...
...
Next Story

পাকা চুল কালো করার সহজ উপায় কী? কোনটায় শরীরের ক্ষতি হবে না, জেনে নিন

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একবার মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে সেই চুলকে গোড়া থেকে স্থায়ীভাবে কালো করার কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি নেই।

Published on: Dec 08, 2025 04:16 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

চুল পেকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া, যা মূলত চুলের গোড়ায় মেলানিন (Melanin) নামক পিগমেন্ট বা রঞ্জকের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ঘটে। অনেকেই পাকা চুল স্থায়ীভাবে কালো করার উপায় খোঁজেন। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একবার মেলানিন উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে সেই চুলকে গোড়া থেকে স্থায়ীভাবে কালো করার কোনো প্রমাণিত পদ্ধতি নেই।

পাকা চুল কালো করার সহজ উপায় কী? কোনটায় শরীরের ক্ষতি হবে না, জেনে নিন
পাকা চুল কালো করার সহজ উপায় কী? কোনটায় শরীরের ক্ষতি হবে না, জেনে নিন

তবে, চুলকে এমনভাবে রং করা সম্ভব যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় এবং চুল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবল গোড়ার অংশে পুনরায় রং করার প্রয়োজন হয়। পাকা চুলকে স্থায়ীভাবে কালো রাখার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি এবং কিছু প্রাকৃতিক উপায় নিচে আলোচনা করা হলো:

১. স্থায়ী রং (Permanent Color): দীর্ঘস্থায়ী কভারেজ

যখন "স্থায়ীভাবে কালো করা" বলা হয়, তখন সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্থায়ী রাসায়নিক হেয়ার ডাই ব্যবহার করা।

  • পদ্ধতি: স্থায়ী হেয়ার ডাই চুলের কিউটিকল খুলে চুলের শ্যাফ্টের ভেতরে প্রবেশ করে এবং সেখানে পিগমেন্ট জমা করে। একবার চুল রং হলে, সেই অংশটি স্থায়ীভাবে কালোই থাকে।
  • সতর্কতা: যেহেতু এই প্রক্রিয়া চুলের গোড়া বা ফলিকলের মেলানিন উৎপাদনকে প্রভাবিত করে না, তাই চুল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোড়ার দিকে আবার সাদা চুল দেখা দিতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতি ৪-৬ সপ্তাহে নতুন চুলের গোড়াকে (Root Touch-up) পুনরায় রং করার প্রয়োজন হয়।
  • ঝুঁকি: রাসায়নিক ডাই-এ অ্যামোনিয়া এবং পারঅক্সাইডের মতো উপাদান থাকে, যা অতিরিক্ত ব্যবহারে চুল এবং মাথার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

যারা রাসায়নিক ডাই ব্যবহার করতে চান না, তাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী প্রাকৃতিক রং হিসেবে মেহেদি (Henna) ও ইন্ডিগো (Indigo) পাউডার একটি জনপ্রিয় বিকল্প।

  • মেহেদি (Henna): মেহেদি নিজে থেকে পাকা চুলকে কালো করে না; এটি চুলের ওপর একটি লালচে-কমলা আভা দেয়।
  • ইন্ডিগো (Indigo): নীল রং সৃষ্টিকারী ইন্ডিগো পাউডার, যখন মেহেদির সঙ্গে বা মেহেদি প্রয়োগের পরে ব্যবহার করা হয়, তখন তা চুলকে কালো করে।
  • কার্যকারিতা: পাকা চুলকে স্থায়ীভাবে কালো করতে এটি একটি 'টু-স্টেপ' প্রক্রিয়া। প্রথমে মেহেদি দিয়ে চুলকে লালচে ভিত্তি দেওয়া হয়, এরপর ইন্ডিগো দিয়ে রং করলে তা গভীর কালো হয়।
  • স্থায়িত্ব: এটি একটি প্রাকৃতিক স্টেনিং প্রক্রিয়া। এটি স্থায়ী ডাইয়ের মতো দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, তবে গোড়ার নতুন চুল গজানোর কারণে এটিরও প্রতি মাসে রুট টাচ-আপ প্রয়োজন।

৩. অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান (অতিরিক্ত যত্ন)

এই উপাদানগুলি চুলকে গোড়া থেকে স্থায়ীভাবে কালো না করলেও, চুলের রংকে গাঢ় করতে এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে:

  • আমলকি (Amla): আমলকির তেল বা পেস্ট নিয়মিত ব্যবহার করলে তা চুলের প্রাকৃতিক কালো রং বজায় রাখতে এবং অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি চুলের মেলানিনকে উদ্দীপিত করে বলে ধারণা করা হয়।
  • কালো চা বা কফি: ঘন কালো চায়ের লিকার বা কফির পেস্ট নিয়মিত চুলে ব্যবহার করলে তা চুলের শ্যাফ্টের ওপর একটি হালকা কালো আভা ফেলে। এটি অস্থায়ী, তবে নিয়মিত ব্যবহারে রং গাঢ় হয়।

৪. বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা: যা করা সম্ভব নয়

মেলানিন উৎপাদন ফিরিয়ে আনা: বর্তমানে, এমন কোনো প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক উপায় নেই যা চুলের ফলিকলের ভেতরে বন্ধ হয়ে যাওয়া মেলানিন উৎপাদনকে স্থায়ীভাবে পুনরায় শুরু করতে পারে। গবেষণা চলছে, তবে সেটি এখনো সাধারণ চিকিৎসায় আসেনি।

পাকা চুলকে স্থায়ীভাবে গোড়া থেকে কালো করা সম্ভব না হলেও, স্থায়ী হেয়ার ডাই অথবা প্রাকৃতিক মেহেদি-ইন্ডিগো পদ্ধতি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চুলের কালো রং বজায় রাখা যায়। চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় রাসায়নিক ডাইয়ের চেয়ে প্রাকৃতিক পদ্ধতিই বেশি নিরাপদ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON