বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালেই যদি মুহূর্তের জন্য মাথা ঘুরে যায়, চোখ অন্ধকার লাগে বা ভারসাম্য হারাতে বসেন, তবে এই সমস্যাটিকে সাধারণত অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন (Orthostatic Hypotension) বা পোস্টুরাল হাইপোটেনশন (Postural Hypotension) বলা হয়। এটি একটি বেশ সাধারণ সমস্যা, তবে এর পেছনে কিছু গুরুতর কারণও থাকতে পারে।
এর কারণ কী?

এই সমস্যাটির প্রধান কারণ হলো রক্তচাপের দ্রুত পরিবর্তন। যখন আমরা বসে বা শুয়ে থাকি, রক্ত শরীরের নিম্নভাগে জমা হয়। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্ত দ্রুত নিচের দিকে নামে। স্বাভাবিক অবস্থায়, রক্তনালীগুলি দ্রুত সংকুচিত হয় এবং হৃদপিণ্ড দ্রুত স্পন্দিত হয়ে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে, যাতে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছায়।
কিন্তু যখন এই প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন:
- রক্তচাপের পতন: মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে রক্তের সরবরাহ কমে যায়।
- লক্ষণ: এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, চোখে অন্ধকার লাগা বা ভারসাম্যের অভাব অনুভূত হয়।
মাথা ঘোরার অন্যান্য সাধারণ কারণ:
১. ডিহাইড্রেশন (Dehydration): শরীরে জলের অভাব হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়।
২. কিছু ওষুধ: উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা মূত্রবর্ধক (Diuretics) ওষুধ খেলে এই সমস্যা হতে পারে।
৩. ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ুর ক্ষতি (Neuropathy) হলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
৪. হৃদরোগ: হার্ট ফেইলিউর বা হার্টের অন্যান্য সমস্যা থাকলে হৃদপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাম্প করতে পারে না।
{{/usCountry}}৪. হৃদরোগ: হার্ট ফেইলিউর বা হার্টের অন্যান্য সমস্যা থাকলে হৃদপিণ্ড দ্রুত রক্ত পাম্প করতে পারে না।
{{/usCountry}}৫. দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকা: অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এটি কতটা ভয়ের হতে পারে?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, বসে থাকা থেকে উঠে দাঁড়ালে সামান্য মাথা ঘোরা ক্ষণস্থায়ী এবং খুব বেশি ভয়ের কিছু নয়। এটি প্রায়শই ডিহাইড্রেশন বা ক্লান্তির কারণে হয়।
তবে, এটি তখন উদ্বেগের কারণ হতে পারে যখন:
- ঘন ঘন বা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া: যদি মাথা ঘোরা প্রায় প্রতিদিনই হয় বা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়।
- পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি: মাথা ঘোরার কারণে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- অন্যান্য উপসর্গ: যদি মাথা ঘোরার সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হার্টবিট অনিয়মিত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।
যদি আপনার এই সমস্যাটি ঘন ঘন হয়, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করে, ওষুধের তালিকা যাচাই করে বা রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারবেন।