...
...
Next Story

Industrialists on WB New Policy: চাকরি, ইনসেনটিভ, বিনিয়োগের পরিবেশ- বাংলার নয়া শিল্পনীতি নিয়ে কী বলছেন শিল্পপতিরা?

Industrialists on WB New Policy: নয়া শিল্পনীতির ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। শিল্পপতিদের মতে, সময়সীমাবদ্ধ অনুমোদন এবং শিল্পবান্ধব পরিকাঠামো রাজ্যকে একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করবে।

Published on: Nov 5, 2026, 22:27:24 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

Industrialists on WB New Policy: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্র ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬' চালু করেছে রাজ্য সরকার। একক জানালা ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজেশন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য বিশেষ ইনসেনটিভ এবং রিয়েল এস্টেট ও গ্রিন এনার্জি খাতের উন্নয়নে এই নীতিতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন কেভেন্টার গ্রুপ, জুপিটার ইন্টারন্যাশনাল এবং পুর্তি রিয়েলটির মতো প্রধান শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষকর্তারা। শিল্পপতিদের মতে, সময়সীমাবদ্ধ অনুমোদন এবং শিল্পবান্ধব পরিকাঠামো রাজ্যকে একটি নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করবে।

মায়াঙ্ক জালান, চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কেভেন্টার গ্রুপ

নয়া শিল্পনীতির ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। (ছবি সৌজন্যে এএনআই)
নয়া শিল্পনীতির ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। (ছবি সৌজন্যে এএনআই)

'নয়া শিল্পনীতি বাস্তবায়ন ও উদ্ভাবনের উপরে জোর দিয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হন—অর্থাৎ প্রকল্পের সময়সীমা কত হবে—সরকার তার উত্তর দিয়েছে। আবেদনের প্রতিটি পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাখার ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিন্ত করবে। যা একটি ওয়ান-স্টপ পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এটি প্রকৃতপক্ষে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে সহজতর করে তোলে। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা, গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি সহায়তা, মহিলা কর্মী নিয়োগে ইনসেনটিভ এবং কৌশলগত বা মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ সুবিধাদির ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে এই নীতি আমাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে এক নতুন বাংলায়, এক নতুন বিনিয়োগ গন্তব্যে, যা আমাদের ব্যবসা গড়ে তুলতে ও বড় করতে সাহায্য করবে।'

ধ্রুব শর্মা, সিইও, জুপিটার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড

আমরা এমন একটি নীতিকে স্বাগত জানাই, যাতে রাজ্যের শিল্প বৃদ্ধিতে নতুন গতি সঞ্চার করার এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা আছে। এই নীতিটি এমন সব প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগের সমাধান করে, যারা তাদের কার্যক্রম স্থাপন বা সম্প্রসারণ করতে চায়। জমি সংক্রান্ত ইনসেনটিভ, পরিকাঠামোগত সহায়তা এবং সময়সীমা-ভিত্তিক অনুমোদনের সুবিধা-সহ একটি সুবিন্যস্ত সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থা প্রদান করে। উৎপাদন খাত, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে নারী ও রূপান্তরকামীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে বর্ধিত ইনসেনটিভ অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

তিনি বলেছেন, ‘আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগ-বান্ধব শিল্প পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ উন্নয়ন নীতি। এসজিএসটি, বিদ্যুৎ শুল্ক ও স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধে আর্থিক সহায়তা, মহিলা ও তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের জন্য বর্ধিত ইপিএফ সহায়তা ইত্যাদির মতো বিভিন্ন ইনসেনটিঊ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপরে গুরুত্ব আরোপ, দ্রুত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির প্রতি একটি প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। একইভাবে উৎসাহব্যঞ্জক হল গবেষণা ও উন্নয়ন, সবুজ শক্তি এবং রুগ্ন শিল্প ইউনিটগুলির পুনরুজ্জীবনের জন্য ইনসেনটিভ।’

সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ খাত এবং অপেক্ষাকৃত কম শিল্পোন্নত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলির জন্য বর্ধিত সহায়তা প্রথাগত অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর বাইরেও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে। রিয়েল এস্টেটের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি শিল্পপার্ক, ওয়্যারহাউজিং, লজিস্টিকস, বাণিজ্যিক স্থান এবং নতুন কর্মসংস্থান কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে আবাসিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করে। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হওয়া ডিজিটাল সিঙ্গেল-উইন্ডো অনুমোদন ব্যবস্থা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি এই পদক্ষেপগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও ভারসাম্য আনতে সহায়তা করবে।’

 
SHARE THIS ARTICLE ON