ত নিখুঁত হলুদ আম দেখলেই সাবধান হোন।
৩. আমের বোঁটা এবং সুগন্ধ পরীক্ষা:
{{/usCountry}}তাজা এবং রাসায়নিকমুক্ত আমের বোঁটার কাছে নাক নিয়ে শুকলে একটি মিষ্টি, তীব্র ও চনমনে আমের সুগন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু যে আমে অতিরিক্ত কীটনাশক বা কেমিক্যাল রয়েছে, সেই আমের বোঁটার কাছ থেকে কোনো সুগন্ধ বের হয় না। উল্টে অনেক সময় ঝাঁঝালো রাসায়নিক বা ওষুধের মতো এক ধরণের কটু গন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া কেমিক্যালযুক্ত আমের বোঁটার চারপাশটা শুকনো ও কালো দেখায়।
৪. জলের বালতিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা (সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা):
বাজার থেকে আম এনেই খাওয়ার ভুল করবেন না। একটি বড় বালতিতে জল নিয়ে আমগুলো তাতে ছেড়ে দিন। যদি দেখেন আমগুলো বালতির জলের তলায় ডুবে গিয়েছে, তবে নিশ্চিন্ত থাকুন—সেগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাকা এবং নিরাপদ। কিন্তু আমগুলো যদি জলের ওপরে ভেসে থাকে, তবে বুঝবেন সেগুলোতে কার্বাইড বা ভারী কীটনাশক দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে এবং সেগুলোর ভেতরে প্রাকৃতিক রস শুকিয়ে ফাঁপা হয়ে গিয়েছে।
৫. খাওয়ার সময় মুখের স্বাদ ও অনুভূতি:
কীটনাশকযুক্ত আম কাটলে ভেতরের শাঁস বা পাল্পের রঙে তফাত দেখা যায়। হয়তো বাইরেটা পুরো হলুদ, কিন্তু কাটার পর ভেতরের অংশ সাদাটে বা হালকা হলুদ রয়ে গেছে। এছাড়া এই আম মুখে দিলে মিষ্টি স্বাদের চেয়েও জিভে একটা হালকা জ্বালাপোড়া বা কষায় ভাব অনুভূত হতে পারে, যা রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ।
কীটনাশকের বিষমুক্ত করার ঘরোয়া উপায়:
আমের বিষ সরাসরি শরীরে যাওয়া আটকাতে আম খাওয়ার অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে সেটিকে সাধারণ জলের বালতিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমের ভেতরের অতিরিক্ত তাপ ও কীটনাশকের তীব্রতা অনেকটাই কমে যায়। আরও ভালো হয় যদি জলের মধ্যে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে আমগুলো ধুয়ে নেন। খাওয়ার সময় আমের খোসাটি সবসময় একটু মোটা করে কেটে বাদ দিন।
সচেতনতাই হলো সুস্থ থাকার একমাত্র চাবিকাঠি। ক্ষণিকের জিভের স্বাদের জন্য নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলবেন না। আম কেনার সময় এই সহজ পরীক্ষাগুলো মাথায় রাখুন, রাসায়নিকমুক্ত আম বাছুন এবং নিশ্চিন্তে মধুমাসের স্বাদ উপভোগ করুন।