...
...
Next Story

আক্কেল দাঁতে ব্যথা হলেও কেন অনেকে তুলতে চান না? এটি তুলে ফেললে কি কোনও ক্ষতি হয়

দাঁতে তীব্র ব্যথা বা সংক্রমণের মতো সমস্যা দেখা দিলেও অনেকে এটি তুলতে দ্বিধা করেন। এর কারণ মূলত দুটি—অস্ত্রোপচারের ভয় এবং আক্কেল দাঁত তুলে ফেললে ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতি হবে কি না, সেই উদ্বেগ।

Published on: Dec 16, 2025 09:34 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আক্কেল দাঁত (Wisdom Tooth), যা থার্ড মোলার (Third Molar) নামেও পরিচিত, সাধারণত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে মাড়ির একেবারে শেষ প্রান্তে ওঠে। এই দাঁত ওঠা বা এর সাথে সম্পর্কিত ব্যথা একটি সাধারণ অভিজ্ঞতা। দাঁতে তীব্র ব্যথা বা সংক্রমণের (Infection) মতো সমস্যা দেখা দিলেও অনেকে এটি তুলতে দ্বিধা করেন। এর কারণ মূলত দুটি—অস্ত্রোপচারের ভয় এবং আক্কেল দাঁত তুলে ফেললে ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতি হবে কি না, সেই উদ্বেগ।

আক্কেল দাঁতে ব্যথা হলেও কেন অনেকে তুলতে চান না? এটি তুলে ফেললে কি কোনও ক্ষতি হয়
আক্কেল দাঁতে ব্যথা হলেও কেন অনেকে তুলতে চান না? এটি তুলে ফেললে কি কোনও ক্ষতি হয়

আক্কেল দাঁত তুলে ফেলার প্রয়োজনীয়তা, এটি না তুললে কী হতে পারে এবং অপসারণের (Extraction) পর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, জেনে নিন।

১. আক্কেল দাঁত কেন সমস্যা সৃষ্টি করে?

আধুনিক মানুষের চোয়ালে সাধারণত আক্কেল দাঁতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। যখন এই দাঁত ওঠে, তখন তা প্রায়শই নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি সৃষ্টি করে:

  • আংশিক ওঠা (Impacted Wisdom Tooth): যখন দাঁতটি পুরোটা না উঠে মাড়ির হাড় বা অন্য দাঁতের সঙ্গে আটকে যায়, তখন তাকে ইমপ্যাক্টেড উইজডম টিথ বলা হয়। এটিই ব্যথার প্রধান কারণ।
  • সংক্রমণ: ইমপ্যাক্টেড দাঁতের চারপাশে খাদ্য কণা জমে সহজেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়, যা মাড়িতে ফোলা (Pericoronitis) এবং তীব্র ব্যথা সৃষ্টি করে।
  • অন্য দাঁতে চাপ: আক্কেল দাঁত সামনের দাঁতে চাপ দিলে দাঁতগুলি বেঁকে যেতে পারে বা ক্ষয় হতে পারে।

২. আক্কেল দাঁত তুলে ফেললে কি কোনো ক্ষতি হতে পারে?

ক. উপকারিতা (Removal Benefits)

  • ব্যথা ও সংক্রমণ মুক্তি: দাঁতটি তুলে ফেললে স্থায়ীভাবে ব্যথা, ফোলা এবং সংক্রমণের ঝুঁকি দূর হয়।
  • দাঁতের সারিবদ্ধতা রক্ষা: এটি সামনের দাঁতগুলিতে চাপ দেওয়া বন্ধ করে, ফলে দাঁতের সারিবদ্ধতা বা সোজা থাকা বজায় থাকে।
  • ওরাল হাইজিন উন্নত করা: মাড়ির শেষ প্রান্তে থাকায় এই দাঁত পরিষ্কার করা কঠিন। তুলে ফেললে ওরাল হাইজিন বজায় রাখা সহজ হয়।

খ. সম্ভাব্য ঝুঁকি (Post-Extraction Risks)

আক্কেল দাঁত তোলার পর কিছু সাময়িক ঝুঁকি বা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়:

  • শুষ্ক গর্ত (Dry Socket): এটি সবচেয়ে সাধারণ জটিলতা, যেখানে দাঁত তোলার পর তৈরি হওয়া রক্তের ডেলা (Blood Clot) স্থানচ্যুত হয়ে যায়। এতে তীব্র ব্যথা হয়।
  • ফোলা ও রক্তপাত: অস্ত্রোপচারের পর সাময়িকভাবে মুখ ফোলা বা রক্তপাত হতে পারে।
  • সংলগ্ন স্নায়ুর ক্ষতি: খুব কম ক্ষেত্রে অপারেশনের সময় পার্শ্ববর্তী স্নায়ু সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ঠোঁট বা জিভের সাময়িক অসাড়তার কারণ হতে পারে।

৩. কখন আক্কেল দাঁত তোলার প্রয়োজন নেই?

যদি আক্কেল দাঁত:

  • সম্পূর্ণ সুস্থ থাকে এবং কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে।
  • সম্পূর্ণ সোজাভাবে ওঠে এবং পরিষ্কার করা সহজ হয়।
  • অন্য দাঁতে চাপ না দেয়।
  • তাহলে অনেক ডেন্টিস্ট এটিকে না তোলার পরামর্শ দেন।

৪. শেষ কথা

আক্কেল দাঁত তুলে ফেলা একটি রুটিন ডেন্টাল পদ্ধতি এবং এর ফলে দাঁতের বা মুখের কোনো অপরিহার্য ক্ষতি হয় না। বরং, যদি এটি ইমপ্যাক্টেড হয় বা ক্রমাগত সংক্রমণ সৃষ্টি করে, তবে তুলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ, এটিকে ফেলে রাখলে তা পার্শ্ববর্তী সুস্থ দাঁতকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডেন্টাল সার্জন বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON