...
...
Next Story

শীতে জিভ বা মুখে আলসার? জানুন এর কারণ ও দ্রুত প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়

শীতে কেন এই সমস্যা বাড়ে এবং কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

Published on: Nov 19, 2025 09:46 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

শীতকালে ত্বক ও ঠোঁট ফাটার পাশাপাশি আরেকটি সমস্যা খুব ভোগায়, তা হলো মুখের ভেতরে বা জিভে ছোট ছোট সাদা বা লালচে ঘা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অ্যাপথাস আলসার (Aphthous Ulcer) বা ক্যানকার সোর বলা হয়। গরম মশলাদার খাবার খাওয়া তো দূরের কথা, এই সময় সাধারণ জল পান করতেও কষ্ট হয়। কিন্তু শীতে কেন এই সমস্যা বাড়ে এবং কীভাবে এর থেকে মুক্তি পাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

শীতে কেন বাড়ে মুখের আলসার?

শীতে জিভ বা মুখে আলসার? জানুন এর কারণ ও দ্রুত প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়
শীতে জিভ বা মুখে আলসার? জানুন এর কারণ ও দ্রুত প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়

শীতকালে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং আমাদের জীবনযাত্রায় কিছু ভুলের কারণে এই সমস্যা মাথাচাড়া দেয়।

১. জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন: শীতকালে আমাদের তৃষ্ণা কম পায়, ফলে আমরা জল কম খাই। শরীরে জলের অভাব হলে মুখের লালাগ্রন্থি শুকিয়ে যায় এবং মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা আলসার তৈরি করে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: শীতে সর্দি, কাশি বা জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। শরীরের ইমিউন সিস্টেম যখন ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন সুযোগ বুঝে মুখের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে আলসার তৈরি করে।

৩. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: শীতে শরীর গরম রাখতে অনেকেই অতিরিক্ত ঝাল, তেল-মশলাযুক্ত খাবার, চা-কফি বা ভাজাভুজি বেশি খান। এই খাবারগুলো পেটের সমস্যা এবং মুখের ভেতরের সংবেদনশীল ত্বকে প্রদাহ তৈরি করে।

৪. ভিটামিনের অভাব: শীতের সময় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কারণে শরীরে ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12), আয়রন, জিঙ্ক বা ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা আলসারের অন্যতম প্রধান কারণ।

দ্রুত প্রতিকার ও ঘরোয়া সমাধান

১. পর্যাপ্ত জল পান: শীতকালেও দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস জল পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মুখের লালা নিঃসরণ ঠিক থাকে এবং ঘা দ্রুত শুকায়।

২. মধু ও হলুদের ব্যবহার: এক চিমটি কাঁচা হলুদের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে আলসারের ওপর লাগান। মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ ব্যথা ও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।

৩. নুন জলের গার্গল: হালকা গরম জলে সামান্য নুন মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার কুলকুচি করুন। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ঘা শুকাতে সাহায্য করে।

৪. দই বা প্রোবায়োটিক: টক দই খান। দইয়ে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং আলসার কমাতে সাহায্য করে।

৫. গ্লিসারিন বা নারকেল তেল: ব্যথার জায়গায় সামান্য গ্লিসারিন বা নারকেল তেল লাগালে জায়গাটি আর্দ্র থাকে এবং জ্বালাপোড়া কমে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি আলসার ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, আকারে খুব বড় হয় বা এর সঙ্গে জ্বর ও তীব্র ব্যথা থাকে, তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসক বা ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON