...
...
Next Story

Quote of the Day: ‘যেদিন অভিনেতা মনে করবে সে সব শিখে গিয়েছে…’, মহানায়কের এই কথাটা কতটা দামি, সেটা আজ আরও বেশি বোঝা যায়

শুধু অভিনেতা নন, একই সঙ্গে একজন লড়াকু মানুষ, একজন চিন্তকও ছিলেন উত্তম কুমার। তাঁর অমূল্য কিছু কথা আজও একই রকম দামি।

Published on: Apr 7, 2026, 13:16:15 IST
Advertisement

বাঙালি হৃদয়ে তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি এক আবেগ, এক সংস্কৃতি। কয়েক দশক ধরে রূপালি পর্দা শাসন করা মহানায়ক উত্তম কুমার আজও বাঙালির ড্রয়িং রুম থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায় সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

মহানায়কের অমূল্য বাণী (Quote of the Day)

মহানায়কের এই কথাটা কতটা দামি, সেটা আজ আরও বেশি বোঝা যায়
মহানায়কের এই কথাটা কতটা দামি, সেটা আজ আরও বেশি বোঝা যায়

‘অভিনয় মানে শুধু নকল করা নয়, অভিনয় হলো নিজের সত্তাকে অন্যের চরিত্রের মধ্যে বিলীন করে দেওয়া। যেদিন অভিনেতা মনে করবে সে সব শিখে গেছে, সেদিনই তার শিল্পী হিসেবে মৃত্যু ঘটে।’

জীবনের কিছু জানা-অজানা অ্যানেকডোট (Anecdotes)

উত্তম কুমারের জীবন সিনেমার পর্দার চেয়ে কোনো অংশে কম রোমাঞ্চকর ছিল না। তাঁর যাত্রাপথের কিছু ছোট গল্প আমাদের আজও অনুপ্রাণিত করে:

১. ‘ফ্লপ মাস্টার’ থেকে ‘মহানায়ক’: শুরুর দিকে উত্তম কুমারের পরপর সাতটি ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে নাকি কেউ কেউ ‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ বলে ডাকতেন। হতাশ হয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিনয় ছেড়ে দেবেন এবং পোর্ট ট্রাস্টের চাকরিতেই মনোনিবেশ করবেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী গৌরী দেবী তাঁকে সাহস দেন। এরপর ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবির মাধ্যমে তিনি ঘুরে দাঁড়ান এবং বাকিটা ইতিহাস।

২. সুচিত্রা সেনের সঙ্গে সেই চিরন্তন রসায়ন: একবার এক সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে। তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘রমা (সুচিত্রা) না থাকলে হয়তো আমার উত্তরণ পূর্ণতা পেত না।’ তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ছিল। কথিত আছে, ‘সপ্তপদী’র শুটিং চলাকালীন একটি দৃশ্যে সুচিত্রা সেনের শরীর খারাপ হলে উত্তম কুমার নিজে শট বন্ধ করে তাঁর বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছিলেন।

উত্তম কুমার মানেই সেই ভুবনভোলানো হাসি, ধুতি-পাঞ্জাবিতে আভিজাত্য এবং সহজাত অভিনয় ভঙ্গি। আজকের প্রজন্মের কাছেও তিনি স্টাইল আইকন। বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও উত্তম-সুচিত্রার সাদা-কালো রোমান্স আজও তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে দোলা দেয়। তিনি শিখিয়েছিলেন পরিশ্রম আর অধ্যবসায় থাকলে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON