...
...
Next Story

Quote of the Day: ‘যে মুহূর্তে তোমার স্বপ্নের ওপর একটি সময়সীমা বেঁধে দেবে…’, স্টিভ ওয়ার এই কথাটা সব সময়ে সত্যি

Quote of the Day: স্টিভ ওয়া তখন চোটের কবলে। তাঁর পেশিতে টান (calf strain) এতটাই বেশি ছিল যে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। কিন্তু দলের প্রয়োজনে তিনি মাঠে নামলেন। বাকিটা ইতিহাস।

Published on: Apr 13, 2026, 05:32:33 IST
Advertisement

Quote of the Day: ক্রিকেট মাঠে যখনই কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হতেন একজন—স্টিভ ওয়া। কেবল ব্যাট হাতে রান করাই নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য। তাঁর নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়া দল বিশ্ব ক্রিকেটে এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।

আজকের অমোঘ বাণী (Quote of the Day)

‘যে মুহূর্তে তোমার স্বপ্নের ওপর একটি সময়সীমা বেঁধে দেবে…’, স্টিভ ওয়ার এই কথাটা সব সময়ে সত্যি
‘যে মুহূর্তে তোমার স্বপ্নের ওপর একটি সময়সীমা বেঁধে দেবে…’, স্টিভ ওয়ার এই কথাটা সব সময়ে সত্যি

"যে মুহূর্তে তুমি তোমার স্বপ্নের ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেবে, সেটি তখন আর কেবল স্বপ্ন থাকে না, বরং তা একটি লক্ষ্য বা লক্ষ্যে পরিণত হয়।" (The moment you put a deadline on your dream, it becomes a goal)

ব্যাখ্যা: স্টিভ ওয়া বিশ্বাস করতেন, অলসভাবে স্বপ্ন দেখা সহজ, কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে পরিকল্পনা প্রয়োজন। যখনই আমরা একটি লক্ষ্য পূরণের জন্য সময় নির্ধারণ করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই অনুযায়ী কাজ করতে শুরু করে এবং আমাদের কর্মক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য অ্যানেকডোট (Anecdotes)

স্টিভ ওয়ার জীবন ছিল লড়াকু মানসিকতার এক জীবন্ত দলিল। তাঁর জীবন থেকে নেওয়া কিছু ছোট গল্প আমাদের আজও অনুপ্রাণিত করে:

১. সেই ঐতিহাসিক ওভাল টেস্ট (২০০১): স্টিভ ওয়া তখন চোটের কবলে। তাঁর পেশিতে টান (calf strain) এতটাই বেশি ছিল যে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছিলেন না। কিন্তু দলের প্রয়োজনে তিনি মাঠে নামলেন। খোঁড়াতে খোঁড়াতে তিনি খেলেছিলেন ১৫৭ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস। পরে তিনি বলেছিলেন, "মাঠ থেকে ফিরে হয়তো আমার পা কাজ করবে না, কিন্তু এই মুহূর্তে আমার দেশের আমাকে প্রয়োজন।" এটিই ছিল তাঁর লড়াকু চরিত্রের পরিচয়।

৩. গিবসকে সেই বিখ্যাত উক্তি: ১৯৯৯ বিশ্বকাপে হার্শেল গিবস যখন ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন, তখন স্টিভ ওয়া তাঁকে বলেছিলেন, "You've just dropped the World Cup, mate" (তুমি মাত্র বিশ্বকাপটা ফেলে দিলে বন্ধু)। যদিও এটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক আছে, তবে সেই ম্যাচে স্টিভ অপরাজিত শতরান করে অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয় করেছিলেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী (Short Biography)

  • জন্ম ও শৈশব: ১৯৬৫ সালের ২ জুন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্টিভ ওয়া জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর যমজ ভাই মার্ক ওয়া-ও একজন বিশ্ববিখ্যাত ক্রিকেটার। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁদের প্রবল ঝোঁক ছিল।
  • ক্রিকেট জীবন: ১৯৮৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেকের মাধ্যমে স্টিভ ওয়ার আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে তিনি একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি মাঝারি গতির বোলিংয়েও পারদর্শী ছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারে রান সংখ্যা ১০,৯২৭ এবং ওয়ানডেতে তিনি করেছেন ৭,৫৬৯ রান।
  • অধিনায়কত্বের সফল্য: মার্ক টেলরের পর তিনি অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া টানা ১৬টি টেস্ট ম্যাচ জেতার বিশ্বরেকর্ড গড়ে। ১৯৯৯ সালে তাঁর নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয় করে। তাঁকে বলা হতো 'আইসম্যান', কারণ চাপের মুখেও তিনি অদ্ভুতভাবে শান্ত থাকতে পারতেন।
  • অবসর ও সম্মাননা: ২০০৪ সালে সিডনি টেস্টের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন। ক্রিকেটে অবদানের জন্য তাঁকে 'অর্ডার অফ অস্ট্রেলিয়া' সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে এবং আইসিসি হল অফ ফেমেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

স্টিভ ওয়া আমাদের শিখিয়েছেন যে, প্রতিভা থাকলেই সফল হওয়া যায় না, তার জন্য প্রয়োজন অসীম ধৈর্য এবং ইস্পাত কঠিন মানসিকতা। আজকের প্রজন্মের খেলোয়াড়দের কাছে তিনি এক আদর্শ শিক্ষক, যিনি হারার আগে হার মানতে শেখেননি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON