Side effects of tea and biscuits combination: সকাল কিংবা বিকেল—চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার সাথে সাথে একটি বা দুটি বিস্কুট খাওয়া আমাদের অনেকেরই মজ্জাগত অভ্যাস। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে অফিসের কাজের ফাঁকে আড্ডা, চায়ের সাথে বিস্কুট যেন এক অবিচ্ছেদ্য জুটি। অনেকেই মনে করেন, খালি পেটে চা খেলে গ্যাস হতে পারে, তাই একটা বিস্কুট খেয়ে নেওয়া ভালো। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা এই আরামদায়ক অভ্যাসটি নিয়েই এক বড়সড় সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন চায়ের সাথে বিস্কুট খাওয়ার এই আপাত নিরীহ অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। কেন চা ও বিস্কুটের এই যুগলবন্দি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি কী কী শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে, জেনে নিন।
চা এবং বিস্কুট—দুটি আলাদাভাবে হয়তো ততটা ক্ষতিকারক মনে হয় না, কিন্তু যখন এদের একসাথে নিয়মিত গ্রহণ করা হয়, তখন তা শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে বিস্কুট তৈরির উপাদান এবং চায়ের রাসায়নিক বিক্রিয়া।
১. রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি:
বাজারের বেশিরভাগ বিস্কুটই তৈরি হয় ময়দা এবং রিফাইনড সুগার বা অতিরিক্ত চিনি দিয়ে। যখন আমরা গরম চায়ের সাথে এই বিস্কুটগুলো খাই, তখন তা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা আচমকা অনেক বাড়িয়ে দেয় (Sugar Spike)। ময়দা খুব দ্রুত হজম হয়ে রক্তে চিনি ছড়িয়ে দেয়, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসের ওপর চাপ পড়ে, যা পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২. তীব্র ও ক্রনিক অ্যাসিডিটির সমস্যা:
অনেকেই ভাবেন খালি পেটে চা খেলে অ্যাসিড হবে, তাই বিস্কুট খান। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটা। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং বিস্কুটের ময়দা ও ডালডা (Hydrogenated Fat) পাকস্থলীতে গিয়ে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ময়দা পাকস্থলীর দেয়ালে লেপ্টে থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর ফলে বুক জ্বালা, টক ঢেকুর, পেট ফাঁপা এবং তীব্র গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়।
{{/usCountry}}অনেকেই ভাবেন খালি পেটে চা খেলে অ্যাসিড হবে, তাই বিস্কুট খান। কিন্তু বাস্তবে ঘটে উল্টোটা। চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং বিস্কুটের ময়দা ও ডালডা (Hydrogenated Fat) পাকস্থলীতে গিয়ে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ময়দা পাকস্থলীর দেয়ালে লেপ্টে থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এর ফলে বুক জ্বালা, টক ঢেকুর, পেট ফাঁপা এবং তীব্র গ্যাসের সমস্যা তৈরি হয়।
{{/usCountry}}৩. হৃদরোগের ঝুঁকি এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বৃদ্ধি:
বিস্কুটকে মচমচে ও দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো এতে প্রচুর পরিমাণে ‘ট্রান্স ফ্যাট’ (Trans Fat) বা পাম অয়েল ব্যবহার করে। গরম চায়ের সাথে এই ফ্যাট যখন শরীরে প্রবেশ করে, তখন তা ধমনীতে গিয়ে জমা হতে শুরু করে। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL)-এর মাত্রা বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ এবং কম বয়সেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
৪. স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধি এবং মেদ জমা:
বিস্কুটে থাকে উচ্চ ক্যালোরি কিন্তু কোনো পুষ্টিকর ফাইবার বা প্রোটিন থাকে না। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এম্পটি ক্যালোরি’ (Empty Calories) বলা হয়। চায়ের সাথে ২-৩টি বিস্কুট খাওয়া মানে এক ধাক্কায় শরীরে প্রচুর অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি প্রবেশ করানো। এই অতিরিক্ত ক্যালোরি চর্বি বা মেদ হিসেবে মূলত পেট এবং কোমরে জমা হয়, যা স্থূলতা বা ওয়ান বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
৫. দাঁতের ক্ষয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যহানি:
চায়ের গরম তাপমাত্রা এবং বিস্কুটের আঠালো চিনি মুখের ভেতরে ব্যাক্টেরিয়ার বংশবৃদ্ধি সহজ করে তোলে। বিস্কুটের কণা দাঁতের কোণায় জমে থেকে এনামেল নষ্ট করে এবং ক্যাভিটি তৈরি করে। এছাড়া নিয়মিত ময়দা ও রিফাইনড তেল অন্ত্রের ভালো ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আরও জটিল রূপ নেয়।
তাহলে বিকল্প কী?
চায়ের সাথে যদি কিছু খেতেই হয়, তবে বিস্কুটের বদলে স্বাস্থ্যকর কিছু বেছে নিন।
- চিনি ছাড়া চায়ের সাথে ২-৩টি ভেজানো কাঠবাদাম (Almond) বা আখরোট খেতে পারেন।
- বিস্কুটের বিকল্প হিসেবে সামান্য শুকনো মুড়ি বা মাখনা (Makhana) ড্রাই রোস্ট করে খাওয়া যেতে পারে।
- যদি বিস্কুট খেতেই হয়, তবে ময়দা ও চিনির বিস্কুট ছেড়ে ওটস বা মাল্টিগ্রেন দিয়ে তৈরি সুগার-ফ্রি বিস্কুট বেছে নিন, তবে তাও সীমিত পরিমাণে।
অভ্যাস বদলানো সহজ নয়, বিশেষ করে তা যদি হয় সকালের চায়ের আস্বাদ। তবে ক্ষণিকের মুখের স্বাদের চেয়ে আপনার শরীরের দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা অনেক বেশি মূল্যবান। তাই আজ থেকেই চায়ের কাপে বিস্কুট ডোবানোর অভ্যাসটি ত্যাগ করুন এবং একটি সুস্থ হৃদযন্ত্র ও সতেজ শরীরের দিকে পা বাড়ান।