...
...
Next Story

ওয়াইফাই রাউটার সারাক্ষণ অন রাখলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?

অনেকে আশঙ্কা করেন যে, রাউটার থেকে নির্গত অনবরত রেডিয়েশন বা তরঙ্গ মানবদেহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সার, মাথাব্যথা বা ঘুমের সমস্যার মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়।

Published on: Dec 04, 2025 10:38 AM IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

আজকের দিনে ওয়াইফাই রাউটার ছাড়া জীবন অচিন্তনীয়। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের জন্য আমরা প্রায়শই ২৪ ঘণ্টাই রাউটার চালিয়ে রাখি। কিন্তু অনেকে আশঙ্কা করেন যে, রাউটার থেকে নির্গত অনবরত রেডিয়েশন বা তরঙ্গ মানবদেহের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সার, মাথাব্যথা বা ঘুমের সমস্যার মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়।

ওয়াইফাই রাউটার সারাক্ষণ অন রাখলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?
ওয়াইফাই রাউটার সারাক্ষণ অন রাখলে কি ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?

ওয়াইফাই রাউটারের রেডিয়েশন এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

১. ওয়াইফাই রেডিয়েশনের প্রকৃতি

ওয়াইফাই রাউটারগুলি মূলত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি (RF) তরঙ্গ ব্যবহার করে কাজ করে, যা এক ধরনের নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন (Non-ionizing Radiation)।

  • শক্তি কম: নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের শক্তি অত্যন্ত কম। এটি এমন ধরনের রেডিয়েশন যা ডিএনএ-এর রাসায়নিক বন্ধন ভাঙতে পারে না এবং কোষের ক্ষতি করতে পারে না। এটি মাইক্রোওয়েভ বা FM রেডিওর মতো একই ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার করে।
  • আয়োনাইজিং রেডিয়েশন থেকে পার্থক্য: উচ্চ-শক্তির আয়োনাইজিং রেডিয়েশন (যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মি) শরীরের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াইফাই-এর রেডিয়েশন সেই শ্রেণীর নয়।

২. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতামত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC) ওয়াইফাই রেডিয়েশন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়েছে।

  • শ্রেণীবিন্যাস: আইএআরসি রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্ষেত্রগুলিকে গ্রুপ ২বি (Group 2B)-এর অধীনে শ্রেণীবদ্ধ করেছে—যার অর্থ এটি সম্ভাব্যভাবে মানুষের জন্য কার্সিনোজেনিক হতে পারে। তবে, এই একই শ্রেণীতে আচার বা অ্যাচার (Pickled Vegetables) এবং অ্যালো ভেরা (Aloe Vera) নির্যাসকেও রাখা হয়েছে।
  • বর্তমান ঐকমত্য: বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলির বর্তমান বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য হলো, সাধারণ আবাসিক পরিবেশে এবং নির্দিষ্ট পাওয়ার লেভেলে ওয়াইফাই রাউটার থেকে নির্গত রেডিয়েশনের মাত্রা এত কম যে তা সুপ্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রেডিয়েশনের তীব্রতা দ্রুত দূরত্ব অনুযায়ী কমে যায়।

৩. সাধারণ স্বাস্থ্য উদ্বেগ: কেন মনে হয় ক্ষতি হচ্ছে?

যদিও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কম, তবুও এক্সপোজার বা সংস্পর্শের মাত্রা কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস অবলম্বন করা যেতে পারে:

  • দূরত্ব বজায় রাখুন: রাউটারটিকে শোবার ঘর থেকে দূরে রাখুন এবং বসার সময় বা কাজ করার সময় শরীর থেকে কিছুটা দূরত্বে রাখুন।
  • রাতে বন্ধ রাখা: যদি রাতের বেলা ইন্টারনেটের প্রয়োজন না হয়, তবে রাউটারটি বন্ধ করে রাখুন। এটি কেবল রেডিয়েশন কমায় না, বরং ভালো ঘুমের জন্যও সহায়ক হতে পারে।
  • তারযুক্ত সংযোগ (Wired Connection): সম্ভব হলে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের জন্য ইথারনেট (Ethernet) তার ব্যবহার করুন।

ওয়াইফাই রাউটার থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হয়, তা অত্যন্ত কম-শক্তির। বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত নয় যে, ২৪ ঘণ্টা রাউটার চালিয়ে রাখলে তা সরাসরি ক্যান্সার বা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়। তবে সতর্কতার জন্য রাতে বন্ধ রাখা বা দূরত্ব বজায় রাখা যেতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON