...
...
Next Story

মিষ্টিমুখে কাটবে রাখিবন্ধন, বাড়বে না সুগার! হেলথ-কনশাস ভাই-বোনের জন্য ৭টি হেলদি মিষ্টির রেসিপি

আপনার প্রিয় ভাই বা বোন যদি হেলথ-কনশাস হন বা সুগার ইনটেক নিয়ে সচেতন থাকেন, তবে উৎসবের আনন্দ মাটি করার একেবারেই প্রয়োজন নেই!

Published on: Aug 25, 2026, 08:20:37 IST
Advertisement

ভাই-বোনের স্নেহের বন্ধন উদযাপন করার অন্যতম সেরা পার্বণ হলো রক্ষা বন্ধন (Raksha Bandhan)। রাখির পবিত্র সুতো হাতে বাঁধার পরেই ভাই বা বোনের মুখ মিষ্টি করার প্রথা বহু শতক ধরে চলে আসছে। তবে আজকের দিনে যখন অনেকেই শারীরিক ফিটনেস, ডায়েট কন্ট্রোল কিংবা ডায়াবেটিসের কারণে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি খাওয়া এড়িয়ে চলেন, সেখানে ঐতিহ্যবাহী দোকান থেকে কেনা রিফাইন করা চিনি ও কৃত্রিম রঙ দেওয়া মিষ্টি উপহার দেওয়া অনেকের জন্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মিষ্টিমুখে কাটবে রাখিবন্ধন, বাড়বে না সুগার! ৭টি হেলদি মিষ্টির রেসিপি
মিষ্টিমুখে কাটবে রাখিবন্ধন, বাড়বে না সুগার! ৭টি হেলদি মিষ্টির রেসিপি

আপনার প্রিয় ভাই বা বোন যদি হেলথ-কনশাস হন বা সুগার ইনটেক নিয়ে সচেতন থাকেন, তবে উৎসবের আনন্দ মাটি করার একেবারেই প্রয়োজন নেই! এই রক্ষা বন্ধনে সাদা রিফাইন করা চিনি এড়িয়ে প্রকৃতিপ্রদত্ত প্রাকৃতিক মিষ্টি (যেমন—খেজুর, গুড়, ডুমুর ও ডার্ক চকলেট) দিয়ে খুব সহজেই ঘরে তৈরি করে ফেলতে পারেন সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর মিষ্টি। সুস্থতার সাথে স্বাদ বজায় রাখতে হেলথ-কনশাস ভাই-বোনের জন্য ৭টি সুস্বাদু ও হেলদি মিষ্টির স্পেশাল আইডিয়া নিচে তুলে ধরা হলো।

১. ড্রাই ফ্রুটস ও খেজুরের লাড্ডু (Sugar-Free Date & Dry Fruit Laddu)

সম্পূর্ণ চিনি ছাড়া তৈরি এই লাড্ডু কেবল সুস্বাদু নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর।

  • তৈরির উপাদান: বীজ ছাড়ানো খুরমা খেজুর, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম (Almond), পেস্তা ও সামান্য খাঁটি ঘি।
  • স্বাস্থ্য উপকারিতা: খেজুর প্রাকৃতিক মিষ্টির যোগান দেয় এবং ফাইবার ও আয়রনে ভরপুর। বাদাম থেকে মেলে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন। যারা ডায়েটে আছেন, তাদের শক্তি যোগাতে এটি আদর্শ।

২. আঞ্জীর বা ডুমুরের বারফি (Anjeer Roll / Burfi)

৩. নারকেল ও তালগুড়/নলেন গুড়ের সন্দেশ (Coconut & Jaggery Sandesh)

বাঙালি উৎসবে সন্দেশ থাকবে না তা তো হতে পারে না! চিনি ছাড়া খাঁটি তালগুড় বা গুড় দিয়ে ছানার তৈরি সন্দেশ স্বাস্থ্যের দিক থেকে অত্যন্ত নিরাপদ।

  • তৈরির উপাদান: কম ফ্যাটযুক্ত দুধের টাটকা ছানা, কোড়ানো নারকেল এবং ভেলী বা তালগুড়।
  • স্বাস্থ্য উপকারিতা: গুড়ে রিফাইন করা চিনির মতো ক্ষতিকর প্রভাব থাকে না; এতে আয়রন ও খনিজ উপাদান প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।

৪. ওটস ও শণবীজের (Flaxseed) রাঘবশাহী পেঁড়া

প্রথাগত মাওয়ার পেঁড়ার বিকল্প হিসেবে ওটস ও দানাদার শণবীজ দিয়ে তৈরি পেঁড়া সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

  • তৈরির উপাদান: ড্রাই রোস্ট করা ওটস পাউডার, ভাজা শণবীজ, সামান্য ড্রাই ফ্রুটস এবং মিষ্টির জন্য খাঁটি মধু বা স্টিভিয়া (Stevia)।
  • স্বাস্থ্য উপকারিতা: ওটসে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার (Beta-glucan) এবং শণবীজের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্ট ভালো রাখে ও কোলেস্টেরল কমায়।

৫. রাগী ও বাদামের হেলদি লাড্ডু (Ragi & Peanut Laddu)

রাগী বা মারুয়া একটি সুপারফুড হিসেবে পরিচিত। এর সাথে চিনা বাদাম মিশিয়ে তৈরি লাড্ডু খেতে দারুণ মচমচে হয়।

  • তৈরির উপাদান: রাগীর আটা, ভাজা চিনা বাদামের গুঁড়ো, সামান্য গুড় এবং এলাচ গুঁড়ো।
  • স্বাস্থ্য উপকারিতা: রাগী ক্যালসিয়াম ও ফাইবারের খনি। এটি ধীরে ধীরে রক্তে শর্করা নির্গত করে, ফলে সুগার স্পাইক (Sugar Spike) হওয়ার কোনো ঝুঁকি থাকে না।

৬. ডার্ক চকলেট ও বাদামের কোকোনাট বাইটস (Dark Chocolate & Almond Bites)

কনিষ্ঠ ভাই বা বোনের মিষ্টির পাতে চকলেটের ছোঁয়া আনতে চাইলে এটি সেরা বিকল্প।

  • তৈরির উপাদান: ৭০% বা তার বেশি ডার্ক চকলেট (Dark Chocolate), শুকনো কোড়ানো নারকেল ও কাঠবাদামের কুচি।
  • স্বাস্থ্য উপকারিতা: অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেটে চিনির পরিমাণ নগণ্য থাকে। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং মুড ভালো করতে দারুণ কাজ করে।

৭. ছানার লো-ক্যালোরি মিষ্টি দই / পায়েস (Low-Calorie Cottage Cheese Kheer)

দুধ ঘন করে তৈরি প্রথাগত পায়েসে প্রচুর ক্যালোরি থাকে। তাই ফ্যাট-ফ্রি মিল্ক ও স্টিভিয়া দিয়ে তৈরি ছানার পায়েস একটি দারুণ রিফ্রেশিং ডিশ হতে পারে।

  • তৈরির উপাদান: টোনড মিল্ক, হালকা চটকানো লো-ফ্যাট ছানা, এলাচ এবং মিষ্টির জন্য প্রাকৃতিক স্টিভিয়া লিফ বা পাউডার।
  • স্বাস্থ্য উপকারিতা: প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ এই ডিশ শরীর ঠান্ডা রাখে এবং ক্যালোরি সচেতন ব্যক্তিদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে।

স্বাস্থ্যকর মিষ্টি পরিবেশনের কিছু দরকারি টিপস:

  • পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ (Portion Control): মিষ্টি যত স্বাস্থ্যকরই হোক না কেন, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
  • কৃত্রিম সুইটনার এড়ান: অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত কৃত্রিম সুইটনারের বদলে ন্যাচারাল স্টিভিয়া বা কাঁচা মধু ব্যবহার করা শ্রেয়।

উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো আনন্দ এবং ভালোবাসার আদান-প্রদান। এই ২০২৬ সালের রক্ষা বন্ধনে রিফাইন করা ক্ষতিকর চিনিকে 'না' বলে এই ৭টি পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ঘরে তৈরি মিষ্টি দিয়ে ভাই-বোনের মুখ মিষ্টি করান। এতে মিষ্টির আমেজও বজায় থাকবে, আবার প্রিয়জনের স্বাস্থ্যের যত্নও নেওয়া সম্ভব হবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON