Airlines Shut down: কম খরচে বিমান যাত্রার (বাজেট ট্রাভেল) সুযোগ দিয়ে আকাশপথে বিপ্লব ঘটিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'স্পিরিট এয়ারলাইন্স।' তবে দীর্ঘদিন সাশ্রয়ী পরিষেবা দেওয়ার পর এবার আর ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে পারল না এই সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে থাকা সংস্থাটি দাঁড়িয়েছে দেউলিয়া হওয়ার প্রান্তে। এবার তারা সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করল। ইরান যুদ্ধের কারণে জেট ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দাম আকাশ ছোঁয়া হওয়ার আগে থেকে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম এই বিমান সংস্থাটি। জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়া তাদের আরও সংকটে ফেলে দিয়েছিল। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি ‘বেলআউট’ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাবও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। ফলে ব্যবসার ইতি টানা ছাড়া তাদের কোনও উপায় ছিল না।
শনিবার ভোরে এক বিবৃতিতে স্পিরিট এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, সম্প্রতি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অন্যান্য চাপ তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ‘উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছে।’ ওই বিবৃতিতে স্পিরিট বলেছে, ‘৩৪ বছর ধরে আমাদের আল্ট্রা লো-কস্ট মডেল (অত্যন্ত সাশ্রয়ী পরিষেবা) এই শিল্পে যে প্রভাব ফেলেছে, তার জন্য আমরা গর্বিত। আমরা আরও অনেক বছর যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার আশা করেছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, ২০২৬ সালের ২ মে থেকে স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।’ এই সিদ্ধান্তের ফলে কাজ হারাবেন অন্তত ১৭ হাজার কর্মী। এর মধ্যে স্পিরিটের নিজস্ব কর্মী ১৪ হাজার। এছাড়াও রয়েছেন কয়েক হাজার ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী। এছাড়াও স্পিরিটের হঠাৎ বন্ধ ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ যাত্রী।
মার্কিন এই বিমান সংস্থাটি গত বছর আগস্ট থেকেই দেউলিয়া প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। গত দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্পিরিট এয়ারলাইন্স দুইবার দেউলিয়া হওয়ার (চ্যাপ্টার ১১ ব্যাংক্রাপসি) আবেদন করেছিল। আর্থিক সংকট কাটাতে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনও সমাধান বের হয়নি। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য সরকারি সহায়তাও কার্যকর হয়নি। ঋণদাতা ও প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা ভেস্তে যাওয়াতেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সংস্থা। পাশাপাশি, দুই মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সংস্থাটিকে টিকে থাকার সক্ষমতা হারিয়েছে।
ইরান যুদ্ধে বড় ক্ষতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে বিমানের জ্বালানির (জেট ফুয়েল) মূল্যবৃদ্ধি স্পিরিটের আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে কম দামের 'বেয়ার-ফেয়ার' মডেলের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় আয় ও খরচের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই মাস পরও এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বেড়েছে। এর আগে স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ২.২৪ ডলার ধরেছিল। কিন্তু, ইরান-মার্কিন সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তা প্রতি গ্যালন ৪.৩০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি সংস্থার দেউলিয়াত্ব থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমান সংস্থাটি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
আলোচনা ভেস্তে গেল
{{/usCountry}}বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে বিমানের জ্বালানির (জেট ফুয়েল) মূল্যবৃদ্ধি স্পিরিটের আর্থিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে কম দামের 'বেয়ার-ফেয়ার' মডেলের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় আয় ও খরচের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের দুই মাস পরও এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বেড়েছে। এর আগে স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের পুনর্গঠন পরিকল্পনায় ২০২৬ সালে জেট ফুয়েলের দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ২.২৪ ডলার ধরেছিল। কিন্তু, ইরান-মার্কিন সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তা প্রতি গ্যালন ৪.৩০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি সংস্থার দেউলিয়াত্ব থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমান সংস্থাটি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
আলোচনা ভেস্তে গেল
{{/usCountry}}বিমান সংস্থাটি টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি উদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল, যা স্বল্প বাজেটের এই বিমান সংস্থায় সরকারের একটি বড় মালিকানার অংশ এনে দিত। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং কংগ্রেসের অনেক রিপাবলিকান সদস্যের বিরোধিতার কারণে পাওনাদারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হয় এই পরিকল্পনা। এদিকে, স্পিরিট সব ফ্লাইট বাতিল করে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রও বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকী যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। টিকিট কেনা যাত্রীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে এবং তাঁদের অন্য এয়ারলাইন্সে নতুন করে টিকিট বুক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বন্ধের প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন বিমান শিল্পের ওপরও। ডেট্রয়েট-সহ একাধিক বড় হাবে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট রুটগুলিতে অন্যান্য এয়ারলাইন্স পরিষেবা চালু করতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে বিমান ভাড়াও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, স্পিরিট এয়ারলাইন্স তাদের উজ্জ্বল হলুদ বিমানের জন্য এবং সস্তায় বিমান ভ্রমণের ধারণাকে জনপ্রিয় করার জন্য বিশেষ পরিচিত ছিল। তবে দীর্ঘদিনের আর্থিক সঙ্কট এবং বাজারের চাপে শেষ পর্যন্ত এই সংস্থাকেও বন্ধ হয়ে যেতে হল।