গরম মানেই আম। যে আমের পরিচিতি রয়েছে ‘ফলের রাজা’ হিসাবে। আম ভালবাসেন না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। অনেকেই আমের খুবই ভক্ত। অনেকেই এমন স্বাদের জন্য আম খেতে ভালবাসেন। উল্লেখ্য, এই আমের ইতিহাস কিম্বা ভূগোল দুই দিকই বেশ আকর্ষণীয়। আমের এমন মজাদার রূপ , রস, গন্ধ নিয়ে বিভিন্ন কাহিনি রয়েছে। এদেশের আমের চাষ নিয়ে বহু সময় নানান ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক আম নিয়ে মজাদার কিছু তথ্য।

আম-ইতিহাস
মুঘল যুগের আগে থেকেই ভারতে আমের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। তবে মুঘলরা আসার পর থেকে আমের চাষ বাড়তে থাকে। মুঘল যুগের আগে সোনার দামে তুল্য়মূল্য বিচার হত আমের। তবে শাহজাহান আসার পর থেকে সেই প্রক্রিয়ায় বদল আসে। আম চাষ শুরু হতেই দেশে প্রভূত পরিমাণে পাওয়া যেতে থাকে আম। ঐতিহাসিক কেটি আচারিয়ার বই ‘ আ হিস্টোরিক্যাল ডিকশেনরি অফ ইন্ডিয়ার ফুড’ থেকে জানা যাচ্ছে, তোতাপারি, কেশর, রাতাউলের মতো আম মুঘল আমল থেকে ভারতে দেখা যেতে শুরু করে। সেই সময় থেকে আমকে উপহার হিসাবে দেওয়ার রীতি রয়েছে। আম ছিল শাহজাহানের প্রিয় ফল।
ধর্মে আমের ইতিহাস
বিভিন্ন ধর্মে আমের মাহাত্ম্যের উল্লেখ রয়েছে। বলা হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মে আমের যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। জানা যায়, আম গাছের ছায়াতেই বিশ্রাম নিতেন গৌতম বুদ্ধ। ফলে বৌদ্ধ ধর্মে আমের গুরুত্ব অপরিসীম। কোনও বড় ধর্মীয় সফরে গেলে বৌদ্ধ যাজকরা সঙ্গে নিয়ে যেতেন আম।
ল্যাংড়া আমের নামকরণ
{{/usCountry}}ল্যাংড়া আমের নামকরণ
{{/usCountry}}শোনা যায়, বেনারসের এক চাষি বহুকাল আগে প্রথমবার এই বিশেষ প্রজাতির আমের গাছ পোঁতেন। শোনা যায়, ওই চাষি ল্যাংড়া ছিলেন বলে সেই থেকে এই আমের নাম হয়েছে ল্যাংড়া।
ভারতে প্রথম আম চাষ
‘ আ হিস্টোরিক্যাল ডিকশেনরি অফ ইন্ডিয়ার ফুড’ বইটি থেকে জানা যায়, আমচাষ প্রথমবার পর্তুগিজরা শুরু করে। ভারতের যে অংশে প্রথম এই চাষ হয় সেটি তৎকালীন ভারতের অংশ হলেও তা বর্তমানে মায়ানমারের অংশ। পর্তুগিজদের হাত ধরে প্রথম উৎপন্ন হওয়া আমের নাম ছিল ফর্নান্দিন। শোনা যায়, ভারত থেকে ফিরে যাওয়ার সময় আলেকজান্ডারও নিয়ে গিয়েছিলেন আম।