...
...
Next Story

যে সরষের তেলে রান্না করছেন তাতে ভেজাল নেই তো? কীভাবে চিনবেন

আপনি কি জানেন, বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক সরষের তেলেই মিশছে মারাত্মক ভেজাল? অসাধু ব্যবসায়ীরা সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল, এমনকি ক্ষতিকর 'আর্জিমন' তেল (শেয়ালকাঁটার তেল) মিশিয়ে সরষের তেলের পরিমাণ বাড়াচ্ছে।

Published on: Jan 17, 2026, 09:14:15 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

বাঙালির রান্নাঘর মানেই সরষের তেলের ঝাঁঝালো সুগন্ধ। মাছ ভাজা থেকে শুরু করে আলু সেদ্ধ—সরষের তেল ছাড়া যেন ভোজনরসিকদের চলেই না। কিন্তু আপনি কি জানেন, বর্তমানে বাজারে থাকা অনেক সরষের তেলেই মিশছে মারাত্মক ভেজাল? অসাধু ব্যবসায়ীরা সস্তা পাম তেল, মিনারেল অয়েল, এমনকি ক্ষতিকর 'আর্জিমন' তেল (শেয়ালকাঁটার তেল) মিশিয়ে সরষের তেলের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। এই ভেজাল তেল নিয়মিত খেলে হৃদরোগ থেকে শুরু করে অন্ধত্ব এবং ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ হতে পারে।

যে সরষের তেলে রান্না করছেন তাতে ভেজাল নেই তো? কীভাবে চিনবেন
যে সরষের তেলে রান্না করছেন তাতে ভেজাল নেই তো? কীভাবে চিনবেন

ঘরে বসেই সরষের তেলের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার ৫টি সহজ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি জেনে নিন।

আপনার রান্নাঘরের তেল কি বিষমুক্ত? চিনে নিন আসল সরষের তেল

বাজার থেকে কেনা তেল খাঁটি কি না, তা বোঝার জন্য নিচের সহজ পরীক্ষাগুলো আজই করে দেখুন:

১. ফ্রিজিং টেস্ট (The Freezing Test)

একটি কাঁচের ছোট বাটিতে বা বোতলে কিছুটা সরষের তেল নিন। সেটি ফ্রিজের ফ্রিজারে (Freezer) ২ থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন।

  • আসল: খাঁটি সরষের তেল কখনোই ফ্রিজে জমে যাবে না। এটি তরল অবস্থাতেই থাকবে।
  • নকল: যদি দেখেন তেলের ওপরের অংশে সাদা আস্তরণ জমেছে বা তেলটি ঘনীভূত হয়ে গেছে, তবে বুঝবেন এতে পাম তেল বা অন্য কোনো সস্তা তেলের ভেজাল রয়েছে।

২. হাতের তালুতে ঘষে পরীক্ষা

অল্প পরিমাণ সরষের তেল হাতের তালুতে নিয়ে ভালো করে ঘষুন।

  • আসল: আসল তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে আসবে এবং হাতের তালুতে কোনো অন্য রঙের দাগ লাগবে না।
  • নকল: যদি ঘষার পর কোনো রঙ বেরিয়ে আসে বা রাসায়নিক কোনো গন্ধ পান, তবে তাতে কৃত্রিম রঙ মেশানো হয়েছে।

এটি সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি। একটি টেস্ট টিউব বা কাঁচের পাত্রে সামান্য তেল নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা নাইট্রিক অ্যাসিড যোগ করুন।

  • আসল: তেলের রঙের কোনো পরিবর্তন হবে না।
  • নকল: যদি মিশ্রণটি লাল বা কমলা রঙ ধারণ করে, তবে নিশ্চিত থাকুন এতে বিষাক্ত 'আর্জিমন তেল' মেশানো হয়েছে, যা মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর।

৪. ধোঁয়ার ওপর নজর দিন

কড়াইতে তেল গরম করার সময় লক্ষ্য করুন। খাঁটি সরষের তেল খুব দ্রুত ধোঁয়া ছাড়ে না এবং এর ঝাঁঝ চোখ-নাকে জ্বালা ধরাবে। যদি তেল গরম হতে না হতেই কড়াইতে সাদাটে ধোঁয়া বের হয় এবং ঝাঁঝ উধাও থাকে, তবে তাতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

৫. রঙের গভীরতা

খাঁটি সরষের তেলের রঙ হয় গাঢ় সোনালি বা লালচে হলুদ। খুব হালকা হলুদ রঙের স্বচ্ছ তেল মানেই তাতে মিনারেল অয়েলের মিশ্রণ থাকতে পারে।

শেষ কথা

সুস্থ থাকতে হলে তেলের বিশুদ্ধতার সাথে আপস করবেন না। সস্তা বা খোলা তেল কেনার বদলে সবসময় কোনো নামী ব্র্যান্ডের 'অ্যাগমার্ক' (AGMARK) চিহ্নযুক্ত বোতলজাত তেল কেনা নিরাপদ। মনে রাখবেন, খাঁটি তেল রান্নায় যেমন স্বাদ বাড়ায়, তেমনি শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সুস্থ রাখে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON