...
...
Next Story

টাক পড়ার সঙ্গে কি হার্টের অসুখের কোনও যোগ আছে? কী বলছে বিজ্ঞান

প্রথম দৃষ্টিতে চুল পড়ার সঙ্গে হৃদযন্ত্রের (Heart) সমস্যার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে না হলেও, সাম্প্রতিক কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই দুইয়ের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

Published on: Dec 16, 2025 09:42 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

টাক পড়া বা অ্যালোপেসিয়া (Alopecia) বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা। এটি মূলত জেনেটিক্স এবং হরমোন, বিশেষ করে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT)-এর প্রভাবে ঘটে। প্রথম দৃষ্টিতে চুল পড়ার সঙ্গে হৃদযন্ত্রের (Heart) সমস্যার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে না হলেও, সাম্প্রতিক কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণা এই দুইয়ের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

টাক পড়ার সঙ্গে কি হার্টের অসুখের কোনও যোগ আছে? কী বলছে বিজ্ঞান
টাক পড়ার সঙ্গে কি হার্টের অসুখের কোনও যোগ আছে? কী বলছে বিজ্ঞান

টাক পড়ার ধরন এবং হার্টের অসুখের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, জেনে নিন।

১. টাক ও হার্টের অসুখ: যোগসূত্র কোথায়?

গবেষণকরা মনে করেন, টাক পড়া সরাসরি হার্টের অসুখ সৃষ্টি করে না, বরং এই দুটি সমস্যার পেছনে দায়ী একই ধরনের জৈবিক প্রক্রিয়া বা 'কমন রুট' রয়েছে।

ক. টেস্টোস্টেরন হরমোন (DHT)

  • টাক পড়ার কারণ: পুরুষদের টাক পড়ার (Male Pattern Baldness) প্রধান কারণ হলো ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (DHT) নামক শক্তিশালী অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের প্রতি চুলের ফলিকলের অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা।
  • হৃদরোগের সংযোগ: একই হরমোনের মাত্রার ভারসাম্যহীনতা বা এর প্রতি সংবেদনশীলতা রক্তনালী এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন হরমোন রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি করতে পারে, যা কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

খ. দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ (Chronic Inflammation)

  • টাক পড়ার সমস্যা অনেক সময় চুলের ফলিকলের চারপাশে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের (Inflammation) কারণে ঘটে।
  • একই সঙ্গে, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হলো অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস (Atherosclerosis) বা ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ, যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। শরীরের একই প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়া এই দুটি ভিন্ন সমস্যায় প্রকাশিত হতে পারে।

সমস্ত ধরনের টাক পড়ার সঙ্গে হার্টের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষণা অনুযায়ী, টাক পড়ার ধরনটি গুরুত্বপূর্ণ:

  • মাথার তালুতে টাক (Vertex Baldness): গবেষণায় দেখা গেছে, মাথার সামনের দিকের (Frontal) টাকের চেয়ে মাথার তালুতে বা মাথার ঠিক মাঝখানে (Vertex) টাক পড়ার সমস্যা যাদের বেশি, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
  • কম বয়সী পুরুষ: কম বয়সে (৩৫ বছরের কম) যদি টাক পড়া শুরু হয়, তবে হার্টের রোগের ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

৩. টাক পড়া একটি সতর্কতা সংকেত

বিজ্ঞানীদের মতে, টাক পড়া হার্টের রোগের কারণ নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরের একটি জৈবিক ভারসাম্যহীনতার বহিরাগত লক্ষণ হতে পারে, যা একই সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই, মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে যদি দ্রুত টাক পড়ে বা মাথার তালুতে টাক পড়ে, তবে এটিকে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের সমস্যা হিসেবে না দেখে হৃদরোগের ঝুঁকির একটি সতর্কতা সংকেত (Warning Sign) হিসেবে দেখা উচিত।

এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চুলের যত্নের পাশাপাশি লাইফস্টাইল পরিবর্তন (পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার) এবং নিয়মিত কার্ডিও চেক-আপ করানো জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON