চুলের রঙ বদলে নতুন রূপ দেওয়া কিংবা পাকা চুল ঢাকতে হেয়ার কালার বা ডাই ব্যবহার করার প্রচলন এখন তুঙ্গে। তবে বাজারে পাওয়া যাওয়া রাসায়নিক বা কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার কালারে থাকা অ্যামোনিয়া, পারঅক্সাইড ও প্যারাফেনিলিনডায়ামিন (PPD) চুলের প্রাকৃতিক আদ্রতা কেড়ে নেয়। এর ফলে চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ডগা ফেটে যাওয়া, চুল পরা বৃদ্ধি পাওয়া এবং স্ক্যাল্পে অ্যালার্জির মতো জটিল সমস্যা দেখা দেয়।

সুখের বিষয় হলো, কেমিক্যালের ওপর ভরসা না রেখে আমাদের রান্নাঘর ও প্রকৃতিতে থাকা কিছু সাধারণ উপাদানের মাধ্যমেই চুলে আনা যায় আকর্ষণীয় বাদামী, লালচে, কালো বা সোনালী শেড। কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে চুল রঙ করার জাদুকরী উপায় ও সঠিক পদ্ধতি জেনে নিন।
প্রাকৃতিক উপায়ে চুল রঙ করলে তা কেমিক্যাল ডাইয়ের মতো এক দিনেই চুলে গাঢ় রঙ আনে না, বরং নিয়মিত ব্যবহারে চুলে আনে এক অনন্য প্রাকৃতিক শেড, সেই সাথে চুলকে করে তোলে গোড়া থেকে মজবুত, সিল্কি ও উজ্জ্বল।
১. কালচে-বাদামী বা বারগান্ডি শেডের জন্য বিট ও গাজরের রস
যাঁরা চুলে হালকা লালচে, বারগান্ডি বা গাঢ় গোলাপী আভা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য বিটের রস অত্যন্ত কার্যকারী।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ১টি বড় বিট ও ১টি গাজর ভালোভাবে বেটে তার থেকে খাঁটি রস বের করে নিন। এর সাথে ১ চামচ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মেশান। মিশ্রণটি মাথার চুল ও স্ক্যাল্পে ভালোভাবে লাগিয়ে একটি শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন। অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা রাখার পর সাধারণ জল দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। কয়েকবার ব্যবহারে চুলে মিলবে চমৎকার ন্যাচারাল বারগান্ডি কালার।
২. চকোলেট ব্রাউন শেডের জন্য কফি ও লিকার চা
চুলে গাঢ় বাদামী বা চকোলেট ব্রাউন রঙের শেড আনতে কফি এবং গাঢ় লিকার চা পরম বন্ধু।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ কাপ জলে ৩-৪ চামচ কফি পাউডার এবং ২ চামচ চা পাতা ফুটিয়ে এক কাপে নামিয়ে ঘন ও গাঢ় লিকার বানিয়ে ঠাণ্ডা করুন। এর সাথে আপনার নিয়মিত ব্যবহার করা লিভ-ইন কন্ডিশনার মিশিয়ে চুলে সমানভাবে লাগিয়ে নিন। ১ ঘণ্টা পর হালকা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পাকা চুল ঢেকে চকচকে বাদামী রঙ আনতে এই টোটকা দারুণ কাজ করে।
৩. সোনালী বা হাইলাইটস লুকের জন্য ক্যামোমাইল চা ও পাতিলেবু
{{/usCountry}}চুলে গাঢ় বাদামী বা চকোলেট ব্রাউন রঙের শেড আনতে কফি এবং গাঢ় লিকার চা পরম বন্ধু।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ কাপ জলে ৩-৪ চামচ কফি পাউডার এবং ২ চামচ চা পাতা ফুটিয়ে এক কাপে নামিয়ে ঘন ও গাঢ় লিকার বানিয়ে ঠাণ্ডা করুন। এর সাথে আপনার নিয়মিত ব্যবহার করা লিভ-ইন কন্ডিশনার মিশিয়ে চুলে সমানভাবে লাগিয়ে নিন। ১ ঘণ্টা পর হালকা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পাকা চুল ঢেকে চকচকে বাদামী রঙ আনতে এই টোটকা দারুণ কাজ করে।
৩. সোনালী বা হাইলাইটস লুকের জন্য ক্যামোমাইল চা ও পাতিলেবু
{{/usCountry}}চুলে হালকা সোনালী বা গোল্ডেন ব্রাউন শেড আনতে ক্যামোমাইল টি এবং পাতিলেবুর রসের অম্লীয় উপাদান সাহায্য করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: ২ কাপ ফুটন্ত জলে ২টি ক্যামোমাইল টি ব্যাগ ভিজিয়ে ঘন লিকার তৈরি করুন। এতে ২ চামচ পাতিলেবুর রস মেশান। ধোয়া চুলে এই মিশ্রণটি স্প্রে করে বা ঢেলে দিন। সম্ভব হলে ২০-৩০ মিনিট রোদে বসুন, কারণ রোদের তাপে লেবু ও ক্যামোমাইল চুলের প্রাকৃতিক রঙের পিগমেন্টকে হালকা করে সোনালী আভা এনে দেয়।
৪. প্রাকৃতিক কালো ও মজবুত চুলের জন্য মেহেদি ও নীল পাতা (ইন্ডিগো)
মেহেদি (Henna) ও ইন্ডিগো (Indigo) পাউডারের প্রাকৃতিক মেলবন্ধন পাকা চুলকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে কুচকুচে কালো করতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: প্রথমে আগের রাতে ভিজিয়ে রাখা মেহেদি বা হেনা পেস্ট চুলে লাগিয়ে ২ ঘণ্টা রাখুন এবং জল দিয়ে ধুয়ে নিন (শ্যাম্পু করবেন না)। এতে চুল লালচে-বাদামী হবে। এর পরদিন ইন্ডিগো পাউডার ঈষদুষ্ণ জলে গুলে চুলে মেখে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুল প্রাকৃতিকভাবে একদম কালো ও চকচকে হয়ে উঠবে।
৫. প্রাকৃতিক পুষ্টির জন্য আখরোটের খোসা (Walnut Shells)
আখরোটের বাইরের শক্ত খোসা চুলে খুব গাঢ় বাদামী রঙ দিতে সক্ষম।
- ব্যবহারের পদ্ধতি: আখরোটের খোসা গুঁড়ো করে জলে ফুটিয়ে ঘন ক্বাথ বানিয়ে নিন। তরলটি ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিয়ে চুলে তুলার সাহায্যে লাগান। ১ ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেললে চুলে দীর্ঘস্থায়ী গাঢ় রঙ বজায় থাকে।
প্রাকৃতিক রঙ দীর্ঘদিন স্থায়ী রাখার কিছু টিপস
- উষ্ণ জল এড়িয়ে চলা: গরম জল দিয়ে চুল ধুলে চুলের প্রাকৃতিক রঙ দ্রুত উঠে যায়, তাই সর্বদা সাধারণ বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করুন।
- মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার: প্রাকৃতিক রঙের পর সালফেট-ফ্রি বা হার্বাল শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
- সাপ্তাহিক কন্ডিশনিং: রঙ বজায় রাখার পাশাপাশি সপ্তাহে একদিন ঘরে তৈরি হেয়ার প্যাক বা তেল দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন।
রাসায়নিক প্রসাধনীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সামান্য ধৈর্য ধরে নিয়মিত এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে চুল যেমন রঙিন হয়ে উঠবে, তেমনই বজায় থাকবে চুলের সতেজতা ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্য।