...
...
Next Story

নজর দোষ কাকে বলে? কোথা থেকে এল এই ধারণা? এটির প্রতিকারের রাস্তা কী

মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, নজর দোষ আসলে নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন। সবসময় আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং ইতিবাচক চিন্তা করাও এক ধরণের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

Published on: Feb 06, 2026 10:48 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

মানবসভ্যতার প্রাচীনতম বিশ্বাসগুলোর মধ্যে একটি হলো 'নজর দোষ' বা 'কু-দৃষ্টি'। অনেক সময় দেখা যায়, সব ঠিকঠাক চললেও হঠাৎ করে কাজে বাধা আসছে, শরীর খারাপ হচ্ছে বা অকারণ মানসিক অশান্তি গ্রাস করছে। এই ধরনের আকস্মিক নেতিবাচক পরিবর্তনকে জ্যোতিষশাস্ত্র ও লোকাচারে 'নজর দোষ' বলা হয়।

নজর দোষ কাকে বলে? কোথা থেকে এল এই ধারণা? এটির প্রতিকারের রাস্তা কী
নজর দোষ কাকে বলে? কোথা থেকে এল এই ধারণা? এটির প্রতিকারের রাস্তা কী

নজর দোষের শাস্ত্রসম্মত ব্যাখ্যা এবং এর থেকে মুক্তির উপায় জেনে নিন।

নজর দোষ আসলে কী?

জ্যোতিষশাস্ত্র ও শক্তিবিজ্ঞানের (Energy Science) মতে, প্রতিটি মানুষের শরীর থেকে এক ধরণের শক্তি বা আভা (Aura) নির্গত হয়। যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারো উন্নতি, সৌন্দর্য বা সুখ দেখে অত্যন্ত ঈর্ষান্বিত হন বা তীব্র কু-বাসনা পোষণ করেন, তখন তাঁর চোখ দিয়ে এক ধরণের নেতিবাচক তরঙ্গ নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর তরঙ্গ যখন সামনের ব্যক্তির রক্ষাকবচ বা অরা-কে ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে, তখনই তাকে 'নজর দোষ' বা 'Evil Eye' বলা হয়।

নজর দোষের সাধারণ কিছু লক্ষণ:

  • হঠাৎ করে প্রচণ্ড ক্লান্তি বা শরীর ভারী লাগা।
  • ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অকারণে কান্না করা বা দুধ খেতে না চাওয়া।
  • ব্যবসায় মন্দা বা কর্মক্ষেত্রে বার বার বাধা আসা।
  • বাড়িতে ঘনঘন কাঁচের জিনিস ভাঙা বা ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হওয়া।

প্রতিকারের উপায়: কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?

১. হনুমান চালিসা পাঠ

বজরংবলীকে সব ধরণের নেতিবাচক শক্তির বিনাশকারী মনে করা হয়। নিয়মিত হনুমান চালিসা পাঠ করলে শরীরের চারপাশে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক মন্ডল তৈরি হয়, যা কু-দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।

২. নুন-জলের প্রতিকার

স্নানের জলে এক চিমটি সামুদ্রিক নুন (Sea Salt) মিশিয়ে স্নান করলে শরীরের জমে থাকা নেতিবাচক শক্তি ধুয়ে যায়। এছাড়া শোওয়ার ঘরে একটি বাটিতে নুন রেখে দিলে তা ঘরের নেতিবাচকতা শুষে নেয়।

৩. কালো সুতো বা নজরবিন্দু

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কালো রঙ নেতিবাচক শক্তিকে শুষে নিতে পারে। তাই শিশুদের পায়ে বা হাতে কালো সুতো বাঁধা বা কানে কালো তিলক (নজরবিন্দু) দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

৪. লেবু ও লঙ্কার ব্যবহার

দোকান বা বাড়ির সদর দরজায় সাতটি লঙ্কা ও একটি লেবু গেঁথে ঝুলিয়ে দেওয়ার প্রথা অত্যন্ত প্রাচীন। মনে করা হয়, এটি বাইরের নেতিবাচক শক্তিকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

৫. কর্পূর ও ধুনো

সন্ধ্যাবেলায় ঘরে কর্পূর পোড়ানো বা ধুনো দিলে বাতাস শুদ্ধ হয় এবং অশুভ দৃষ্টির প্রভাব কেটে যায়।

আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি

মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, নজর দোষ আসলে নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন। সবসময় আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং ইতিবাচক চিন্তা করাও এক ধরণের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। তবে দীর্ঘস্থায়ী কোনো শারীরিক সমস্যা হলে প্রতিকারের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON