...
...
Next Story

হৃদযন্ত্রে ৯৯% ব্লকেজ, সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসার! কলকাতায় রোবোটিক সার্জারিতে নতুন জীবন পেলেন মায়ানমারের বিমান কর্মকর্তা

মায়ানমারের মান্দালয়ের বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সী থু রা সান পেশায় মায়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল-এর একজন দায়িত্বশীল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অপারেটর। প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার আশায় তিনি সম্প্রতি কলকাতায় এইচসিজি ক্যানসার সেন্টারে আসেন।

Published on: Jul 30, 2026, 10:55:27 IST
Advertisement

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ কীভাবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে রোগীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে, তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো কলকাতায়। হার্টের মারাত্মক ব্লকেজ ও প্রোস্টেট ক্যানসারের চরম জোড়া চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নতুন জীবন পেলেন মায়ানমারের এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অপারেটর। ইসিজি ও কার্ডিয়াক পরীক্ষার তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং সর্বাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারে এই বিরল চিকিৎসা সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

হৃদযন্ত্রে ৯৯% ব্লকেজ, সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসার!কলকাতায় রোবোটিক সার্জারিতে সারল
হৃদযন্ত্রে ৯৯% ব্লকেজ, সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসার!কলকাতায় রোবোটিক সার্জারিতে সারল

ক্যানসার চিকিৎসার বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান ‘এইচসিজি ক্যানসার সেন্টার, কলকাতা’ (HCG Cancer Centre, Kolkata)-তে আন্তর্জাতিক মানের এই সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। মায়ানমার থেকে আসা রোগী এবং চিকিৎসকদের এই অসামান্য লড়াইয়ের ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে এক বিরাট জয়।

মায়ানমারের মান্দালয়ের বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সী থু রা সান পেশায় মায়ানমার এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল-এর একজন দায়িত্বশীল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অপারেটর। প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসার আশায় তিনি সম্প্রতি কলকাতায় এইচসিজি ক্যানসার সেন্টারে আসেন।

চিকিৎসার শুরু ও অপ্রত্যাশিত জটিলতা

হাসপাতালে আসার পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় যে, তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসারটি একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এইচসিজি ক্যানসার সেন্টার, কলকাতার ইউরো অনকোলজি ও রোবোটিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডা. গৌরব আগরওয়াল-এর তত্ত্বাবধানে রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়। পরিকল্পনা করা হয় ‘রোবোটিক র‍্যাডিক্যাল প্রোস্টেটেক্টমি’ অস্ত্রোপচারের।

তবে অস্ত্রোপচারের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে কার্ডিয়াক স্ক্রিনিং করতেই ধরা পড়ে এক বড় বিপদ। দেখা যায়, রোগীর হৃদযন্ত্রের প্রধান ধমনী অর্থাৎ ‘প্রক্সিমাল এলএডি’-তে প্রায় ৯৯ শতাংশ মারাত্মক ব্লকেজ রয়েছে। এই গুরুতর অবস্থায় ক্যানসারের মতো বড় অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত জীবনঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

ধাপভিত্তিক সুচিকিৎসা ও সফল রোবোটিক সার্জারি

প্রায় আট মাস পর কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকেরা সবুজ সংকেত দিলে, ২০২৬ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে ডা. গৌরব আগরওয়ালের নেতৃত্বে রোগীর শরীরে জটিল রোবোটিক ক্যানসার সার্জারি সম্পন্ন হয়। রোবোটিক প্রযুক্তির নির্ভুল প্রয়োগের ফলে কোনো অতিরিক্ত রক্তপাত ছাড়াই সফলভাবে প্রোস্টেট টিউমারটি বাদ দেওয়া সম্ভব হয়।

সুস্থ হয়ে দেশের পথে থু রা সান

অস্ত্রোপচারের মাত্র ১০ দিন পর ফলো-আপ চিকিৎসায় রোগীর ক্যাথেটার ও সেলাই তুলে দেওয়া হয়। বায়োপসি রিপোর্ট পর্যালোচনার পর জানা যায় রোগী সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। বর্তমানে তাঁকে নিজের দেশ মায়ানমারে ফেরার জন্য সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট ঘোষণা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য অনন্য পরিষেবা

এইচসিজি ক্যানসার সেন্টার, কলকাতায় বিদেশ থেকে আসা রোগীদের সুবিধার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মায়ানমারের ভাষাভাষী রোগীদের জন্য বার্মিজ অনুবাদক এবং পৃথক ‘ইন্টারন্যাশনাল পেশেন্ট কেয়ার টিম’ পুরো চিকিৎসা সময়সূচী, থাকার ব্যবস্থা, ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, হাসপাতালে ভর্তি এবং ফলো-আপ প্রক্রিয়া সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে।

উন্নত রোবোটিক প্রযুক্তি, হৃদরোগ ও অনকোলজি বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং আন্তরিক রোগী পরিষেবার কারণে আজ বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা অত্যন্ত সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। মায়ানমারের এই কর্মকর্তার সফল প্রত্যাবর্তন ভারতীয় চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক রোগীদের গভীর আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON