ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই ভারতের মাটি থেকে বিদেশের বিমানে উঠে পড়লেন তিন যাত্রী। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক ডেকেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্বরাষ্ট্র ও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা, বিমানবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ৪ সেপ্টেম্বর। তিন ইতালীয় নাগরিক অমৃতসর থেকে দিল্লিতে আসেন। তাঁদের দিল্লি থেকে লুফথানসার বিমানে মিউনিখ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে বিদেশযাত্রার আগে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই তাঁরা আন্তর্জাতিক বিমানে উঠে পড়েন।
ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এয়ার ইন্ডিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর এই নোটিস দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বিমান সংস্থার ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় কর্তব্য ভবনে বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। সেখানে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সচিব ও অতিরিক্ত সচিব, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর অধিকর্তা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক, ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের কমিশনার, এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রধান এবং দিল্লি বিমানবন্দরের সিইও-সহ একাধিক শীর্ষকর্তা থাকবেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তিন যাত্রী অমৃতসর থেকে দিল্লি আসার সময় অমৃতসর বিমানবন্দরেই তাঁদের হাতে দুটি বোর্ডিং পাস তুলে দেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল অমৃতসর-দিল্লি বিমানযাত্রার জন্য, অন্যটি দিল্লি থেকে মিউনিখগামী লুফথানসার বিমানের জন্য।
নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের আন্তর্জাতিক বিমানে ওঠার আগে ইমিগ্রেশন সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু কোনও কারণে তাঁদের আন্তর্জাতিক-টু-আন্তর্জাতিক বা ‘I-to-I’ ট্রান্সফার রুটে পাঠানো হয়। এর ফলেই ইমিগ্রেশন না করেই তাঁরা আন্তর্জাতিক বিমানে পৌঁছে যান এবং শেষ পর্যন্ত মিউনিখগামী বিমানে উঠতে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
{{/usCountry}}নিয়ম অনুযায়ী, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের আন্তর্জাতিক বিমানে ওঠার আগে ইমিগ্রেশন সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু কোনও কারণে তাঁদের আন্তর্জাতিক-টু-আন্তর্জাতিক বা ‘I-to-I’ ট্রান্সফার রুটে পাঠানো হয়। এর ফলেই ইমিগ্রেশন না করেই তাঁরা আন্তর্জাতিক বিমানে পৌঁছে যান এবং শেষ পর্যন্ত মিউনিখগামী বিমানে উঠতে সক্ষম হন বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
{{/usCountry}}এই ঘটনার সঙ্গে বিমানবন্দরের ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ ব্যবস্থার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও যাত্রী ছোট বা ‘স্পোক’ বিমানবন্দর থেকে একটি নির্দিষ্ট ‘হাব’ বিমানবন্দরে এসে আন্তর্জাতিক বিমানে উঠলে, সাধারণত প্রথম বিমানবন্দরেই ইমিগ্রেশন সম্পূর্ণ করে নেওয়া হয়। হাবে পৌঁছনোর পর মূলত নিরাপত্তা পরীক্ষার পর আন্তর্জাতিক বিমানে ওঠার ব্যবস্থা থাকে।
অমৃতসর এমনই একটি বিমানবন্দর, যেখানে এই হাব অ্যান্ড স্পোক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় অমৃতসর থেকে দিল্লি এবং দিল্লি থেকে মিউনিখ—এই দুই পরিষেবা ওই নির্দিষ্ট ব্যবস্থার আওতায় ছিল না। তাই দিল্লিতে পৌঁছেই ওই তিন যাত্রীর ইমিগ্রেশন করার কথা ছিল।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নিয়মের প্রয়োগ বা যাত্রীদের সঠিক পথে পাঠানোর ক্ষেত্রে কোথাও একটি বড় ধরনের সমন্বয়ের সমস্যা হয়েছিল। তবে ঠিক কোথায় গাফিলতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনায় শুধু নিরাপত্তা নয়, বিমানবন্দরের যাত্রী ব্যবস্থাপনা এবং ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের জরুরি বৈঠকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটাই এখন দেখার। এদিকে এয়ার ইন্ডিয়া এখনও কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দেয়নি বলে জানা গিয়েছে।