Quote of the Day: বিশ্বসাহিত্যে গোয়েন্দা গল্পের কথা উঠলে যে নামটি সবার আগে মনে আসে, তিনি স্যার আর্থার কোনান ডয়েল। লন্ডন শহরের কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় ল্যাভেন্ডার হিল বা বেকার স্ট্রিটের সেই বিখ্যাত ফ্ল্যাটে বসে যিনি বুনেছিলেন যুক্তিনির্ভর রহস্যের জাল। তাঁর মগজস্ত্রের লড়াই আজও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পাঠককে মুগ্ধ করে রেখেছে।
আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)

"আমার একটি দীর্ঘদিনের বিশ্বাস বা ধ্রুবসত্য হলো— অতি ক্ষুদ্র বিষয়গুলোই আসলে অসীমভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" (It has long been an axiom of mine that the little things are infinitely the most important)
ব্যাখ্যা: এই উক্তিটি তাঁর অমর চরিত্র শার্লক হোমসের দর্শনের মূল ভিত্তি। আমরা প্রায়শই বড় বড় প্রমাণের পেছনে ছুটি, কিন্তু ডয়েল শিখিয়েছেন যে ছোটখাটো পর্যবেক্ষণ—যেমন জুতোয় লেগে থাকা কাদা, হাতের আঙুলের দাগ বা কাপড়ের ভাঁজ—অজস্র না বলা রহস্যের সমাধান করতে পারে। জীবনের ক্ষেত্রেও ছোট ছোট মুহূর্ত বা সিদ্ধান্তই আমাদের বড় সাফল্যের পথ দেখায়।
জীবনের কিছু চমৎকার অ্যানেকডোট (Anecdotes)
আর্থার কোনান ডয়েলের ব্যক্তিগত জীবন তাঁর রহস্য উপন্যাসের চেয়েও কম রোমাঞ্চকর ছিল না:
১. শার্লক হোমসের আসল অনুপ্রেরণা: ডয়েল যখন ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গে চিকিৎসাবিদ্যা পড়তেন, তখন সেখানে তাঁর এক শিক্ষক ছিলেন নাম জোসেফ বেল। বেল সাহেব কোনো রোগীকে দেখেই বলে দিতে পারতেন তিনি কী কাজ করেন বা তাঁর অভ্যাস কী। এই জোসেফ বেলের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাই ডয়েলকে 'শার্লক হোমস' চরিত্রটি সৃষ্টি করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
২. নিজের সৃষ্টিকেই যখন ঘৃণা করতেন: আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবী যে চরিত্রটিকে ভালোবাসত, ডয়েল তাকে এক সময় ঘৃণা করতে শুরু করেন। তিনি মনে করতেন শার্লক হোমসের জনপ্রিয়তার আড়ালে তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তাই ১৮৯৩ সালে 'দ্য ফাইনাল প্রবলেম' গল্পে তিনি হোমসকে মেরে ফেলেন। কিন্তু পাঠকদের প্রবল চাপ এবং আক্রোশের মুখে (অনেকে শোক পালনের জন্য কালো ব্যাজ পরেছিলেন) প্রায় ১০ বছর পর তিনি হোমসকে আবার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন।
{{/usCountry}}২. নিজের সৃষ্টিকেই যখন ঘৃণা করতেন: আশ্চর্যের বিষয় হলো, পৃথিবী যে চরিত্রটিকে ভালোবাসত, ডয়েল তাকে এক সময় ঘৃণা করতে শুরু করেন। তিনি মনে করতেন শার্লক হোমসের জনপ্রিয়তার আড়ালে তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তাই ১৮৯৩ সালে 'দ্য ফাইনাল প্রবলেম' গল্পে তিনি হোমসকে মেরে ফেলেন। কিন্তু পাঠকদের প্রবল চাপ এবং আক্রোশের মুখে (অনেকে শোক পালনের জন্য কালো ব্যাজ পরেছিলেন) প্রায় ১০ বছর পর তিনি হোমসকে আবার ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন।
{{/usCountry}}৩. বাস্তব জীবনের গোয়েন্দা: ডয়েল কেবল কাগজ-কলমে গোয়েন্দা ছিলেন না। তিনি জর্জ এডালজি নামক এক ব্যক্তির মামলা নিজের হাতে নিয়েছিলেন, যাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছিল। ডয়েল শার্লক হোমসের মতো নিখুঁত যুক্তির মাধ্যমে তদন্ত করে প্রমাণ করেছিলেন যে জর্জ নির্দোষ। তাঁর এই হস্তক্ষেপ ব্রিটিশ আইনি ব্যবস্থায় 'কোর্ট অফ ক্রিমিনাল আপিল' তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)
- জন্ম ও শৈশব: ১৮৫৯ সালের ২২ মে স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে আর্থার কোনান ডয়েল জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন একজন শিল্পী, কিন্তু পরিবারটি আর্থিক সংকটে ভুগছিল। মায়ের উৎসাহেই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান।
- চিকিৎসা থেকে সাহিত্য: পেশায় তিনি ছিলেন একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ। লন্ডনে চেম্বার খুললেও সেখানে খুব একটা রোগী আসত না। আর সেই ফাঁকা সময়েই তিনি লিখতে শুরু করেন শার্লক হোমসের প্রথম গল্প 'আ স্টাডি ইন স্কারলেট' (১৮৮৭)। এরপর 'দ্য সাইন অফ ফোর', 'দ্য হাউন্ড অফ দ্য বাস্কারভিলস'-এর মতো কালজয়ী সব বই তিনি উপহার দেন।
- বিচিত্র আগ্রহ: ডয়েল কেবল রহস্য লেখক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির ঐতিহাসিক এবং স্পিরিচুয়ালিজমের সমর্থক। জীবনের শেষ ভাগে তিনি অলৌকিক বিষয়ে প্রচুর গবেষণা করেছিলেন। ১৯০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার যুদ্ধে তাঁর সেবার জন্য তিনি 'নাইট' উপাধি লাভ করেন।
- জীবনাবসান: ১৯৩০ সালের ৭ জুলাই ৭১ বছর বয়সে এই কিংবদন্তি সাহিত্যিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর কবরের ফলকে লেখা আছে— 'Steel True, Blade Straight'।
কেন তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী?
ডয়েল গোয়েন্দা গল্পকে স্রেফ অপরাধের বর্ণনা থেকে তুলে এনে বিজ্ঞানের স্তরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ফরেনসিক সায়েন্স আজকের দিনে যা করে, ডয়েল তা কল্পনা করেছিলেন একশ বছর আগেই। বর্তমানের প্রতিটি গোয়েন্দা চরিত্র কোনো না কোনোভাবে শার্লক হোমসের কাছে ঋণী।