...
...
Next Story

একই ঘরে থেকেও কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায় কেন? জানুন মশার ‘মন’ নিয়ে কী বলছে বিজ্ঞান

রক্ত মিষ্টি হওয়ার সাথে মশার কামড়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মানুষের ত্বকের গায়ের গন্ধ, নির্গত গ্যাস, রক্তের গ্রুপ এবং শরীরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে মশা তার 'শিকার' বেছে নেয়।

Published on: Aug 10, 2026, 11:03:56 IST
Advertisement

বর্ষাকাল হোক বা গরমের সন্ধ্যা—একই ঘরে বা আড্ডায় অনেকে একসাথে বসে থাকলেও দেখা যায়, মশা বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকেই বেশি কামড়াচ্ছে! আবার পাশের জন হয়তো সুন্দর শান্তিতে বসে আছেন, তাকে একটি মশাও ছুঁয়ে দেখছে না। এই অভিজ্ঞতা কমবেশি আমাদের সবারই রয়েছে। প্রায়শই আমরা কৌতুক করে বলি "যার রক্ত মিষ্টি, তাকেই মশা বেশি কামড়ায়!" কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি বলছে সম্পূর্ণ অন্য কথা।

একই ঘরে থেকেও কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায় কেন?
একই ঘরে থেকেও কিছু মানুষকে মশা বেশি কামড়ায় কেন?

গবেষকদের মতে, রক্ত মিষ্টি হওয়ার সাথে মশার কামড়ের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মানুষের ত্বকের গায়ের গন্ধ, নির্গত গ্যাস, রক্তের গ্রুপ এবং শরীরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে মশা তার 'শিকার' বেছে নেয়। কিছু মানুষকে কেন মশা বেশি পছন্দ করে, তার পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।

১. মশা নির্দিষ্ট মানুষকে বেছে নেওয়ার প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ

ক) কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) নিঃসরণের পরিমাণ:

মশার মাথায় থাকা বিশেষ সেন্সর অনেক দূর থেকেই কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের উপস্থিতি টের পায়। যাঁরা নিঃশ্বাসের সাথে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়েন, মশা তাঁদের প্রতি দ্রুত আকৃষ্ট হয়। সাধারণত যাঁদের শরীরের গঠন বড়, গর্ভবতী নারী, অতিরিক্ত ওজনের মানুষ এবং শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করার পর যাঁরা বেশি শ্বাসপ্রশ্বাস নেন—তাদের শরীর থেকে বেশি CO2 নির্গত হয়। ফলে মশা তাঁদের সহজেই খুঁজে নেয়।

আমাদের ত্বকে জমে থাকা ঘামের গন্ধ মশাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করে। ঘামের সাথে বের হওয়া ‘ল্যাকটিক অ্যাসিড’ (Lactic Acid), ইউরিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়া মশার অত্যন্ত পছন্দের উপাদান। যাঁরা বেশি ঘেমে যান বা যাঁদের ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই ল্যাকটিক অ্যাসিডের প্রভাব বেশি, মশা তাঁদের বেশি কামড়ায়।

গ) বিশেষ রক্তের গ্রুপ ('O' Blood Group):

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপের সাথে মশার কামড় খাওয়ার বেশ বড় সংযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, 'O' (ও) পজিটিভ বা নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মানুষদের প্রতি মশার আকর্ষণ অন্যান্য গ্রুপের (যেমন A বা B) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ! রক্ত চুষতে আসা স্ত্রী মশা মানুষের ত্বকের বিশেষ কেমিক্যাল সিক্রেশন থেকে রক্তের গ্রুপ অনায়াসে বুঝতে পারে।

ঘ) শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা (Body Temperature):

মশা তাপ বা হিট সেন্সরের সাহায্যে গরম শরীর সহজে সনাক্ত করতে পারে। শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম করা বা মদ পানের পর শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। রক্ত সঞ্চালন বাড়ার কারণে ত্বকের উপরিভাগ গরম হয়ে উঠলে মশা তড়িঘড়ি সেখানে গিয়ে কামড় বসায়।

ঙ) পরিহিত পোশাকের রঙ (Dark Clothing):

মশা কেবল গন্ধ বা গ্যাস নয়, দৃষ্টিশক্তির সাহায্যেও শিকার খোঁজে। গবেষণায় দেখা গেছে, কালো, গাঢ় নীল, লাল বা গাঢ় রঙের পোশাক মশা সহজে দেখতে পায়। হালকা রঙের (যেমন সাদা বা হলুদ) জামাকাপড় পরলে মশার নজর এড়ানো অনেক সহজ হয়।

২. মশার কামড় থেকে বাঁচতে সহজ কিছু প্রতিকার

  • হালকা রঙের সুতি পোশাক: শরীর ঢাকা ও হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।
  • ত্বক শুকনো রাখা: ঘাম জমে থাকতে দেবেন না, নিয়মিত স্নান করুন এবং গা মুছে শুকনো রাখুন।
  • প্রাকৃতিক মস্কিটো রিপেলেন্ট: নিম তেল, ইউক্যালিপটাস বা লেমনগ্রাস যুক্ত প্রাকৃতিক মশা তাড়ানোর তেল বা ক্রিম ত্বকে ব্যবহার করুন।
  • পর্যাপ্ত বাতাস রাখা: ফ্যানের হাওয়ায় মশা সহজে উড়তে পারে না, তাই ঘরের ফ্যান চালিয়ে রাখুন।

মশার কামড় কেবল চুলকানি বা বিরক্তির কারণ নয়, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগের উৎস। মশা আপনাকে কেন বেশি আকর্ষণ করছে তা বুঝে সতর্কতা অবলম্বন করলে সহজেই মশার কামড় ও রোগব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON