...
...
Next Story

বাথরুমে কেন বেশি হয় স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক? জানুন কারণ ও আত্মরক্ষার কৌশল

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করে মানুষের স্নানের ভুল পদ্ধতি, রক্তচাপের দ্রুত তারতম্য এবং বাথরুমের বিশেষ অভ্যন্তরীণ পরিবেশ।

Published on: Aug 13, 2026, 12:18:25 IST
Advertisement

আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অত্যন্ত সাধারণ ও অপরিহার্য একটি অঙ্গ হলো স্নান করা বা বাথরুম ব্যবহার করা। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিসংখ্যান ও হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের দিকে তাকালে এক চাঞ্চল্যকর ও ভীতিকর তথ্য উঠে আসে—বিশ্বজুড়ে ব্রেন স্ট্রোক (Brain Stroke) ও হার্ট অ্যাটাকের বড় একটি অংশ ঘটে থাকে বাথরুমের চার দেয়ালের ভেতরে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ কিংবা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

বাথরুমে কেন বেশি হয় স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক? জানুন কারণ ও আত্মরক্ষার কৌশল
বাথরুমে কেন বেশি হয় স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক? জানুন কারণ ও আত্মরক্ষার কৌশল

সকালবেলা সুস্থ শরীরে বাথরুমে ঢুকে হঠাৎ পড়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানোর ঘটনা আমাদের চারপাশে অহরহই ঘটে থাকে। কিন্তু কেন বাথরুমেই স্ট্রোক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক শারীরিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে? চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করে মানুষের স্নানের ভুল পদ্ধতি, রক্তচাপের দ্রুত তারতম্য এবং বাথরুমের বিশেষ অভ্যন্তরীণ পরিবেশ। বাথরুমে স্ট্রোক হওয়ার আসল বৈজ্ঞানিক কারণ এবং এটি এড়ানোর সঠিক উপায় নিয়ে জেনে নিন।

১. বাথরুমে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মূল বৈজ্ঞানিক কারণসমূহ

  • ক) মাথায় সরাসরি জল ফেলা (Hydrostatic Shock & Vasoconstriction): আমাদের অনেকেরই স্বভাব হলো স্নান করতে নেমে প্রথমেই বালতি বা শাওয়ার দিয়ে সরাসরি মাথায় ঠান্ডা বা সাধারণ জল ঢালা। হঠাৎ মাথায় জল পড়লে আমাদের মস্তিষ্কের সংবেদনশীল স্নায়ু ও রক্তনালীগুলো প্রচণ্ড সংকুচিত হয়ে পড়ে। রক্তনালী সংকুচিত হলে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে যায় এবং রক্তচাপ (Blood Pressure) মুহূর্তের মধ্যে একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম রক্তনালী ফেটে গিয়ে 'হেሞরেজিক স্ট্রোক' হতে পারে কিংবা রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
  • খ) শক্ত হয়ে বসে মলত্যাগের চেষ্টা (Valsalva Maneuver): কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিরা হাই বা লো কমোডে বসে পেটে অতিরিক্ত চাপ বা কোঁথ দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ভ্যালসালভা ম্যানুভার’ বলা হয়। পেটে ও বুকে প্রচণ্ড চাপ দেওয়ার কারণে হৃদপিণ্ডে রক্ত ফেরায় সাময়িক বাধা তৈরি হয় এবং সাথে সাথে মস্তিষ্কে রক্তচাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। বয়স্ক বা দুর্বল রক্তনালীবিশিষ্ট মানুষের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত চাপের ফলে হঠাৎ রক্তনালী ছিঁড়ে গিয়ে বাথরুমে স্ট্রোক ঘটে।
  • গ) তাপমাত্রার চরম তারতম্য (Thermal Shock): বাথরুম সাধারণত ঘরের অন্যান্য জায়গার তুলনায় কিছুটা বেশি ঠান্ডা ও বদ্ধ থাকে। শরীরের পোশাক খোলার পর বাথরুমের ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ভেজা মেঝের সংস্পর্শে এলে রক্তনালীগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়। একে ‘থার্মাল শক’ বলা হয়। এতে শরীরের রক্তচাপ সামলাতে হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত ধকল পড়ে, যা স্ট্রোকের পথ প্রশস্ত করে।
  • ঘ) ভেজা মেঝে ও পিচ্ছিল পরিবেশ (Slips and Falls): বাথরুমের পিচ্ছিল টাইলস বা সাবানের ফেনার কারণে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে গেলে মাথার পেছনে বড় ধরণের আঘাত লাগতে পারে। হঠাৎ এই মানসিক ও শারীরিক আতঙ্কের কারণে ব্রেনে তীব্র প্রেশার তৈরি হয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • ঙ) হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়ানো (Orthostatic Hypotension): অনেকক্ষণ নিচু হয়ে বসে স্নান করার পর বা কমোড থেকে হঠাৎ দ্রুত সোজা হয়ে দাঁড়ালে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে কমে যায়। একে ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’ বলা হয়। এর ফলে মাথা ঘুরে মানুষ বাথরুমের শক্ত মেঝেতে পড়ে যেতে পারে।

২. বাথরুমে স্ট্রোক প্রতিরোধে অত্যন্ত জরুরি কিছু নিয়ম ও সতর্কতা

  • স্নানের সঠিক নিয়ম (পায়ের দিক থেকে জল ঢালা): স্নান করার সময় কখনোই প্রথমেই মাথায় জল ঢালবেন না। নিয়ম হলো প্রথমে পায়ে, তারপর হাঁটু, উরু, পেট, কাঁধ এবং সবশেষে মাথায় আলতো করে জল ঢালা। এতে শরীরের তাপমাত্রা রক্তনালীর সাথে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা: প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার, সবুজ শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত জল রাখুন যাতে বাথরুমে অতিরিক্ত চাপ দিতে না হয়।
  • বাথরুমের মেঝের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ: বাথরুমের টাইলস যেন পিচ্ছিল না হয় তা নিশ্চিত করুন। অ্যান্টি-স্লিপ ম্যাট ব্যবহার করা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের হাত ধরে দাঁড়ানোর জন্য ওয়ালে ‘গ্র্যাব বার’ (Grab Bar) লাগিয়ে নেওয়া উচিত।
  • ঘরের ভেতর থেকে দরজা লক না করা: ঘরে বয়স্ক বা হৃদরোগী থাকলে বাথরুমের দরজা ভেতের থেকে শক্ত করে লক না করে কেবল ভিজিয়ে রাখা ভালো, যাতে বিপদ ঘটলে দ্রুত ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়।
  • খুব ঠান্ডা জলে স্নান না করা: শীতকালে বা ভোরে স্নান করার সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা জলের বদলে হালকা কুসুম গরম জল ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON