...
...
Next Story

প্রস্রবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে

প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে অনেক না-বলা কথা জানিয়ে দিতে পারে। আপনি পর্যাপ্ত জল খাচ্ছেন কি না, লিভার বা কিডনি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না—তার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায় এই প্রস্রাবের রং দেখেই।

Published on: Jan 7, 2026, 09:18:43 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আমাদের শরীরের একটি প্রাকৃতিক 'সিগন্যাল ল্যাম্প' হলো প্রস্রাবের রং। অনেক সময় আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না, কিন্তু প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন আপনার শরীরের অভ্যন্তরীণ জটিলতা বা স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে অনেক না-বলা কথা জানিয়ে দিতে পারে। আপনি পর্যাপ্ত জল খাচ্ছেন কি না, লিভার বা কিডনি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না—তার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায় এই প্রস্রাবের রং দেখেই।

প্রস্রবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে
প্রস্রবের রং দেখে কি শরীরের অবস্থা টের পাওয়া যায়? কখন ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ব্যস্ত জীবনযাত্রায় নিজের শরীরের এই ছোটখাটো সংকেতগুলো চিনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কখন প্রস্রাবের রং দেখে সাবধান হবেন? জেনে নিন বিস্তারিত।

প্রস্রাবের রঙের অর্থ: কোনটি সুস্থ আর কোনটি বিপদের লক্ষণ?

১. স্বচ্ছ বা বর্ণহীন (Clear Water Like)

যদি আপনার প্রস্রাব একদম জলের মতো স্বচ্ছ হয়, তবে বুঝতে হবে আপনি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল খাচ্ছেন। যদিও এটি খুব বড় সমস্যা নয়, তবে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। জল পানের পরিমাণ কিছুটা কমান।

২. হালকা হলদেটে বা খড়ের মতো (Pale Yellow)

এটিই সুস্থ শরীরের লক্ষণ। এর অর্থ হলো আপনার শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড এবং আপনার কিডনি সঠিকভাবে কাজ করছে।

৩. গাঢ় হলুদ বা আম্বারের মতো রং (Deep Yellow)

প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হওয়ার অর্থ হলো আপনার শরীর জলশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড। শরীর সংকেত দিচ্ছে যে আপনার এখনই জল খাওয়া প্রয়োজন। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এমন রং হতে পারে, যা স্বাভাবিক।

এটি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। যদি আপনি আগের রাতে বিট বা ব্লুবেরি জাতীয় কিছু না খেয়ে থাকেন, তবে প্রস্রাবের এই রং রক্তপাতের সংকেত দেয়। এটি মূত্রনালীর সংক্রমণ (UTI), কিডনিতে পাথর বা প্রস্টেটের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৫. কমলা রং (Orange)

অনেক সময় ভিটামিন সি বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খেলে এমন হয়। তবে ওষুধের প্রভাব ছাড়াও যদি রং কমলা হয়, তবে তা লিভার বা পিত্তনালীর (Bile Duct) সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

৬. নীল বা সবুজ (Blue or Green)

এটি খুব বিরল। সাধারণত খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং বা বিশেষ কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে এমন হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণেও প্রস্রাব নীলাভ হতে পারে।

৭. ফেনার মতো প্রস্রাব (Foamy Urine)

রঙের চেয়েও যদি প্রস্রাবে প্রচুর ফেনা দেখা যায়, তবে সেটি কিডনির গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে। এর অর্থ প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

  • যদি প্রস্রাবের সাথে রক্ত দেখা যায়।
  • প্রস্রাবের রং বদলানোর সাথে পিঠে বা তলপেটে তীব্র ব্যথা হয়।
  • যদি রঙের পরিবর্তনের সাথে জ্বর বা বমি বমি ভাব থাকে।
  • যদি প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় বা কালচে বাদামী হয়ে যায়।

প্রস্রাবের রঙের দিকে নজর রাখা মানেই নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা। প্রতিদিন অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন এবং রঙের বড় কোনো পরিবর্তন নজরে পড়লে পরীক্ষা করিয়ে নিন। আপনার সচেতনতাই আপনাকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON