...
...
Next Story

সেলফি বেশি তোলেন কারা? এই অভ্যাস কি মনের গড়ন বা ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন? মনোবিজ্ঞান কী বলছে?

সব বয়সের মানুষই এখন সেলফি তুলে নিজেদের জীবনের মুহূর্তগুলি তুলে ধরেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন যে, কেন কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে বেশি সেলফি তোলেন এবং এই অভ্যাস তাদের মনের গড়ন বা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়।

Published on: Dec 14, 2025, 09:24:59 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে 'সেলফি' (Selfie) একটি বিশ্বজনীন ঘটনা। অল্প বয়স থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষই এখন সেলফি তুলে নিজেদের জীবনের মুহূর্তগুলি তুলে ধরেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন যে, কেন কিছু মানুষ অন্যদের চেয়ে বেশি সেলফি তোলেন এবং এই অভ্যাস তাদের মনের গড়ন বা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়।

সেলফি বেশি তোলেন কারা? এই অভ্যাস কি মনের গড়ন বা ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন
সেলফি বেশি তোলেন কারা? এই অভ্যাস কি মনের গড়ন বা ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন

অতিরিক্ত সেলফি তোলার প্রবণতা এবং মনোবিজ্ঞানসম্মত কারণগুলো কী কী, জেনে নিন।

১. সেলফি এবং ব্যক্তিত্বের সম্পর্ক: মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ

মনোবিজ্ঞানীরা সেলফি তোলার প্রবণতাকে ব্যক্তিত্বের কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন:

ক. নার্সিসিজম (Narcissism)

  • সংজ্ঞা: নার্সিসিজম হলো নিজের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা, প্রশংসা পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করার একটি বৈশিষ্ট্য।
  • মনোবিজ্ঞান যা বলে: বহু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিতভাবে নিজেদের বহু সেলফি তোলেন এবং সেগুলি সম্পাদনা (Edit) করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, তাদের মধ্যে নার্সিসিজমের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। সেলফি তাদের নিজেদের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করার একটি মাধ্যম।

খ. সাইকোপ্যাথি (Psychopathy) এবং ম্যাকিয়াভেলিয়ানিজম (Machiavellianism)

  • ডার্ক ট্রায়াড (Dark Triad): নার্সিসিজম, সাইকোপ্যাথি (সহানুভূতির অভাব ও অন্যের প্রতি উদাসীনতা) এবং ম্যাকিয়াভেলিয়ানিজম (স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধূর্ততা ও ছলনা) এই তিনটি নেতিবাচক ব্যক্তিত্বের লক্ষণকে একত্রে 'ডার্ক ট্রায়াড' বলা হয়।
  • গবেষণার ফল: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, সেলফি বেশি তোলার প্রবণতা এবং সেলফি এডিটিং-এর সঙ্গে এই ডার্ক ট্রায়াডের লক্ষণগুলির সম্পর্ক রয়েছে। যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য দ্রুত সেলফি তোলেন বা এডিট করেন, তাদের মধ্যে এই নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যেতে পারে।

ঘ. বহির্মুখীতা (Extraversion)

  • সামাজিকতা: যারা বহির্মুখী বা এক্সট্রোভার্ট, তারা সাধারণত সামাজিক পরিস্থিতিতে নিজেদের যুক্ত করতে পছন্দ করেন। সেলফি তাদের কাছে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার একটি মাধ্যম। এই ধরনের ব্যক্তিরা নার্সিসিস্টিক নাও হতে পারেন, বরং তারা সামাজিক যোগাযোগ এবং অন্যদের সঙ্গে মুহূর্ত ভাগ করে নিতে ভালোবাসেন।

২. কারা বেশি সেলফি তোলেন? (লিঙ্গ ও বয়স অনুসারে)

  • লিঙ্গ: গবেষণায় সাধারণত দেখা গেছে, পুরুষদের চেয়ে মহিলারা বেশি সেলফি তোলেন। তবে, পুরুষদের মধ্যে যারা নার্সিসিস্টিক প্রবণতার, তারা নার্সিসিস্টিক মহিলাদের চেয়ে বেশি ঘন ঘন সেলফি পোস্ট করেন।
  • বয়স: অল্পবয়সী (বিশেষত কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক) ব্যক্তিদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, কারণ এই বয়সে সামাজিক স্বীকৃতি ও আত্ম-উপস্থাপন (Self-Presentation) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩. উপসংহার: একটি সতর্কতা

অতিরিক্ত সেলফি তোলার প্রবণতা সবসময় মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ নয়। এটি কেবল সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া বা নিজের আনন্দ প্রকাশ করার একটি সাধারণ উপায়ও হতে পারে। তবে যখন এই অভ্যাসটি অতিরিক্ত মাত্রায় চলে যায় এবং এর পেছনে কেবল অন্যের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কাজ করে, তখনই মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে মনোযোগ আকর্ষণের বা নেতিবাচক ব্যক্তিত্বের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখেন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON