দুর্ঘটনা কখনও বলে আসে না। স্ট্রোকও যেন ঠিক তাই। সম্প্রতি অল্পবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে। যা একরকম সতর্কবার্তাও বটে। । স্ট্রোক প্রায়শই ব্রেন অ্যাটাক নামে পরিচিত। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে স্ট্রোক হয়, যার ফলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। আগে স্ট্রোক সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সী বয়স্কদের মধ্যে দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২৭ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা বেড়েছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় এর কারণ ও লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করলেন চিকিৎসক নিরূপ দত্ত (কনসালটেন্ট, নিউরোসার্জারি, মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া)
পরিসংখ্যানে অল্পবয়সীরা কোথায়?

চিকিৎসকের কথায়, বিভিন্ন গবেষণা অনুসারে ভারতে স্ট্রোকের রোগীদের প্রায় ১০-৩০ শতাংশ হলেন তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক। ২৫ শতাংশ স্ট্রোক ৪০ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে ঘটে। ভারতে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের বার্ষিক হার প্রতি ১০০,০০০ জনে ৪৬ জন, যা পশ্চিমী দেশগুলোর তুলনায় বেশি।
স্ট্রোকের মূল কারণ
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ধরনধারন - তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের সঙ্গে যুক্ত প্রধান কয়েকটি ঝুঁকির কারণ হলো অলস জীবনযাত্রা, ভুল খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং স্থূলতা। এই কারণগুলো পরোক্ষভাবে উচ্চ রক্তচাপের জন্ম দেয়, যা আবার স্ট্রোকের কারণ হয়। উচ্চ রক্তচাপ হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, রক্তনালীগুলোর ক্ষতি করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আজকের বিশ্বে, সমাজের সবাই কাজের চাপের সম্মুখীন। সময় এবং কাজের পরে শরীরে ক্লান্তির অভাবে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী জাঙ্ক ফুড খেতে পছন্দ করে, কারণ তা অনলাইন এবং অফলাইন উভয় বাজারেই সহজে পাওয়া যায়।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন - এছাড়াও দেখা যায় যে তরুণ প্রজন্ম ধূমপানে বেশি আসক্ত। পাশাপাশি যে কোনও রূপে নিকোটিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তকে আরও ঘন করে তোলে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে এবং অল্পবয়সীদের মধ্যে স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এছাড়াও ধূমপান রক্তচাপ বাড়ায়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকির সাথে যুক্ত আরেকটি কারণ। তদুপরি, ধূমপান ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা বাড়ায় এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
{{/usCountry}}ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সেবন - এছাড়াও দেখা যায় যে তরুণ প্রজন্ম ধূমপানে বেশি আসক্ত। পাশাপাশি যে কোনও রূপে নিকোটিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান রক্তকে আরও ঘন করে তোলে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে পারে এবং অল্পবয়সীদের মধ্যে স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এছাড়াও ধূমপান রক্তচাপ বাড়ায়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকির সাথে যুক্ত আরেকটি কারণ। তদুপরি, ধূমপান ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল (LDL) এর মাত্রা বাড়ায় এবং উপকারী কোলেস্টেরল (HDL) কমিয়ে দেয়, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
{{/usCountry}}অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম - এর কারণে দীর্ঘস্থায়ী চাপ এবং ঘুমের অভাব আধুনিক জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এগুলি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে যা হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। কিছু ক্ষেত্রে, জন্মগত হৃদরোগ বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যাও অল্পবয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হতে হবে
স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব সময়মতো চিকিৎসায় দেরি ঘটাতে পারে। মুখের এক দিক ঝুলে যাওয়া,হাতের দুর্বলতা, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া স্ট্রোকের বড়সড় লক্ষণ। এছাড়়াও, অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে বমি, খিঁচুনি, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি এবং মাথাব্যথা রয়েছে। মনে রাখতে হবে, স্ট্রোক একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, এবং "গোল্ডেন আওয়ার" (সাড়ে চার ঘণ্টা) এর মধ্যে সময়মতো হস্তক্ষেপ একটি জীবন বাঁচাতে পারে।
অল্পবয়সীদের মৃত্যুহার কেন বেশি?
অল্পবয়সী কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, বয়স্ক রোগীদের স্ট্রোকের তুলনায় সেরে ওঠার প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়। তাই স্ট্রোকের দ্রুত চিকিৎসা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, এটি গুরুতর ঘটনা ঘটে যেতে পারে। প্যারালাইসিস, স্থায়ী অক্ষমতা, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, মস্তিষ্কের ফোলা এবং নিউমোনিয়ার মতো ফুসফুসের সংক্রমণ হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসার করাতে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
স্ট্রোক প্রতিরোধ করবেন কীভাবে
১. একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস এবং প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শরীরচর্চা (যেমন হাঁটা, সাইকেল চালানো, জিমে ব্যায়াম, যোগা বা সাঁতার) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সেরা উপায় হতে পারে।
২. ধূমপান, মদ্যপান ও মাদকদ্রব্য সেবন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা
৩. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ (যোগা, মেডিটেশনের মাধ্যমে)
৪. বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করাতে হবে।