...
...
Next Story

বেশি বয়সে বিস্মৃতির অসুখ থেকে বাঁচতে চান? এই নিয়মগুলি এখন থেকেই মানুন

এই রোগের কোনো নিশ্চিত নিরাময় নেই, তবে গবেষণায় প্রমাণিত যে, অল্প বয়স থেকেই জীবনযাত্রায় কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যুক্ত করলে মস্তিষ্কের রিজার্ভ বা সঞ্চয় বাড়ে এবং অ্যালজাইমার্স বা স্মৃতি লোপ পাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Published on: Nov 27, 2025, 11:13:06 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত রূপ হলো অ্যালজাইমার্স ডিজিজ (Alzheimer's Disease)। এটি একটি প্রগতিশীল রোগ, যা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। যদিও এই রোগের কোনো নিশ্চিত নিরাময় নেই, তবে গবেষণায় প্রমাণিত যে, অল্প বয়স থেকেই জীবনযাত্রায় কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস যুক্ত করলে মস্তিষ্কের রিজার্ভ বা সঞ্চয় বাড়ে এবং অ্যালজাইমার্স বা স্মৃতি লোপ পাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বেশি বয়সে বিস্মৃতির অসুখ থেকে বাঁচতে চান? এই নিয়মগুলি এখন থেকেই মানুন
বেশি বয়সে বিস্মৃতির অসুখ থেকে বাঁচতে চান? এই নিয়মগুলি এখন থেকেই মানুন

মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ ও সচল রাখতে কী কী কাজ করা উচিত এবং কোনগুলি এড়িয়ে চলা উচিত, তার বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

করণীয়: যে অভ্যাসগুলি মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখে

১. মানসিক উদ্দীপনা (Mental Stimulation)

মস্তিষ্ককে সব সময় চ্যালেঞ্জের মুখে রাখুন। এটি নিউরাল সংযোগকে শক্তিশালী করে এবং 'কগনিটিভ রিজার্ভ' বাড়ায়।

  • যা করবেন: নতুন ভাষা বা বাদ্যযন্ত্র শেখা, নিয়মিত সুডোকু বা ধাঁধা সমাধান করা, বই পড়া, অথবা নতুন দক্ষতা অর্জন করা।

২. শারীরিক ব্যায়াম (Physical Exercise)

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করে।

  • যা করবেন: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের অ্যারোবিক ব্যায়াম (যেমন দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো) করুন। এটি মস্তিষ্কে রক্ত ​​সঞ্চালন বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং নতুন নিউরনের বৃদ্ধি (BDNF) উৎসাহিত করে।

৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (MIND Diet)

খাবার মস্তিষ্কের জন্য জ্বালানি। 'MIND Diet' (Mediterranean এবং DASH ডায়েটের মিশ্রণ) মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী।

  • যা করবেন: সবুজ শাকসবজি, বেরি জাতীয় ফল, বাদাম (আখরোট), অলিভ অয়েল এবং ফ্যাটি ফিশ (যেমন স্যালমন বা ইলিশ, যা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ) বেশি করে খান। রেড মিট, মাখন এবং মিষ্টি সীমিত করুন।

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের বেলার টক্সিন (Amyloid Plaque, যা অ্যালজাইমার্সের কারণ) পরিষ্কার করে।

  • যা করবেন: প্রতিদিন রাতে ৭-৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের ব্যবস্থা করুন। ঘুমের সময়সূচি নিয়মিত রাখুন।

৫. সামাজিক সংযোগ (Social Engagement)

একাকিত্ব এবং বিচ্ছিন্নতা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

  • যা করবেন: বন্ধু, পরিবার বা সমাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকুন। নতুন সামাজিক বৃত্ত তৈরি করুন।

বর্জনীয়: যে অভ্যাসগুলি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে

১. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ (Chronic Stress)

অতিরিক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।

  • যা বর্জনীয়: অতিরিক্ত স্ট্রেস সৃষ্টিকারী পরিস্থিতি এড়িয়ে চলুন। কারণ স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস (স্মৃতির কেন্দ্র) সঙ্কুচিত করে।

২. ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান (Smoking and Drinking Alcohol)

এই দুটি অভ্যাস সরাসরি মস্তিষ্কের কোষ এবং রক্তনালীগুলির ক্ষতি করে।

  • যা বর্জনীয়: ধূমপান এবং মদ্যপান পুরোপুরি ত্যাগ করুন। মদ্যপান মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস দ্রুত করে।

৩. অলস জীবনযাপন (Sedentary Lifestyle)

শারীরিক অলসতা মস্তিষ্ককে অলস করে তোলে।

  • যা বর্জনীয়: একটানা বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম না করা পুরোপুরি ত্যাগ করুন। প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর চেয়ার থেকে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটুন।

৪. উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা (High Blood Pressure, Diabetes and Obesity)

যে সমস্ত রোগ মস্তিষ্কের রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তা অ্যালজাইমার্সের ঝুঁকি বাড়ায় (অনেক বিশেষজ্ঞ অ্যালজাইমার্সকে 'টাইপ ৩ ডায়াবেটিস' বলে থাকেন)।

  • যা বর্জনীয়: প্রক্রিয়াজাত চিনিযুক্ত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ফাস্ট ফুড খাওয়া কমিয়ে দিন। রক্তে শর্করা এবং রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON