...
...
Next Story

কাঁচা ডিম বা অর্ধসিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের কি কোনও ক্ষতি হয়? জেনে নিন

ডিম সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ বা ভাজা না করে খাওয়ার অভ্যাসের পেছনে লুকিয়ে থাকা বিপদগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

Published on: Dec 14, 2025 09:47 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

ডিম হলো প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজে পরিপূর্ণ একটি সুপারফুড। কিন্তু এই ডিম যদি সঠিকভাবে রান্না না করা হয়—যেমন হাফ বয়েল (Half-Boiled), সফট বয়েল (Soft-Boiled), বা কাঁচা অবস্থায় (Raw Egg) খাওয়া হয়—তবে তা স্বাদের পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বয়ে নিয়ে আসতে পারে। ডিম সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধ বা ভাজা না করে খাওয়ার অভ্যাসের পেছনে লুকিয়ে থাকা বিপদগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

কাঁচা ডিম বা অর্ধসিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের কি কোনও ক্ষতি হয়? জেনে নিন
কাঁচা ডিম বা অর্ধসিদ্ধ ডিম খেলে শরীরের কি কোনও ক্ষতি হয়? জেনে নিন

হাফ বয়েল বা কাঁচা ডিম খেলে শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে, তা জেনে নিন।

১. প্রধান ঝুঁকি: সালমোনেলা সংক্রমণ (Salmonella Contamination)

কাঁচা বা আধ-সিদ্ধ ডিম খাওয়ার সবচেয়ে বড় এবং গুরুতর ঝুঁকি হলো সালমোনেলা এন্টারিকা (Salmonella enterica) নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণ।

  • সংক্রমণের উৎস: সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া মুরগির ডিম্বাশয়ে বা ডিম পাড়ার সময় ডিমের খোসার মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে। ভালোভাবে রান্না না করা হলে, এই ব্যাকটেরিয়াগুলি ডিমের ভেতরে জীবিত থাকে।
  • লক্ষণ: সালমোনেলা সংক্রমণকে ফুড পয়জনিং (Food Poisoning) বা খাদ্যবাহিত রোগ বলা হয়। এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—তীব্র পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া, জ্বর এবং ডিহাইড্রেশন। গুরুতর ক্ষেত্রে, এটি রক্ত প্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে জীবনও বিপন্ন করতে পারে।

২. বায়োটিন ঘাটতি (Biotin Deficiency)

কাঁচা ডিমে আরেকটি সমস্যা হলো পুষ্টি উপাদানের শোষণ হ্রাস।

  • অ্যাভিডিন: ডিমের সাদা অংশে (Egg White) অ্যাভিডিন (Avidin) নামে একটি প্রোটিন থাকে। এই অ্যাভিডিন, ভিটামিন B সেভেন বা বায়োটিন (Biotin)-এর সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে যায়।
  • শোষণে বাধা: কাঁচা অবস্থায় অ্যাভিডিন তার স্বাভাবিক ধর্ম বজায় রাখে, ফলে এটি বায়োটিনকে শরীর দ্বারা শোষিত হতে দেয় না। বায়োটিন চুল, ত্বক এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যাবশ্যক। রান্না করার সময় তাপের প্রভাবে অ্যাভিডিন নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, ফলে বায়োটিন সম্পূর্ণভাবে শোষিত হতে পারে।

৩. প্রোটিন হজমে অসুবিধা

কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি মারাত্মক হতে পারে:

  • শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি: এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায়, সালমোনেলা সংক্রমণ হলে পরিস্থিতি দ্রুত গুরুতর হতে পারে।
  • গর্ভবতী মহিলা: সংক্রমণ মা এবং অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে।
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল: এই ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

৫. নিরাপদ সমাধান: সম্পূর্ণ রান্না

  • ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে এবং ঝুঁকি এড়াতে ডিমকে সম্পূর্ণভাবে রান্না করা উচিত। ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম সম্পূর্ণরূপে জমাট না হওয়া পর্যন্ত রান্না করা হলে, ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলি মারা যায়।

হাফ বয়েল বা কাঁচা ডিম স্বাদের জন্য প্রিয় হতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে সম্পর্কিত সালমোনেলা সংক্রমণ এবং বায়োটিন ঘাটতির মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলি উপেক্ষা করা উচিত নয়। নিরাপদ থাকার জন্য, ডিমকে সম্পূর্ণ সিদ্ধ, পোচ বা ভাজা করে খাওয়াই স্বাস্থ্যকর এবং বুদ্ধিমানের কাজ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON