...
...
Next Story

আতপ চাল নাকি সিদ্ধ চাল? কোনটি বেশি ভালো? কোনটি আপনার খাওয়া উচিত

চালের এই দুই রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিতর্কের শেষ নেই। পুষ্টিগুণ, স্বাদ এবং হজমক্ষমতা—সব দিক বিচার করে কোনটি সেরা? জেনে নিন।

Published on: Feb 23, 2026 01:26 PM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে চাল বা ভাত হলো প্রধান মেরুদণ্ড। তবে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা বা দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে যেখানে 'সিদ্ধ চাল' বা 'সেদ্ধ চাল' (Parboiled Rice) জনপ্রিয়, ভারতের বাকি অধিকাংশ রাজ্যে কিন্তু 'আতপ চাল' (Raw Rice/White Rice)-এর জয়জয়কার। চালের এই দুই রূপ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিতর্কের শেষ নেই। পুষ্টিগুণ, স্বাদ এবং হজমক্ষমতা—সব দিক বিচার করে কোনটি সেরা?

আতপ চাল নাকি সিদ্ধ চাল? কোনটি বেশি ভালো? কোনটি আপনি খাবেন
আতপ চাল নাকি সিদ্ধ চাল? কোনটি বেশি ভালো? কোনটি আপনি খাবেন

চালের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে ধান থেকে চাল তৈরির পদ্ধতির ওপর। ধানকে সরাসরি শুকিয়ে তুষ ছাড়িয়ে যে চাল পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় আতপ চাল। অন্যদিকে, ধানকে প্রথমে ভিজিয়ে, হালকা ভাপে সেদ্ধ করে তারপর শুকিয়ে যে চাল তৈরি হয়, তাকে বলা হয় সিদ্ধ চাল। এই সামান্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতিই দুই প্রকার চালের পুষ্টিগুণে বিশাল পার্থক্য তৈরি করে দেয়।

পুষ্টির লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

পুষ্টিবিদদের মতে, সিদ্ধ চাল আতপ চালের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এর কারণ হলো, যখন ধান সেদ্ধ করা হয়, তখন ধানের খোসা বা তুষের মধ্যে থাকা ভিটামিন এবং খনিজগুলো (যেমন ভিটামিন বি এবং পটাশিয়াম) চালের ভেতরে প্রবেশ করে।

সিদ্ধ চাল: এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফাইবার থাকে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) আতপ চালের চেয়ে কম, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না।

১. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য:

যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাঁদের জন্য সিদ্ধ চাল বা বিশেষ করে 'ব্রাউন রাইস' আদর্শ। সিদ্ধ চালে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকায় এটি রক্তে ধীরে ধীরে গ্লুকোজ মেশায়। আতপ চাল খুব দ্রুত হজম হয়ে রক্তে সুগার বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

২. হজমের সমস্যা থাকলে:

আতপ চাল খুব হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য। যাঁদের পেটের গোলমাল বা হজমে সমস্যা রয়েছে (যেমন ছোট শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি), তাঁদের জন্য আতপ চালের ভাত বেশি আরামদায়ক। তবে সিদ্ধ চাল হজম হতে কিছুটা বেশি সময় নেয়।

৩. ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে:

যাঁরা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য সিদ্ধ চাল সেরা। এতে থাকা ফাইবার পেট দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে, ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।

৪. হার্টের স্বাস্থ্য ও কোলেস্টেরল:

সিদ্ধ চালে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। হার্টের রোগীদের জন্য আতপ চালের চেয়ে সিদ্ধ চাল বা ঢেঁকি ছাঁটা চাল বেশি ফলপ্রসূ।

স্বাদের ভিন্নতা

আতপ চাল তার সুগন্ধ এবং ঝরঝরে ভাবের জন্য বিখ্যাত। পোলাও, বিরিয়ানি বা পায়েসের মতো সুস্বাদু পদে আতপ চালের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, সিদ্ধ চাল কিছুটা মোটা হয় এবং এর নিজস্ব কোনো তীব্র সুগন্ধ নেই, তবে প্রতিদিনের আহার হিসেবে এটি পেট ভরা রাখতে বেশি কার্যকর।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনি যদি কেবল স্বাদ ও সুগন্ধ চান, তবে আতপ চাল সেরা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য, রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ এবং পুষ্টির কথা ভাবলে সিদ্ধ চাল নিঃসন্দেহে বিজয়ীর মুকুট ছিনিয়ে নেবে। আধুনিক জীবনযাত্রায় যেখানে ডায়াবেটিস ও ওবেসিটি ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে, সেখানে সুস্থ থাকতে সিদ্ধ চালের ভাতের ওপর ভরসা রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON