Md Ali Park Durga Puja: একটা সময় ছিল যখন মধ্য কলকাতার দুর্গাপুজো পরিক্রমা মহম্মদ আলি পার্কের বর্ণাঢ্য মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা দর্শন ছাড়া একেবারেই অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তবে গত কয়েক বছর ধরে সেই পরিচিত ছবিটায় বেশ ভাটা পড়েছে। ঠাঁইবদল, সংকুচিত পরিসর এবং একাধিক সাংগঠনিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই ঐতিহ্যবাহী পুজো কিছুটা যেন জৌলুস হারিয়েছে। তবে প্রতিমার চোখে যেমন থাকে বিজয়ের আশ্বাস, তেমনই এক নতুন ভোরের আশায় বুক বাঁধছেন মহম্মদ আলি পার্কের পুজো উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৮ সালে ফের নিজেদের পুরনো ভিটে অর্থাৎ মূল উদ্যানে স্বমহিমায় ফিরে আসার পরিকল্পনা করছে এই ঐতিহাসিক পুজো কমিটি।
প্যান্ডেলের মহোৎসব থেকে অস্থায়ী স্থান: আধা শতাব্দীর ইতিহাস

১৯৬৭ সালে চার বন্ধু সুরেন্দ্র শর্মা, আনন্দ টিব্রেওয়াল, জগদীশ বোহরা এবং সানওয়ারমল জোশীর হাত ধরে তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিটের একটি বাড়ির উঠোনে পথচলা শুরু করেছিল এই পুজো। এরপর ১৯৭৭ সালে এটি স্থানান্তরিত হয় মহম্মদ আলি পার্কের সুবিশাল মাঠে। আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বই এবং ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে কলকাতার শীর্ষ পাঁচটি দুর্গাপুজোর তালিকায় অনায়াসে জায়গা করে নিয়েছিল মহম্মদ আলি পার্ক।
শুধু বিশাল প্যান্ডেল কিংবা তাক লাগানো প্রতিমাই নয়, এই পুজোর অন্যতম বড় পরিচিতি ছিল সামাজিক বার্তা ও শিল্পভাবনার মেলবন্ধন। ভাস্কর অলোক সেনের শৈল্পিক ছোঁয়ায় ১৯৭০-এর দশকের চার্চের আদলে তৈরি মণ্ডপ থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের রাজনৈতিক ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের দুর্নীতি—প্রতিটি বিষয়ই মণ্ডপসজ্জায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এমনকি ২০২৫ সালে 'অপারেশন সিঁদুর'-এর দুই বীরাঙ্গনা সোফিয়া কুরেশি ও ব্যোমিকা সিংকে শ্রদ্ধা জানানো কিংবা বর্তমান বছরে অযোধ্যার পুরনো রাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণ—সবত্রই এই পুজোর অনন্য ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে।
২০১৯-এর অঘটন ও সংকুচিত দুর্গাপুজো
মহম্মদ আলি পার্কের পুজোর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। উদ্যানের নিচে থাকা ব্রিটিশ আমলের এক শতাব্দীর পুরনো ভূগর্ভস্থ জলাধারে হঠাৎ বড়সড় ফাটল দেখা দেয়। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের পানীয় জল সরবরাহের মূল ভিত্তি এই জলাধারটি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ৩৫,০০০ বর্গফুটের বিশাল মাঠ থেকে সরে এসে প্রথমে পার্শ্ববর্তী সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ফায়ার স্টেশন এবং পরবর্তীকালে পার্কের সামনের সিঁড়ির সামান্য প্রায় ১,০০০ বর্গফুট জায়গায় সংকুচিত হয়ে পড়ে পুজো। স্থান সংকটের পাশাপাশি কোভিড মহামারী ও আর্থিক টানাটানির কারণে পুজোর জাঁকজমক অনেকটাই হ্রাস পায়।
২০২৮ সালে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আশা
{{/usCountry}}মহম্মদ আলি পার্কের পুজোর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। উদ্যানের নিচে থাকা ব্রিটিশ আমলের এক শতাব্দীর পুরনো ভূগর্ভস্থ জলাধারে হঠাৎ বড়সড় ফাটল দেখা দেয়। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের পানীয় জল সরবরাহের মূল ভিত্তি এই জলাধারটি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ৩৫,০০০ বর্গফুটের বিশাল মাঠ থেকে সরে এসে প্রথমে পার্শ্ববর্তী সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ফায়ার স্টেশন এবং পরবর্তীকালে পার্কের সামনের সিঁড়ির সামান্য প্রায় ১,০০০ বর্গফুট জায়গায় সংকুচিত হয়ে পড়ে পুজো। স্থান সংকটের পাশাপাশি কোভিড মহামারী ও আর্থিক টানাটানির কারণে পুজোর জাঁকজমক অনেকটাই হ্রাস পায়।
২০২৮ সালে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আশা
{{/usCountry}}কলকাতা পুরসভা ও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মারকাস স্কোয়ারে একটি বিকল্প ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সেটি চালু হলেই মহম্মদ আলি পার্কের ভূগর্ভস্থ জলাধার সংস্কারের কাজ শুরু হবে। সরকারি আশ্বাস অনুযায়ী, কাজ সময়মতো শেষ হলে ২০২৮ সালের মধ্যেই মহম্মদ আলি পার্ক তার পুরনো মাঠে ফিরতে পারবে।
পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র শর্মা আশাপ্রকাশ করে বলেন, ‘প্রথম কয়েক বছর পুরনো জায়গা ছেড়ে পুজো করতে গিয়ে আমাদের ও দর্শনার্থীদের খুব কষ্ট হয়েছে। তবে মারকাস স্কোয়ারে বিকল্প জলাধারের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আশা করছি ২০২৮ সালে আমরা আবার পুরনো মহিমায় মহম্মদ আলি পার্কের পুজো ফিরিয়ে আনতে পারব।’