...
...
Next Story

ত্বকের ছুলি নিয়ে চিন্তিত? জানুন ওষুধ ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে ছুলি দূর করার ৫ প্রাকৃতিক টোটকা

ত্বকের ওপর ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে প্রকৃতির কিছু উপাদান দারুণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক নিয়ম মেনে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহার করলে ছুলির সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।

Published on: Aug 4, 2026, 12:17:52 IST
Advertisement

ত্বকের অন্যতম সাধারণ অথচ অস্বস্তিকর সমস্যা হলো ছুলি (Tinea Versicolor)। এটি মূলত ‘ম্যালাসেসিয়া’ (Malassezia) নামক এক ধরণের ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের অতিবৃদ্ধির কারণে ঘটে থাকে। গরম, অতিরিক্ত ঘাম, সেঁতসেঁতে আবহাওয়া কিংবা শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ত্বকে সাদা, বাদামী বা হালকা গোলাপী রঙের ছোট ছোট ছোপ ছোপ দাগ বা ছুলি দেখা দেয়। সাধারণত মুখ, ঘাড়, বুক, পিঠ এবং হাতে এই দাগগুলো বেশি ছড়ায়, যা ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য নষ্ট করে।

ত্বকের ছুলি নিয়ে চিন্তিত? জানুন ঘরোয়া উপায়ে ছুলি দূর করার ৫ প্রাকৃতিক টোটকা
ত্বকের ছুলি নিয়ে চিন্তিত? জানুন ঘরোয়া উপায়ে ছুলি দূর করার ৫ প্রাকৃতিক টোটকা

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধের পাশাপাশি আমাদের রান্নাঘরে থাকা কিছু অলৌকিক প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে কোনো প্রকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে স্থায়ীভাবে ছুলি দূর করা সম্ভব। ওষুধ ছাড়াই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ছুলি নিরাময়ের কার্যকারী উপায়গুলো জেনে নিন।

ত্বকের ওপর ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধি রোধ করে স্বাভাবিক রঙ ফিরিয়ে আনতে প্রকৃতির কিছু উপাদান দারুণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক নিয়ম মেনে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহার করলে ছুলির সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।

১. অ্যাপল সাইডার ভিনেগার (Apple Cider Vinegar)

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদানের ভাণ্ডার। এটি ত্বকের পিএইচ (pH) মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ছত্রাকের বংশবৃদ্ধি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: ১ চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের সাথে সমপরিমাণ সাধারণ জল মিশিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার তুলার সাহায্যে মিশ্রণটি ছুলি আক্রান্ত জায়গায় আলতো করে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখার পর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। দিনে অন্তত দু'বার ব্যবহার করলে দ্রুত দাগ মিলিয়ে যেতে শুরু করে।

২. কাঁচা হলুদ ও সর্ষের তেল

৩. নারকেল তেল ও টি ট্রাই অয়েল (Coconut Oil & Tea Tree Oil)

নারকেল তেলে থাকা ‘লরিক অ্যাসিড’ (Lauric Acid) এবং 'ক্যাপ্রিলিক অ্যাসিড' যেকোনো ফাঙ্গাল ইনফেকশন ধ্বংস করতে অসামান্য কার্যকর। এর সাথে টি ট্রাই অয়েল মেশালে এর কার্যক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ চামচ খাঁটি নারকেল তেলের সাথে ৪-৫ ফোঁটা টি ট্রাই অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই তেলটি প্রতিদিন স্নানের আগে বা রাতে ঘুমানোর আগে ছুলি আক্রান্ত ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বককে সতেজ রাখার পাশাপাশি ফাঙ্গাসের সংক্রমণ মূল থেকে দূর করে।

৪. নিম পাতা ও মেথি বাটা

নিম হলো প্রকৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী ফাঙ্গাসনাশক উপাদান। নিমের জীবাণুনাশক গুণাবলী ত্বকের যেকোনো চুলকানি, অ্যালার্জি ও ছুলির জীবাণু নিমেষে ধ্বংস করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: এক মুঠো টাটকা নিম পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে স্নান করতে পারেন। এ ছাড়া নিম পাতা বাটার সাথে সামান্য মেথি গুঁড়ো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ছুলির জায়গায় লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ৩ দিন ব্যবহারে ছুলি পুরোপুরি উধাও হয়ে যাবে।

৫. রসুন ও অ্যালিসিন উপাদান

রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ (Allicin) নামক রাসায়নিক যৌগ যেকোনো ধরণের ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

  • ব্যবহারের পদ্ধতি: ২-৩ কোয়া রসুন ছেঁচে বা বেটে তার রস বের করে নিন। এই রস সরাসরি ছুলির ওপর লাগান। প্রথম দিকে কিছুটা জ্বালাভাব হতে পারে, তবে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেললে এটি দ্রুত ফাঙ্গাস মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

ছুলি প্রতিরোধে জরুরি কিছু জীবনযাত্রার নিয়ম

  • সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক: গরমে ঘাম জমে যাতে ত্বকে ফাঙ্গাস না জন্মায়, সে জন্য সর্বদা পরিষ্কার ও সুতির সুতি পোশাক পরুন।
  • অন্যের জিনিস ব্যবহার না করা: ছুলি আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, পোশাক বা সাবান আলাদা রাখুন এবং নিয়মিত রোদে শুকিয়ে নিন।
  • ত্বক শুকনো রাখা: স্নানের পর বা ঘামার পর শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ত্বক দীর্ঘক্ষণ ভেজা বা সেঁতসেঁতে থাকলে ছুলি দ্রুত ছড়ায়।

ছুলির সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম বা ওষুধের পেছনে অতিরিক্ত টাকা খরচ না করে এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। সঠিক নিয়মে নিয়মিত যত্ন নিলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ত্বক ফিরে পাবে তার প্রাকৃতির সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON