...
...
Next Story

Pongal Date: পোঙ্গল কেন পালন করা হয়? এই বছর কবে হচ্ছে এই উৎসব

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ধুমধাম করে পালিত হয় 'পোঙ্গল'। এটি মূলত একটি কৃষিভিত্তিক উৎসব, যা কৃষকদের সমৃদ্ধি এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

Published on: Jan 13, 2026, 10:40:11 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ভারতবর্ষ বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশ। উত্তর ভারতে যখন মকর সংক্রান্তি বা বাংলায় পৌষ সংক্রান্তির মেজাজ, ঠিক সেই সময়েই দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ধুমধাম করে পালিত হয় 'পোঙ্গল'। এটি মূলত একটি কৃষিভিত্তিক উৎসব, যা কৃষকদের সমৃদ্ধি এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক।

পোঙ্গল কেন পালন করা হয়? এই বছর কবে হচ্ছে এই উৎসব
পোঙ্গল কেন পালন করা হয়? এই বছর কবে হচ্ছে এই উৎসব

২০২৬ সালে পোঙ্গল উৎসবের নির্ঘণ্ট এবং এর পেছনের ইতিহাস নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন।

পোঙ্গল ২০২৬: কেন পালিত হয় এই উৎসব এবং এর গুরুত্ব

'পোঙ্গল' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'উথলে পড়া' বা 'ফুটে ওঠা'। নতুন ধান ওঠার পর সেই চাল, দুধ এবং গুড় দিয়ে তৈরি এক বিশেষ মিষ্টান্ন (যা পোঙ্গল নামে পরিচিত) মাটির হাঁড়িতে রান্না করা হয়। যখন সেই মিশ্রণটি উথলে পড়ে, তখন পরিবারে সমৃদ্ধি আসার শুভ লক্ষণ হিসেবে মনে করা হয়।

এই বছর কবে পড়েছে পোঙ্গল?

২০২৬ সালে পোঙ্গল উৎসব শুরু হচ্ছে ১৪ জানুয়ারি, বুধবার থেকে এবং এটি চলবে ১৭ জানুয়ারি, শনিবার পর্যন্ত। প্রধান পোঙ্গল বা 'থাই পোঙ্গল' পালিত হবে ১৫ জানুয়ারি।

কেন পালন করা হয় এই উৎসব?

পোঙ্গল পালনের প্রধান তিনটি কারণ হলো:

১. প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা: কৃষকরা ভালো ফলন পাওয়ার জন্য সূর্যদেবতা এবং প্রকৃতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এটি আসলে প্রকৃতির আশীর্বাদকে উদযাপন করার দিন।

৩. গবাদি পশুর সম্মান: কৃষিকাজে গবাদি পশুর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই পোঙ্গলের অন্যতম দিনে গরু এবং বলদকে স্নান করিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় এবং তাদের পুজো করা হয়।

চার দিনের পোঙ্গল: প্রতিটি দিনের বিশেষত্ব

পোঙ্গল উৎসব মোট চার দিন ধরে পালিত হয়, যার প্রতিটি দিনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে:

  • ভোহি পোঙ্গল (১৪ জানুয়ারি): এই দিন পুরোনো আসবাবপত্র বা পোশাক পুড়িয়ে নতুনকে স্বাগত জানানো হয়। এটি এক প্রকার আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতার প্রতীক।
  • থাই পোঙ্গল (১৫ জানুয়ারি): এটি প্রধান উৎসবের দিন। সূর্য দেবতাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। বাড়ির সামনে আলপনা বা 'কোলম' আঁকা হয়।
  • মাত্তু পোঙ্গল (১৬ জানুয়ারি): এই দিনটি গবাদি পশুদের জন্য উৎসর্গ করা হয়। তাদের শিং রঙ করা হয় এবং গলায় মালা পরিয়ে পুজো করা হয়।
  • কানুম পোঙ্গল (১৭ জানুয়ারি): উৎসবের শেষ দিনটি হলো আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মেলামেশা এবং ভ্রমণের দিন। মহিলারা এই দিন বাড়ির সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ আচার পালন করেন।

শেষ কথা

পোঙ্গল কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানুষ এবং প্রকৃতির গভীর মেলবন্ধনের উৎসব। আধুনিক নগরায়নের ভিড়েও এই উৎসব আমাদের মাটির টানে ফিরে যেতে এবং অন্নদাতার সম্মান করতে শেখায়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON