সুগার বা ডায়াবিটিসের সমস্যা মানব শরীরে একাধিক রোগ ডেকে আনতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম মিলনক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যা। রক্তের অতিরিক্ত সুগার বেশ কিছু রোগের জন্ম দেয় দেহের ভিতর। সুগার বেশি থাকার কারণে কাজ করার পর্যাপ্ত এনার্জি পাওয়া যায় না, ঘন ঘন ঝিমুনি, ক্লান্তি ঘিরে ধরে। আর এই সবটাই প্রভাব ফেলে যৌনজীবনের উপর। সম্প্রতি বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে যৌনজীবনে ডায়াবিটিসের প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত জানালেন চিকিৎসক কল্যাণকুমার গঙ্গোপাধ্যায় (এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, সিএমআরআই হাসপাতাল, কলকাতা)।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের কারণ

চিকিৎসকের কথায়, ‘ডায়াবিটিসকে প্রায়শই একটি 'নীরব ঘাতক' বলা হয়, কারণ এটি নীরবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলির ক্ষতি করে – যেমন হৃৎপিণ্ড এবং কিডনি থেকে শুরু করে চোখ, স্নায়ু এবং এমনকি যৌন স্বাস্থ্যও। মহিলাদের ক্ষেত্রে, এটি হৃদরোগ, হাড়ের দুর্বলতা এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাগুলির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে রক্তনালী ও স্নায়ুর ক্ষতি ঘটায়। পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্যের অভাবের কারণে এটি ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ঘটাতে পারে।’
ডায়াবিটিস নিয়ে যেসব ভুল ধারণা বর্তমান
সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলির মধ্যে একটি হল, ডায়াবিটিস শুধুমাত্র রক্তে শর্করার মাত্রা প্রভাবিত করে। সত্যিটা হলো, এটি প্রায় প্রতিটি অঙ্গকেই প্রভাবিত করে। আরেকটি সাধারণ ভুল ধারণা, প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াবিটিসের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়। বাস্তবে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গুরুতর জটিলতা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত কোনও লক্ষণ বুঝতে পারেন না।
সমস্যার সমাধান সম্ভব?
তবে সুখবর হলো, ডায়াবিটিস এবং এর জটিলতাগুলি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, ধূমপান এড়িয়ে চলা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা—এগুলিই নিজেদের রক্ষা করার সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এই নীরব রোগটিকে আপনার জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে বাধা দিতে পারে।
পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মতামতের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এটি সমস্যাটি সম্পর্কে সাধারণ ধারণার উপর আলোকপাত করা মাত্র। ব্যক্তিবিশেষে প্রতিটি সমস্যার চিকিৎসা এবং নিরাময়ের পদ্ধতি পৃথক। তাই যে কোনও সমস্যায় শুধুমাত্র এই প্রতিবেদনের কথায় ভরসা না রেখে, ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
{{/usCountry}}পাঠকদের প্রতি: প্রতিবেদনটি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে তাঁর মতামতের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। এটি সমস্যাটি সম্পর্কে সাধারণ ধারণার উপর আলোকপাত করা মাত্র। ব্যক্তিবিশেষে প্রতিটি সমস্যার চিকিৎসা এবং নিরাময়ের পদ্ধতি পৃথক। তাই যে কোনও সমস্যায় শুধুমাত্র এই প্রতিবেদনের কথায় ভরসা না রেখে, ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসকের বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
{{/usCountry}}