আগামী ৬,৭,৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ ও জি.ডি.বিড়লা সভাগার -এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সহজ পরব এর অষ্টম সংস্করণ। প্রাণের শহর কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে অন্যতম এই 'সহজ পরব'। দোহার এবং লোপামুদ্রা মিত্র প্রোডাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে প্যালেস্টাইনের সুরের রেশ থেকে বাংলার কীর্তন, বাউল মণিপুরের নাচ থেকে ,রণপা, মুখোশ ডান্স এই সব মিলে তৈরি করবে এক অসাধারণ ঐকতান।

তিনদিনের এই পরবের প্রথম দিন (বিকেল ৪টে থেকে) ভারতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে হবে সূচনা। থাকছে সহজ যাত্রা। মুর্শিদাবাদের ঢাক, ঝুমুর, বিহু, শ্রীখোল সব মিলিয়ে সুরের এক মায়াজাল বুনবে। পরে থাকছে সহজ পরব সম্মান খোদা বক্স ফকিরকে, এর পর দিনাজপুরের মুখা নৃত্য, কাটোয়া এর রণপা, গাজন, তুলিকা মন্ডল ও টুম্পা বর্মনের বাংলার নারীশ্বর।
পরের দুদিন অনুষ্ঠান জি.ডি.বিড়লা সভাঘরে।
দ্বিতীয় দিন (৭ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৫টা) থাকছে কীর্ত্তনে পারভীন সুলতানা, পরে রিভার ফ্রম দ্যা ইস্ট - আক্রম আব্দুলফতেহ (প্যালেস্টাইন এর বেহালা বাদক), সর্বশেষে নিমাদ।
তৃতীয় দিনে বাউল গানে লক্ষণ দাস বাউল, মিহুন ( দ্যা পাল্স ), মণিপুর, পরে প্রল্হাড সিং টিপানিয়া ও পার্বতী বাউল এর যুগলবন্দী।
সবশেষে হরিনাম সংকীর্তন দিয়ে সহজ পরব সিজন আটের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
২০১৪ সালে লোপামুদ্রা মিত্র এবং কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে দোহারের নানা আলোচনা এবং পরিকল্পনার ফলস্বরূপ জন্ম নিয়েছিল 'সহজ পরব'। সেই অর্থে এ বছর সহজ পরব বারো বছরে পড়ল। নানা বাঁধা পেড়িয়ে এই উৎসব শীতের শেষে এক ঝলক বসন্তের বাতাস নিয়ে হাজির হচ্ছে শহরের সংস্কৃতি প্রেমী মানুষের কাছে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য উপমহাদেশের লোকশিল্পের ধারা গুলির উদযাপনের মধ্যে দিয়ে তার প্রচার ও প্রসার ঘটানো। এই প্রজন্মের শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে নানান লোকশিল্প সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানো এবং এমন একটি মঞ্চ নির্মাণ করা যেখানে দেশের নানা প্রান্তের লোক শিল্পীদের পাশাপাশি জনপ্রিয় লোক শিল্পীদেরও এক ছাদের নীচে আনা সম্ভব।
{{/usCountry}}এই উদ্যোগের লক্ষ্য উপমহাদেশের লোকশিল্পের ধারা গুলির উদযাপনের মধ্যে দিয়ে তার প্রচার ও প্রসার ঘটানো। এই প্রজন্মের শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে নানান লোকশিল্প সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানো এবং এমন একটি মঞ্চ নির্মাণ করা যেখানে দেশের নানা প্রান্তের লোক শিল্পীদের পাশাপাশি জনপ্রিয় লোক শিল্পীদেরও এক ছাদের নীচে আনা সম্ভব।
{{/usCountry}}লোপামুদ্রা মিত্র জানালেন, ‘আমরা এই উৎসবে শিকরের সুরের সন্ধান, চর্চা ও উদযাপন করে থাকি। প্রথমদিনে সহজ যাত্রা থাকছে। ভারতীয় সঙ্গীতের শিকরের সুর সুদূরপ্রসারী। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে আমরা এই উৎসব এতো বড় ভাবে আয়োজন করে থাকি।’
দোহারের পক্ষে রাজীব দাস বলেন, 'প্রতি বছরের মতোই এবারও সহজ পরব নিয়ে শ্রোতা-দর্শকের আগ্রহ চোখে পরার মতো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। আশা করছি এবারেও আমরা সুষ্ঠু ও সফল ভাবে 'সহজ পরব' এর উদযাপন সম্পন্ন করতে পারবো। এই কর্মকান্ডে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করি।'