Stroke Symptoms and BE FAST Tips: আজ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। আর সেদিনে স্ট্রোক নিয়ে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হল কলকাতার হাসপাতালে। কীভাবে স্ট্রোক রোখা যায়, স্ট্রোক সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা, সচেতনতা নিয়ে আলোচনা করলেন ইএম বাইপাস এবং মুকুন্দপুরের মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
স্ট্রোক কী এবং কেন হয়?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষগুলিতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং পুষ্টি পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এর জেরে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, শারীরিক অক্ষমতা বা প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি।
লক্ষণ চেনার সহজ উপায়: ‘BE FAST’ পদ্ধতি
অনুষ্ঠানে স্ট্রোকের লক্ষণগুলি দ্রুত ও সহজে চিনে নেওয়ার জন্য ‘BE FAST’ পদ্ধতি অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে স্ট্রোকের ছয়টি প্রধান লক্ষণ চিহ্নিত করা হয়েছে।
১) B (Balance/ভারসাম্য): হঠাৎ করে শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, তীব্র মাথা ঘোরা বা হাঁটার সময় সমস্যা হওয়া।
২) E (Eyes/চোখ): হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, দুটি করে বস্তু দেখা বা সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারানো।
৩) F (Face/মুখ): মুখের যে কোনও একদিক হঠাৎ বেঁকে যাওয়া বা অসাড় হয়ে আসা।
{{/usCountry}}৩) F (Face/মুখ): মুখের যে কোনও একদিক হঠাৎ বেঁকে যাওয়া বা অসাড় হয়ে আসা।
{{/usCountry}}৪) A (Arms/হাত): শরীরের একটি হাতে হঠাৎ তীব্র দুর্বলতা বা অসাড়তা অনুভব করা।
৫) S (Speech/কথা বলা): কথা জড়িয়ে যাওয়া, স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
৬) T (Time/সময়): এই লক্ষণগুলির মধ্যে যেকোনো একটি দেখা মাত্রই মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা এবং লক্ষণ শুরু হওয়ার সঠিক সময়টি মনে রাখা।
TIA বা সাময়িক স্ট্রোকের সতর্কবার্তা
অনুষ্ঠানে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (TIA) বা সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টির বিষয়টিও বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়। একে স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হয়। TIA হলে স্ট্রোকের মতোই শরীরের অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হতে পারে, যা কিছুক্ষণের মধ্যে আপনাআপনি ঠিকও হয়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, লক্ষণ নিজে থেকেই সেরে গেলেও বিপদ কেটে যায় না। এর পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া আবশ্যক।
চিকিৎসকদের মূল্যবান পরামর্শ
মণিপাল হসপিটালস মুকুন্দপুরের নিউরোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ও প্রধান জয়ন্ত রায় বলেন, ‘স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত মূল্যবান। দৈনন্দিন কাজ বা গাড়ি চালানোর সময়ও হঠাৎ স্ট্রোক হতে পারে। দেরি হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।’
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিউরোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট অম্লান মণ্ডল জানান, ‘অনেকেই মনে করেন স্ট্রোক কেবল বয়স্কদের হয়, যা ভুল ধারণা। কম বয়সিরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন এবং তাঁরা অনেক সময় প্রথম দিকের লক্ষণগুলিকে এড়িয়ে যান। তাই সব বয়সেই সচেতন থাকা জরুরি।’
নিউরোইন্টারভেনশন ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি বিভাগের ডিরেক্টর সুকল্যাণ পুরকায়স্থ উল্লেখ করেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, ধূমপান এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
সবশেষে, নিউরোরেডিওলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট নির্মাল্য রায় ‘টাইম ইজ ব্রেন’ বা ‘সময়ই মস্তিষ্ক’ তত্ত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, 'বড় ধরনের ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ২ কোটি মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হয়। তাই লক্ষণ দেখা মাত্রই কালক্ষেপ না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা উচিত।'
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনশৈলী এবং সঠিক সময়ে ‘BE FAST’ পদ্ধতি মেনে চিকিৎসা শুরু করলে স্ট্রোকের মারাত্মক পরিণতি এড়ানো সম্ভব বলে অনুষ্ঠানে মত প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।