Bengal Investment News after New Policy: পশ্চিমবঙ্গের শিল্প এবং অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে রাজ্য সরকার নিয়ে এসেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি ২০২৬’। জমি নীতি সরলীকরণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন, সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সবুজ শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি এই নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিরা। জুপিটার ওয়াগনস, অম্বুজা নেওটিয়ার মতো শীর্ষ গোষ্ঠীর তরফে একযোগে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানতে এবং শিল্প পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
বিবেক লোহিয়া (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, জুপিটার ওয়াগনস লিমিটেড)

পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতির প্রশংসা করে জুপিটার ওয়াগনস লিমিটেডের এমডি বলেন, ‘এই নীতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। এই দূরদৃষ্টির জন্য আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সরকারকে সাধুবাদ জানাই। পুঁজি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে তিনটি বিষয় নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে - অর্থাৎ জমি, অনুমোদনের দ্রুততা এবং কর্মসংস্থান-ভিত্তিক ইনসেনটিভ- এই নীতিতে সেগুলির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ আত্মনির্ভর ভারত ও মেক ইন ইন্ডিয়ার জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়েছে।’
সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত জুপিটার ওয়াগনস বর্তমানে ভারতের হাইস্পিড রেল ও মেট্রো নেটওয়ার্কের জন্য যাত্রীবাহী রেল কোচ তৈরির ক্ষেত্রেও কাজ করছে। এই অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ; আমরা এই রাজ্যে আরও ৩,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। পুরুলিয়ায় আমাদের সমন্বিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্রটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান রাজ্য সরকার শিল্পক্ষেত্রে কতটা আস্থা তৈরি করতে পেরেছে। এটি আরও দেখায় যে, শিল্পায়ন কীভাবে পশ্চিম বাংলার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।'
তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে বড় অঙ্কের যে বিনিয়োগ আসতে চলেছে, তার হাত ধরে অনুসারী শিল্পেরও বিকাশ হবে। আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের নেটওয়ার্ক। ফলে সবমিলিয়ে শিল্পের ইকো-সিস্টেম তৈরি হবে বাংলায়। ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ভারত তথা সমগ্র দেশের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি।
হর্ষবর্ধন নেওটিয়া, চেয়ারম্যান, অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ
{{/usCountry}}তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে বড় অঙ্কের যে বিনিয়োগ আসতে চলেছে, তার হাত ধরে অনুসারী শিল্পেরও বিকাশ হবে। আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে ক্ষুদ্র, ছোটো ও মাঝারি শিল্পের নেটওয়ার্ক। ফলে সবমিলিয়ে শিল্পের ইকো-সিস্টেম তৈরি হবে বাংলায়। ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ভারত তথা সমগ্র দেশের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি।
হর্ষবর্ধন নেওটিয়া, চেয়ারম্যান, অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ
{{/usCountry}}নয়া শিল্পনীতিকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, 'এই নীতি হল রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও কর্মসংস্থানে রূপান্তরের পথে একটি উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ। সরকারের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত সিঙ্গেল উইন্ডো' ব্যবস্থা এবং দ্রুত অনুমোদনের ওপর জোর দেওয়া হওয়ায় তা ব্যবসায়ীদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। শিল্পকারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণ ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ কাঠামো—যার মধ্যে জমি একত্রিতকরণ (ল্যান্ড পুলিং) এবং অব্যবহৃত শিল্পভূমির সদ্ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত থাকবে - তা জমি অধিগ্রহণকে সহজতর করে তুলবে। এছাড়া, উৎপাদন শুরুর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকে দ্রুত উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করতে সহায়তা করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'কর্মসংস্থানের সঙ্গে ইনসেনটিভ যুক্ত করা, ইপিএফের রিইম্বার্সমেন্ট ও কর্মজীবী মহিলাদের জন্য হোস্টেলের মাধ্যমে নারীদের অংশগ্রহণকে সহায়তা করা এবং গবেষণা ও উন্নয়নকে উৎসাহিত করার পদক্ষেপগুলো বিশেষভাবে স্বাগত জানানোর মতো। এসজিএসটি-ভিত্তিক সহায়তা, বিদ্যুৎ শুল্কের ক্ষেত্রে ছাড়, সুদের ওপর ভর্তুকি এবং স্ট্যাম্প ডিউটির বোঝা কমানোর মতো উদ্যোগগুলো শিল্প সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করে তুলবে। উদীয়মান খাত, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উন্নত পরিকাঠামোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করার ফলে বাংলার মেধাবী ব্যক্তি ও স্থানীয় সরবরাহকারীদের জন্য নতুন শিল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।'
সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, এই পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার করতে পারে এবং রাজ্যের সর্বত্র আর্থিক বৃদ্ধির সুফল ছড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের মধ্যে যারা বাংলার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তাদের জন্য এটি এখানে নতুন করে গড়ে তোলার, বিনিয়োগ করার এবং সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এক নতুন আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে তুলল।’