...
...
Next Story

সিঁড়ি উঠলেই হাঁপিয়ে উঠছেন? অজান্তেই বাড়ছে হার্ট দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি! জানুন ৮টি নীরব বিপদসংকেত

হার্ট বা হৃদপিণ্ড কিন্তু হঠাৎ একদিনেই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে না। কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে শরীর আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম ও গোপন সংকেত দিতে থাকে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা অনেকেই সেগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা গ্যাসের সমস্যা মনে করে অবহেলা করি।

Published on: Aug 17, 2026, 14:36:11 IST
Advertisement

আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম অঙ্গ হলো হৃদপিণ্ড বা হার্ট। প্রতিটি মুহূর্তে পাম্প করে পুরো শরীরে অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছে দেওয়া এর মূল কাজ। কিন্তু বর্তমান আধুনিক যুগে অনিয়মিত জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে খুব অল্প বয়সেই অনেকের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘হার্ট ফেইলিওর’ (Heart Failure) বা ‘উইক হার্ট’ (Weak Heart)।

অজান্তেই বাড়ছে হার্ট দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি! জানুন ৮টি নীরব বিপদসংকেত
অজান্তেই বাড়ছে হার্ট দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি! জানুন ৮টি নীরব বিপদসংকেত

হার্ট বা হৃদপিণ্ড কিন্তু হঠাৎ একদিনেই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে না। কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে শরীর আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম ও গোপন সংকেত দিতে থাকে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা অনেকেই সেগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা গ্যাসের সমস্যা মনে করে অবহেলা করি। দুর্বল হার্টের লক্ষণগুলো আগেভাগে চিনে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে পারলে মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক বা অকাল মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব। কোন কোন শারীরিক পরিবর্তন দেখে বুঝবেন আপনার হার্ট দুর্বল হয়ে পড়ছে—তা নিয়ে একটি বিশদ কার্ডিওভাসকুলার সচেতনতামূলক প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. দুর্বল হার্টের প্রধান ৮টি লাল সংকেত (Warning Signs of a Weak Heart)

  • ক) সামান্য পরিশ্রমে অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট (Shortness of Breath): সিঁড়ি দিয়ে দু-তিন ধাপ ওঠার সময়, সামান্য হাঁটাহাঁটি করলে কিংবা সমতল জায়গায় হাঁটলেও যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হাঁপিয়ে যান বা বুক ধড়ফড় করে, তবে তা দুর্বল হার্টের প্রাথমিক লক্ষণ। হৃদপিণ্ড সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে ফুসফুসে রক্ত বা তরল জমে যায় (Fluid Accumulation), যার ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
  • খ) পা, গোড়ালি ও পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব (Edema / Swelling): কোনো আঘাত ছাড়াই কি আপনার দুই পা, গোড়ালি, পায়ের পাতা বা তলপেট হঠাৎ ফুলে যাচ্ছে? দুর্বল হার্ট পুরো শরীর থেকে রক্ত টেনে নিয়ে আবার তা পাম্প করে ফিরিয়ে পাঠাতে পারে না। এর ফলে মাধ্যাকর্ষণের টানে শরীরের নিচের অংশে, বিশেষ করে পায়ে জল বা তরল জমতে শুরু করে।
  • গ) অনবরত অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা (Chronic Fatigue): পর্যাপ্ত ঘুমানো বা বিশ্রামের পরেও যদি সারাদিন অসম্ভব ক্লান্তি ও অলসতা বোধ হয়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। হৃদপিণ্ড দুর্বল হলে মস্তিষ্কেও পেশীতে পর্যাপ্ত রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে সামান্য কাজ করতেই শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
  • ঘ) শুয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট বা রাতে কাশি (Orthopnea): রাতে সোজা হয়ে শুলেই কি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, নাকি হঠাৎ দম আটকে ঘুম ভেঙে যায়? পিঠের ওপর সোজা হয়ে শুলে ফুসফুসে জমে থাকা তরল শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা তৈরি করে। এর ফলে অনেকেই রাতে না শুয়ে বালিশে মাথা উঁচু করে বা বসে ঘুমাতে বাধ্য হন। এ ছাড়া রাতে অনবরত শুকনো কাশিও দুর্বল হৃদযন্ত্রের অন্যতম লক্ষণ।
  • ঙ) বুক জ্বালা, অস্বস্তি ও চাপ লাগা (Chest Discomfort): বুকে তীব্র ব্যথা ছাড়াও যদি মনে হয় বুকের ওপর ভারি কিছু চেপে বসে আছে, বুক ধড়ফড় (Palpitations) করছে বা অসাড় অনুভূতি হচ্ছে, তবে তা দুর্বল হার্টের স্পষ্ট ইঙ্গিত। এই অস্বস্তি অনেক সময় বুকের মাঝখান থেকে বাঁ হাত, কাঁধ, পিঠ, চোয়াল বা ঘাড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • চ) হঠাৎ দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়া (Sudden Weight Gain): খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও যদি ২-৩ দিনের মধ্যে হঠাৎ ১ থেকে ২ কেজি ওজন বেড়ে যায়, তবে তা চর্বি বাড়ার কারণে নয়। হৃদযন্ত্র দুর্বল হওয়ার কারণে শরীরে অতিরিক্ত জল বা তরল জমার (Fluid Retention) ফলেই মূলত এই দ্রুত ওজন বৃদ্ধি ঘটে।
  • ছ) মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা ও জ্ঞান হারানো (Dizziness / Fainting): বসা বা শোয়া থেকে হঠাৎ দ্রুত উঠে দাঁড়ালে যদি মাথা ঘুরে ওঠে, চোখে সর্ষে ফুল দেখেন বা মাথা হালকা মনে হয়, তবে বুঝতে হবে মস্তিষ্কে সাময়িকভাবে সঠিক মাত্রায় রক্ত পৌঁছাচ্ছে না। পাম্পিং ক্ষমতা কমে গেলে দুর্বল হার্ট পর্যাপ্ত রক্ত পাঠাতে পারে না।
  • জ) খিদে না পাওয়া ও পেটে ভারি ভাব (Loss of Appetite & Nausea): পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ না হলে কিংবা সেখানে জল জমলে সবসময় পেট ভরা ভরা লাগে। সামান্য কিছু খেলেই বদহজম, বমি বমি ভাব এবং খাবারের প্রতি তীব্র অনীহা তৈরি হতে পারে।

২. হার্ট সুস্থ ও শক্তিশালী রাখার ৫টি সহজ উপায়

  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, হালকা যোগাসন বা সাঁতার কাটলে হার্টের মাংসপেশি শক্তিশালী হয়।
  • লবণ ও জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করুন। শরীরে জল জমা এড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শমতো লবণ ও জল গ্রহণ করুন।
  • ধূমপান ও মদ্যপান চিরতরে ত্যাগ: তামাকের নিকোটিন রক্তনালীকে শক্ত ও সরু করে দেয়, যা দুর্বল হার্টের চরম শত্রু।
  • রক্তচাপ ও সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা: নিয়মিত ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরল মেপে নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • নিয়মিত কার্ডিও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: উপরোক্ত লক্ষণগুলোর ২-৩টি নিজের মধ্যে দেখতে পেলে দেরি না করে ইসিজি (ECG) এবং ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echocardiogram) করিয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের (Cardiologist) পরামর্শ নিন।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON