...
...
Next Story

নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে! শরীরে এই জীবাণু ঢুকেছে কি না কোন লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে

একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সঠিক সময়ে লক্ষণ চেনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

Published on: Jan 15, 2026 12:52 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) প্রকোপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী ভাইরাস, যা মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সঠিক সময়ে লক্ষণ চেনা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই পারে এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে! শরীরে এই জীবাণু ঢুকলে কোন লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে
নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে! শরীরে এই জীবাণু ঢুকলে কোন লক্ষণ দেখলে বোঝা যাবে

নিপা ভাইরাসের লক্ষণ, প্রতিকার ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে নিন।

নিপা ভাইরাস কী এবং কীভাবে ছড়ায়?

নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, ফ্রুট ব্যাট বা ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। সংক্রমিত বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকা ফল খেলে কিংবা সংক্রমিত শূকরের সংস্পর্শে এলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সংক্রমণের প্রধান লক্ষণগুলি কী কী?

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রধান উপসর্গগুলি হলো:

  • তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা: সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও এর তীব্রতা অনেক বেশি হয়।
  • শ্বাসকষ্ট: সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সর্দি, কাশি এবং মারাত্মক শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
  • মানসিক বিভ্রান্তি: আক্রান্ত ব্যক্তি ঝিমুনি অনুভব করতে পারেন এবং অনেক সময় চারপাশ সম্পর্কে সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন (Disorientation)।
  • খিঁচুনি ও এনসেফালাইটিস: পরিস্থিতি জটিল হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে, যা থেকে খিঁচুনি এবং রোগী কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?

২. স্বাস্থ্যকর্মী: আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল।

৩. প্রাণী পালক: বিশেষ করে যারা শূকর পালনের সাথে যুক্ত, তাদের বাড়তি সাবধানতা প্রয়োজন।

কীভাবে সাবধান হবেন? প্রতিরোধের উপায়

নিপা ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট টিকা বা অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই সচেতনতাই একমাত্র সুরক্ষা।

  • কাঁচা রস বর্জন: শীতকালে কাঁচা খেজুরের রস পান করা পুরোপুরি বন্ধ করুন। বাদুড় অনেক সময় রসের হাঁড়িতে মুখ দেয় বা প্রস্রাব করে।
  • ফল ধুয়ে খাওয়া: কোনো ফল খাওয়ার আগে তা ভালো করে ধুয়ে নিন। যদি কোনো ফলের গায়ে কামড়ের দাগ বা ছিদ্র থাকে, তবে তা ভুলেও খাবেন না।
  • হাত ধোয়ার অভ্যাস: সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
  • মাস্ক ব্যবহার: সংক্রমিত এলাকায় চলাচলের সময় বা রোগীর সংস্পর্শে গেলে অবশ্যই মাস্ক এবং গ্লাভস ব্যবহার করুন।

দরকারি কথা

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে। জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসার চেষ্টা না করে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, আগাম সতর্কতা ও সচেতনতাই নিপা ভাইরাসের মোকাবিলায় আমাদের প্রধান হাতিয়ার।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON