...
...
Next Story

স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা পানীয় খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন পেটের রোগ ও মুখের মারাত্মক ক্ষতি

স্ট্র দিয়ে পানীয় পান করার সময় মুখের পেশী ও পরিপাকতন্ত্র যেভাবে কাজ করে, তা দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিক, দাঁতের ক্ষয়, ঠোঁটের বলিরেখা এবং প্লাস্টিক বিষক্রিয়ার মতো জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।

Published on: Aug 7, 2026, 10:27:50 IST
Advertisement

রেস্তোরাঁয় বসে কোল্ড ড্রিংকস, ফলের রস কিংবা আইস টি খাওয়া হোক বা রাস্তার মোড়ে ডাবের জল পান—একটি সরু প্লাস্টিক বা কাগজের স্ট্র (Straw) ব্যবহার করা আমাদের ফ্যাশন ও অভ্যাসের অংশ হয়ে উঠেছে। অনেকে মনে করেন স্ট্র দিয়ে পানীয় খেলে জামাকাপড়ে জল ছিটকে পড়ে না কিংবা দাঁত সুরক্ষিত থাকে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন স্ট্র দিয়ে কোল্ড ড্রিংকস বা ঠান্ডা পানীয় পানের অভ্যাসটি আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর একাধিক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা পানীয় খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন পেটের রোগ ও মুখের মারাত্মক
স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা পানীয় খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন পেটের রোগ ও মুখের মারাত্মক

স্ট্র দিয়ে পানীয় পান করার সময় মুখের পেশী ও পরিপাকতন্ত্র যেভাবে কাজ করে, তা দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস্ট্রিক, দাঁতের ক্ষয়, ঠোঁটের বলিরেখা এবং প্লাস্টিক বিষক্রিয়ার মতো জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে। স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা পানীয় খেলে শরীরের কী কী ক্ষতি হতে পারে, তা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. স্ট্র দিয়ে ঠান্ডা পানীয় পানের প্রধান শারীরিক ঝুঁকি

  • ক) পেটে অতিরিক্ত গ্যাস ও পেট ফাঁপা (Bloating and Gas):

স্ট্র দিয়ে যখনই কোনো পানীয় টানা হয়, তখন পানীয়ের সাথে সাথে মুখের ওপরে জমে থাকা বাতাসও সোজা পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‘অ্যারোফ্যাজিয়া’ (Aerophagia) বলা হয়। অতিরিক্ত বাতাস পেটে যাওয়ার কারণে পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে পেট ফাঁপা, ঘন ঘন ঢেকুর ওঠা এবং পেটে তীব্র অস্বস্তির সৃষ্টি হয়।

  • খ) স্ট্র ব্যবহারে দাঁতের ক্ষতি রোধ হয় না:

স্ট্র দিয়ে পানীয় পানের সময় ঠোঁট দুটোকে গোল করে চেপে ভেতরের দিকে বাতাস টানতে হয়। প্রতিদিন বা বারবার মুখের পেশীর এই বিশেষ পোজ বা মুভমেন্টের কারণে ঠোঁটের চারপাশের কোমল ত্বকে অকাল বলিরেখা বা সূক্ষ্ম ভাঁজ পড়ে যায়, যাকে বিউটি স্পেশালিস্টরা ‘স্মোকার্স লাইনস’ (Smoker's Lines) বলে থাকেন।

  • ঘ) অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ও ওজন বৃদ্ধি:

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্র দিয়ে পানীয় পান করলে মানুষ স্বাভাবিক গ্লাসে মুখ দিয়ে পানের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত এবং বেশি পরিমাণে পানীয় গিলে ফেলে। দ্রুত পান করার ফলে ব্রেন তৃপ্তি বা পেট ভরার সংকেত সময়মতো পৌঁছাতে পারে না, যার ফলে মানুষ অজান্তেই অতিরিক্ত ক্যালরি ও চিনি গ্রহণ করে ফেলে, যা দ্রুত ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়।

  • ঙ) প্লাস্টিক ও কেমিক্যালের বিষক্রিয়া:

বর্তমানে কাগজের স্ট্র ব্যবহার বাড়লেও অনেক জায়গায় এখনো নিম্নমানের প্লাস্টিক স্ট্র ব্যবহার করা হয়। এতে থাকা বিষাক্ত উপাদান যেমন—‘বিসফেনল এ’ (BPA) এবং অন্যান্য মাইক্রোপ্লাস্টিক ঠান্ডা পানীয়ের সাথে মিশে পেটে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে।

২. সুস্থ থাকতে কোল্ড ড্রিংকস ও স্ট্র পানের বিকল্প অভ্যাস

  • গ্লাসে মুখ দিয়ে পানীয় পান: স্ট্র বাদ দিয়ে সরাসরি কাঁচ বা স্টিলের গ্লাসে মুখ লাগিয়ে ছোট ছোট চুমুকে ধীরে ধীরে পানীয় পান করুন। এতে পেটে বাতাস প্রবেশের সুযোগ থাকে না।
  • স্টেইনলেস স্টিল বা কাচের স্ট্র ব্যবহার: যদি স্ট্র ব্যবহার করতেই হয়, তবে ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বদলে পুনর্ব্যবহারযোগ্য স্টেইনলেস স্টিল বা কাচের পরিষ্কার স্ট্র ব্যবহার করতে পারেন।
  • কোল্ড ড্রিংকস পানের পর জল দিয়ে কুলি: যেকোনো ঠান্ডা অ্যাসিডিক পানীয় বা ফলের রস পানের পরপরই সাধারণ জল দিয়ে ভালো করে মুখ কুলি করে ফেলুন, যাতে দাঁতের এনামেল সুরক্ষিত থাকে।

অহেতুক অভ্যাসের বশে স্ট্র ব্যবহার করে শরীরের ক্ষতি করা মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। স্বাস্থ্যকর উপায়ে গ্লাসে মুখ দিয়ে পানীয় পানের ছোট অভ্যাসটি আপনাকে অকাল বলিরেখা, পেটের গ্যাস ও অন্যান্য জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON