...
...
Next Story

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি পোস্ট করতে বা কিছু লিখতে পছন্দ করেন না? আপনি মানুষটা কেমন

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সম্পর্কে কিছু লিখতে বা ছবি পোস্ট করতে না চাওয়ার প্রবণতা কোনো অস্বাভাবিকতা নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ।

Published on: Nov 05, 2025 08:27 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আধুনিক যুগে যখন জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়, তখন এমন অনেকেই আছেন যারা ব্যক্তিগত ছবি বা মনের কথা অনলাইনে প্রকাশ করতে স্বচ্ছন্দ নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের সম্পর্কে কিছু লিখতে বা ছবি পোস্ট করতে না চাওয়ার প্রবণতা কোনো অস্বাভাবিকতা নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ। মনোবিদ্যা এই প্রবণতাকে কীভাবে ব্যাখ্যা করে, তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি পোস্ট করতে বা কিছু লিখতে পছন্দ করেন না? আপনার সম্পর্কে কী বলছে মনোবিদ্যা
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ছবি পোস্ট করতে বা কিছু লিখতে পছন্দ করেন না? আপনার সম্পর্কে কী বলছে মনোবিদ্যা

১. গোপনীয়তা রক্ষার প্রবণতা (Privacy Preference)

সোশ্যাল মিডিয়ায় নীরব থাকার এটি সবচেয়ে সাধারণ কারণ। কিছু মানুষ স্বভাবতই ব্যক্তিগত তথ্য বা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন না।

  • মনস্তত্ত্বের দিক: এঁরা মনে করেন, ব্যক্তিগত জীবন ব্যক্তিগতই থাকা উচিত। এঁদের মধ্যে 'গোপনীয়তার প্রয়োজন' (Need for Privacy) খুব তীব্র থাকে। এঁরা মনে করেন, যত কম তথ্য অনলাইনে থাকবে, ততই তাঁরা সুরক্ষিত থাকবেন।

২. অভ্যন্তরীণ মনোযোগ বা অন্তর্মুখিতা (Introversion)

যেসব ব্যক্তি স্বভাবগতভাবে অন্তর্মুখী, তাঁরা সাধারণত মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চান না।

  • মনস্তত্ত্বের দিক: অন্তর্মুখী ব্যক্তিরা সামাজিক মেলামেশার চেয়ে নিজের ভেতরের জগতে বেশি স্বচ্ছন্দ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করা বা নিজেকে জাহির করা তাঁদের কাছে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। তাঁরা মানসিকভাবে শান্তি পেতে চান এবং ভার্চুয়াল জগতের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন।

৩. সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ এড়ানো (Avoiding Social Pressure)

৪. নিরাপত্তাহীনতা এবং বিচারের ভয় (Fear of Judgment)

কিছু ক্ষেত্রে, ছবি পোস্ট করতে বা ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতে না চাওয়ার কারণ হতে পারে অপরের সমালোচনার ভয়।

  • মনস্তত্ত্বের দিক: এঁরা চান না যে তাদের ছবি বা মতামতের ভিত্তিতে অন্য কেউ তাদের বিচার করুক বা সমালোচনা করুক। এই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা (Insecurity) কাজ করতে পারে।

৫. 'পোস্ট-করে-দেওয়া' সংস্কৃতিতে অনীহা (Disinterest in 'Sharing Culture')

অনেক ব্যবহারকারী বর্তমান অনলাইন সংস্কৃতিতে আগ্রহী নন।

  • মনস্তত্ত্বের দিক: তাঁরা মনে করেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অনলাইনে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। তাঁরা সরাসরি বাস্তব জীবনে সম্পর্ক স্থাপন এবং অভিজ্ঞতা অর্জনে বিশ্বাসী।

উপসংহারে বলা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা ব্যক্তিগত বিষয় পোস্ট না করা কোনোভাবেই নেতিবাচক প্রবণতা নয়। এটি ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দ, মনস্তত্ত্ব এবং জীবনধারা থেকে উদ্ভূত একটি স্বাভাবিক আচরণ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON