...
...
Next Story

সৃজনশীল ধ্বংসমন্ত্র! স্থায়ী উন্নয়নে নয়া দিশা দেখিয়ে নোবেল ৩ অর্থনীতিবিদের

আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে সেভেরিজেস রিক্সব্যাঙ্ক পুরস্কার নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটির মূল্য ১ কোটি ১০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা (১.২ মিলিয়ন ডলার)।

Published on: Oct 13, 2025, 17:28:06 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

স্থায়ী উন্নয়নে নয়া দিশা দেখিয়ে তথা সৃজনশীল ধ্বংসমন্ত্রের পন্থা বাতলে যৌথভাবে ২০২৫ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন-ইজরায়েলি জোয়েল মকির, ফ্রান্সের ফিলিপ অঘিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পিটার হাওইট। সোমবারই রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স জানিয়েছে, এবারের অর্থনীতিতে নোবেল পাচ্ছেন তিন অর্থনীতিবিদ।

স্থায়ী উন্নয়নে নয়া দিশা দেখিয়ে নোবেল ৩ অর্থনীতিবিদের (সৌজন্যে টুইটার)
স্থায়ী উন্নয়নে নয়া দিশা দেখিয়ে নোবেল ৩ অর্থনীতিবিদের (সৌজন্যে টুইটার)

আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে সেভেরিজেস রিক্সব্যাঙ্ক পুরস্কার নামে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটির মূল্য ১ কোটি ১০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা (১.২ মিলিয়ন ডলার)।প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে স্থায়ী উন্নয়নের শর্তগুলি চিহ্নিত করার জন্য পুরস্কার মূল্যের অর্ধেক পাবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জোয়েল মকির। সৃজনশীল ধ্বংসমন্ত্রে অর্থনীতিতে নয়া দিশা দেখানোয় পুরস্কার মূল্যের বাকি অংশ পাবেন লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স ও ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফিলিপ অঘিয়ন এবং পিটার হাওইট। বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, 'নোবেল বিজয়ীরা আমাদের শিখিয়েছেন যে সাসটেন্ড গ্রোথকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় বৃদ্ধি নয়, অর্থনৈতিক স্থবিরতাই দেখেছে মানুষ। তাদের কাজ আমাদের বুঝিয়েছে অর্তনৈতিক বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে আমাদের কোন কোন বাধার সম্মুখীন হতে হবে, এবং তা কী করে পেরতে হবে।' মকির দেখিয়েছেন, কীভাবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও উদ্ভাবন একসময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নিয়মিত বিষয়ে পরিণত করেছে। অন্যদিকে আগিয়োঁ ও হাউইট সেই বৃদ্ধির অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন। ১৯৯২ সালের এক প্রবন্ধে তাঁরা গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, যখন নতুন ও উন্নত কোন পণ্য বাজারে আসে, তখন পুরনো পণ্য বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানগুলি ধীরে ধীরে টিকে থাকতে পারে না। এই প্রক্রিয়াই অর্থনীতিতে ‘সৃজনশীল ধ্বংস’ নামে পরিচিত। অর্থাৎ পুরনো ব্যবস্থার ভেতর থেকেই নতুন উদ্ভাবন হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে, গত দুই শতকের ইতিহাসে তা প্রথম দেখা গেছে। এর ধারাবাহিকতায় কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছে। সেই মানুষেরাই আজকের সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলেছে। চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল জয়ীরা দেখিয়েছেন, উদ্ভাবনই ভবিষ্যৎ অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। তাঁদের গবেষণা মনে করিয়ে দেয়—অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বয়ংক্রিয় বা নিশ্চিত প্রক্রিয়া নয়। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের কথায়, 'অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে গেলে আমাদের সৃজনশীল ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে চালু রাখতে হবে। নইলে আমরা আবার স্থবিরতায় ফিরে যাব।'

আরও পড়ুন-মুক্তির স্বাদ! বন্দি বিনিময়ে ইজরায়েলে উল্লাস, রেড কার্পেটে ট্রাম্পকে বিশেষ 'ধন্যবাদ'

অর্থনীতির এই পুরস্কার মূল নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত নয়। ১৯৬৯ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নোবেল পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে এই পুরস্কার চালু করে। তখন থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৫৭ জন এই পুরস্কার পেয়েছেন। আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে অর্থনীতিতে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পুরস্কার-এটাই এই পুরস্কারের পোশাকি নাম। সবচেয়ে বেশি বয়সে এই পুরস্কার পেয়েছেন লিওনিড হারউইচ। ২০০৭ সালে এই পুরস্কার পাওয়ার সময় তাঁর বয়স ছিল ৯০ বছর। তিনি আরও দুজনের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন। সবচেয়ে কম বয়সে (৪৬) এই পুরস্কার পেয়েছেন এস্থার দুফলো। ২০১৯ সালে স্বামী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান তিনি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe