...
...
Next Story

শ্যামাপোকা সকালে মরে পড়ে থাকে কেন? রয়েছে প্রকৃতির করুণ কাহিনি

পরদিন সকালেই সেই পোকাগুলোকে কেন মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়? এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বৈজ্ঞানিক কারণ এবং এক করুণ পরিণতি।

Published on: Oct 18, 2025 07:17 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

বৃষ্টির শেষে অথবা শীতের শুরুর সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই অসংখ্য শ্যামাপোকা আলোর উৎসগুলির চারপাশে ভিড় করে। রাতের বেলা আলোর দিকে তাদের এই তীব্র আকর্ষণ বিজ্ঞানীদের কাছেও এক বড় রহস্য। কিন্তু পরদিন সকালেই সেই পোকাগুলোকে কেন মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়? এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বৈজ্ঞানিক কারণ এবং এক করুণ পরিণতি।

শ্যামাপোকার আলোর প্রতি আকর্ষণ (ফোটোট্যাক্সিস)

শ্যামাপোকারা সকালে মরে পড়ে থাকে কেন?
শ্যামাপোকারা সকালে মরে পড়ে থাকে কেন?

শ্যামাপোকারা আলোর প্রতি যে আকর্ষণ দেখায়, তাকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় পজিটিভ ফোটোট্যাক্সিস (Positive Phototaxis) বলা হয়। তবে কৃত্রিম আলোর প্রতি তাদের এই আকর্ষণ তাদের জন্য বিভ্রান্তিকর।

  • নেভিগেশনের ভুল (Transverse Orientation): বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শ্যামাপোকা তাদের উড়ার দিক ঠিক করার জন্য চাঁদের আলোর ওপর নির্ভর করে। চাঁদ বহু দূরে থাকায় চাঁদের আলো তাদের কাছে সমান্তরাল রশ্মি হিসেবে আসে। পোকাগুলো তাদের উড়ার সময় চাঁদের আলোকে একটি নির্দিষ্ট কোণে রেখে দিক ঠিক করে।
  • কৃত্রিম আলোর বিভ্রান্তি: যখন পোকাগুলো কাছাকাছি থাকা কোনো কৃত্রিম আলোর (যেমন বাল্ব বা লণ্ঠন) কাছে আসে, তখন চাঁদের আলোর মতো সেটি সমান্তরাল রশ্মি হিসেবে আসে না। পোকাগুলো দিক ঠিক করার জন্য কৃত্রিম আলোকে একটি নির্দিষ্ট কোণে রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু আলোটি খুব কাছে থাকায়, তারা যতই দিক ঠিক করতে যায়, ততই পেঁচিয়ে সেই আলোর উৎসের দিকেই ঘুরতে শুরু করে। এটি তাদের এক ধরনের অনিবার্য ফাঁদ।

সকালে মৃত অবস্থায় থাকার কারণ

১. ক্লান্তি ও জলশূন্যতা: সারারাত ধরে পোকাগুলো আলোর চারপাশে দ্রুত গতিতে পাগলের মতো উড়তে থাকে। এই তীব্র পরিশ্রমের ফলে তারা চরমভাবে ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ক্রমাগত ডানা ঝাপটানোর ফলে তারা শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং অনেকেই জলশূন্যতায় ভোগে।

২. তাপ ও পুড়ে যাওয়া: আলোর উৎসের খুব কাছে চলে আসায় বা সরাসরি তা স্পর্শ করার ফলে পোকাগুলো সেই তীব্র তাপ সহ্য করতে না পেরে মারা যায়। অনেক সময় বৈদ্যুতিক বাল্বের তাপে তাদের ডানা বা শরীর পুড়ে যায়।

৩. শিকারীর কবলে: আলোতে ভিড় জমানোর কারণে তারা টিকটিকি, মাকড়সা, বা অন্য শিকারী প্রাণীদের সহজ শিকারে পরিণত হয়।

৪. শারীরিক দুর্বলতা: শ্যামাপোকার জীবনকাল সাধারণত খুব কম হয়। সারারাত আলোর প্রতি এই তীব্র আকর্ষণের কারণে তারা স্বাভাবিক খাবার বা বিশ্রামের সুযোগ পায় না, ফলে তাদের জীবনচক্র দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

এইভাবেই রাতের আলোর তীব্র আকর্ষণ শ্যামাপোকাদের জীবনচক্রকে অপ্রত্যাশিতভাবে সংক্ষিপ্ত করে দেয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON