...
...
Next Story

সবুজ নাকি লাল, কোন আঙুর খাওয়া আপনার জন্য লাভের হবে? জেনে নিয়ে তবে খান

উভয়েরই নিজস্ব স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু পুষ্টিগত দিক থেকে কোন ধরনের আঙুর খাওয়া বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে।

Published on: Dec 17, 2025, 09:40:41 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আঙুর (Grapes) একটি সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় ফল, যা তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidants) এবং পুষ্টিগুণের জন্য সুপরিচিত। বাজারে প্রধানত সবুজ (Green) এবং লাল (Red/Black) দুই ধরনের আঙুর পাওয়া যায়। উভয়েরই নিজস্ব স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু পুষ্টিগত দিক থেকে কোন ধরনের আঙুর খাওয়া বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে।

সবুজ নাকি লাল, কোন আঙুর খাওয়া আপনার জন্য লাভের হবে? জেনে নিয়ে তবে খান
সবুজ নাকি লাল, কোন আঙুর খাওয়া আপনার জন্য লাভের হবে? জেনে নিয়ে তবে খান

লাল এবং সবুজ আঙুরের পুষ্টিগত তুলনা এবং স্বাস্থ্যের জন্য কোন ধরনের আঙুর বেশি উপকারী, জেনে নিন।

১. পুষ্টিগত প্রোফাইল: মিল ও অমিল

সবুজ এবং লাল আঙুর উভয়ই মূলত জল, প্রাকৃতিক শর্করা এবং উচ্চ মাত্রার ভিটামিন 'সি' ও ভিটামিন 'কে' এর ভালো উৎস। ক্যালোরি এবং ফাইবারের (Fiber) দিক থেকেও তারা প্রায় সমান। তবে তাদের রঙের পার্থক্যের কারণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রোফাইলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

বৈশিষ্ট্যসবুজ আঙুর (Green Grapes)লাল আঙুর (Red Grapes)
রঙের কারণফ্ল্যাভোনয়েডস (Flavonoids) এবং অন্যান্য যৌগ।অ্যান্থোসায়ানিনস (Anthocyanins)
প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্টক্যাটেচিনস (Catechins), কুইভারসেটিন (Quercetin)রেসভেরাট্রল (Resveratrol), কোয়ারসেটিন, অ্যান্থোসায়ানিনস
স্বাদসাধারণত মিষ্টি এবং কিছুটা টক।বেশি মিষ্টি এবং তীব্র স্বাদযুক্ত।

২. লাল আঙুর কেন বেশি উপকারী? (রেসভেরাট্রলের ভূমিকা)

ক. হৃদরোগ প্রতিরোধ (Cardiovascular Health)

রেসভেরাট্রল: এই যৌগটি রক্তনালীর আস্তরণের ক্ষতি রোধ করে, রক্ত জমাট বাঁধা কমায় এবং খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হৃদরোগ (Heart Disease) এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

খ. দীর্ঘায়ু এবং বার্ধক্য প্রতিরোধ

রেসভেরাট্রল তার অ্যান্টি-এজিং (Anti-Aging) বা বার্ধক্য প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত। এটি কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং দীর্ঘায়ু লাভে সহায়তা করতে পারে।

গ. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য

লাল আঙুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা (Cognitive Function) এবং স্মৃতিশক্তিকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

৩. সবুজ আঙুরের উপকারিতা

সবুজ আঙুরও যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর এবং এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস যৌগগুলিও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে:

ভিটামিন কে: সবুজ আঙুরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন K থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে এবং হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কোয়ারসেটিন: এতে কোয়ারসেটিন থাকে, যা প্রদাহবিরোধী (Anti-inflammatory) এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত।

৪. শেষ কথা

সাধারণভাবে বলা যায়, লাল আঙুর (Red Grapes) রেসভেরাট্রলের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে সামান্য বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে, বিশেষ করে হৃদযন্ত্র এবং বার্ধক্য প্রতিরোধের ক্ষেত্রে।

তবে, পুষ্টিবিদদের মতে, যেকোনো ধরনের আঙুরই একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি যে ধরনের আঙুর সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন, তা নিয়মিত খাওয়া এবং অন্যান্য ফল ও সবজির সাথে এটিকে খাদ্যতালিকায় রাখা।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON